• মঙ্গলবার   ১১ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৭ ১৪২৭

  • || ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

দৈনিক গোপালগঞ্জ
১১০

অনেকের কাছে কষ্ট পেয়ে দূরে সরে এসেছি

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল ২০২০  

বৃহস্পতিবারের বিকেল। হঠাৎ ঢাকার আকাশ কালো হয়ে এল। শুরু হলো তুমুল ঝড়। সঙ্গে অঝোরে বৃষ্টির গান। যাঁরা ফেসবুকে ক্লোজ-আপওয়ান তারকা তাসমিনা অরিনের সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা বৃষ্টির সুরের সঙ্গে বাড়তি পেলেন এই শিল্পীর কণ্ঠে মিষ্টি কিছু গানও। ফেসবুক লাইভে এসে মনের অজান্তেই শিল্পীসত্তা বেরিয়ে এসেছিল তাঁর। আজকাল গান থেকে কিছুটা দূরে থাকলেও পরিবেশই হয়তো তাঁকে দিয়ে গেয়ে নিল কালজয়ী কিছু গান। কিন্তু গান থেকে দূরে কেন এই শিল্পী? এখন করছেনই বা কী? সেসব নিয়েই কথা হলো অরিনের সঙ্গে।

 অনেক দিন পর মনে হয় যেকোনো প্ল্যাটফর্মে গান গাইলেন। গান থেকে এত দূরে কেন?

গান থেকে কিছুটা দূরে থাকার কয়েকটি কারণ আছে। এর মধ্যে একটি হলো নিজের ব্যস্ততা। দুটি বাচ্চা আছে আমার। তাদেরসহ পরিবারে সময় দিই। একটি বেসরকারি ব্যাংকেও জব করছি। তা ছাড়া গুটিকয় মানুষের কারণে সংগীতজগতের প্রতি আগ্রহ কিছুটা হারিয়ে ফেলেছি।

 কী রকম?

গান করতে এসে আমি বোধ হয় সবার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারিনি। অনেকের পছন্দমতো হয়তো চলতে পারিনি, গান করতে পারিনি। তাই বেশির ভাগের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে না। শুধু আমার পছন্দের কিছু কাজ করছি।

কাদের পছন্দমতো কাজ করতে পারেননি, একটু বিস্তারিত বলা যাবে?

কারও নাম বলতে চাই না। তবে দেশের একটি বড় মিউজিক কোম্পানি আমার সঙ্গে একটু অভব্য আচরণ করেছে। ওই কোম্পানির কর্ণধার একবার কথা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, আমি যে রকম গান গাই, মিউজিক ভিডিও করি, এখন নাকি আর এ রকম চলে না। এখন নাকি আরেকটু খোলামেলা গান, মিউজিক ভিডিও দরকার। এমন কথায় আমি ভীষণ অপমানিত বোধ করেছি। আর আমি কিছুটা অভিমানীও। তাই অনেকের কাছে কষ্ট পেয়ে দূরে সরে এসেছি।

 আপনি তো ২০০৫ সালের প্রথম ‘ক্লোজ আপ-১ তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশে’–এর সেরা ২০-এ ছিলেন।

এরপর অনেকে হারিয়ে গেলেও আপনি শফিক তুহিনের সঙ্গে ‘এর বেশি ভালোবাসা যায় না’ শিরোনামের গান দিয়ে বেশ সাড়া ফেলেন।

হ্যাঁ। পরে শফিক ভাইয়ের সঙ্গে আরও কাজ করেছি। পরে ইলিয়াস হোসেনের সঙ্গে ‘না বলা কথা’ অ্যালবামও হিট হয়। এই সিরিজের কয়েকটা অ্যালবামের গান টানা হিট করেছে। এরপরও শুনতে হয়, এই রকম গান নাকি চলে না।

 আপনাদের প্রথম ক্লোজ-আপের অনেক তারকাকেই এখন গানের জগতে তেমন আর পাওয়া যাচ্ছে না...

আসলে এখন গানের মাধ্যমই চেঞ্জ হয়ে গেছে। অ্যালবাম আর তেমন হয়ই না। তাই অনেকে স্টেজ শো, টেলিভিশন লাইভ, বিভিন্ন স্ট্রিমিং সাইট এসবে ব্যস্ত আছেন। অনেকে হয়তো পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে দূরে সরে যাচ্ছেন।

 আপনাকে তো স্টেজ বা টেলিভিশন কোথাও তেমন পাওয়া যায় না, আপনার ব্যস্ততা কী নিয়ে?

ওই যে বললাম, পরিবার আর ক্যারিয়ার নিয়ে। আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছি। এখন একটি বেসরকারি ব্যাংকে জব করছি। তাই ওইভাবে শো করা কোথাও হয় না।

 গান থেকে এই দূরে গিয়ে কেমন আছেন?

আসলে গান থেকে পুরোপুরি দূরে তো যাইনি। যাওয়া সম্ভবও নয়। আমি ছোটবেলা থেকে গান শিখে বড় হয়েছি। গান আমাদের পরিবারে মিশে আছে। আমার বাবা-মা দুজনই গান করতেন। তাই এখান থেকে চাইলেও দূরে যেতে পারব না। এই দেখলেন না, হঠাৎ বৃষ্টি এসেই আমাকে দিয়ে কেমন গাইয়ে নিল। আসলে পরিবেশ ঠিক থাকলে ভেতর থেকে এমনিই গান আসে। আমাদের গানের জগতের পরিবেশটা আর একটু ভালো হলে হয়তো এতটুকু দূরেও যেতে হতো না।

 গানের চর্চা নিয়মিত আছে?

চর্চা তো থাকতেই হবে। আসলে শিল্প অনাদর, অবহেলা সইতে পারে না। তবে মাঝে চাকরি করতে গিয়ে চর্চা কিছুটা কমে গিয়েছিল। তবু কষ্ট করে সময় বের করে চর্চাটা চালিয়ে নিতাম। এখন করোনার সময় সপ্তাহে দুদিন অফিস। একটু অবসর বেশি পাওয়ায় আবার সকাল করে চর্চা করছি।

 সম্প্রতি কী গান করলেন?

সবশেষ আমার ‘না বলা কথা-৪’ অ্যালবাম রিলিজ হয়েছে ২০১৮ সালে। কাজটা করেছিলাম আরও আগে। এরপর একই সিরিজের ৫ নম্বর অ্যালবামের কাজ করেছি। আর করোনার ছুটি শুরু হওয়ার আগে ইলিয়াসের সঙ্গেই এক পলকে-২ অ্যালবামের গান করেছি। দুটোরই রেকর্ডিং শেষ। শুধু ভিডিও বানানোর অপেক্ষা।

 এখন কী পরিকল্পনা করছেন?

আমি গানের মানুষ। গান আমার মনের খোরাক। এটাকে ছেড়ে যেতে চাই না। নিজের গান নিয়েই কিছু পরিকল্পনা মাথায় আছে। দেখা যাক পৃথিবী কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।

 আপনার শ্রোতা-পাঠকদের উদ্দেশে কিছু বলবেন?

শুধু বলব, সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। বাসায় থাকুন। পছন্দের কাজগুলো করুন। মুভি দেখুন। গান শুনুন। আমাদের বাংলা গান অনেক সমৃদ্ধ। ভালো গান শুনুন, ভালো থাকুন।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ
সাক্ষাৎকার বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর