• বৃহস্পতিবার   ০৪ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২১ ১৪২৭

  • || ১২ শাওয়াল ১৪৪১

দৈনিক গোপালগঞ্জ
৬৬০

আকাশে উল্কা বৃষ্টির খেলা দেখা যাবে আজ রাতে

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২০  

ফের এক মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ব। বুধবার (২২ এপ্রিল) বাংলার আকাশে দেখা যাবে উল্কা বৃষ্টি। ২২ এপ্রিল রাত থেকে ২৩ এপ্রিল ভোর পর্যন্ত চলবে এ বৃষ্টি। নানা জ্যোতির্বিজ্ঞান সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তারা বলেছেন, রাতের কালো আকাশে মহাজাগতিক আলোর উল্কা বৃষ্টির খেলা দেখা যাবে বুধবার এবং বৃহস্পতিবার। প্রতি ঘণ্টায় ২০ অথবা তারও বেশি সংখ্যক আলোর বিন্দু জ্বলে উঠতে দেখা যাবে আকাশে। প্রতি বছরই এ সময়ে উল্কা বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়। মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মতে, এ সময়েই মহাকাশের ওই আবর্জনা স্তূপের পাশ দিয়েই ঘোরে পৃথিবী। আকাশ পরিষ্কার থাকলে এবারের উল্কা বৃষ্টি দেখা যাবে বাংলাদেশ থেকেও। আজ রাত সাড়ে আটটা থেকেই শুরু হয়ে যাবে উল্কাপাত। তবে রাত যত বাড়বে উল্কা দর্শন আরও পরিষ্কার হবে। বুধবার মধ্যরাত্রেই উল্কা বৃষ্টি সবচেয়ে বেশি দেখতে পারবেন মানুষ।

উল্কা বৃষ্টি হচ্ছে এক ধরনের আকাশ সম্বন্ধীয় ঘটনা যার ফলে মহাকাশ থেকে অনেক উল্কা এসে পৃথিবীর মাটিতে আছড়ে পড়ে অথবা তা মাটিতে পতিত হওয়ার আগেই মিলিয়ে যায়। উল্কা বৃষ্টি প্রধানত রাতের আকাশে দেখা যায়।উল্কা বৃষ্টি হয় কারণ মহাকাশে যখন কোনো ধুমকেতুর বিস্ফোরণ হয় তখন তার ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের প্রভাবে পৃথিবীর পৃষ্ঠে আসতে থাকে।আর এর ফলে পৃথিবী থেকে তা উল্কা বৃষ্টি হিসেবে দেখা যায়। অপ্রয়োজনীয় উল্কা বৃষ্টি উল্কা ঝড় নামেও পরিচিত,যা ঘণ্টায় এক হাজারেরো বেশি উল্কা পৃথিবীতে এসে পড়ে। বেশির ভাগ উল্কা বৃষ্টিই শস্য দানার চেয়েও ছোটো। তাই বেশির ভাগ সময় উল্কা বৃষ্টির উল্কা পৃথিবী পৃষ্ঠে এসে পড়েনা, পড়ার আগেই তা মিলিয়ে যায়।

যেহেতু উল্কা বৃষ্টি কনাগুলো সমান্তরালভাবে পতিত হয়, এবং তাদের পতন হয় একটি বিন্দুকে কেন্দ্র করে। পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হবে যেন উল্কাগুলো একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে ছড়িয়ে চারিদিকে সমান্তরালভাবে পরছে। অর্থাৎ অনেকটা শেকলের মতো আর উল্কাগুলোর গতিবেগ প্রায় একই থাকে। অর্থাৎ সবাই একই গতি,ত্বরণ নিয়ে পৃথিবীতে পড়তে থাকে। তাদের ছড়িয়ে পড়ার মাঝে এক উজ্জ্বল কেন্দ্র দেখা যায়। এই উজ্জ্বল কেন্দ্রের সৃষ্টি হয়েছে একটি পরিপ্রেক্ষিতের প্রভাবের কারণে।
সাধারণত মহাকাশে বিভিন্ন ধুমকেতুর ধ্বংসাবশেষ থেকে উল্কা বৃষ্টির সৃষ্টি হয়।

পৃথিবীর কাছাকাছি কোনো ধুমকেতুর ধ্বংসাবশেষ থাকলে তা অভিকর্ষজ বলের প্রভাবে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে। আর এরা এতো বেগ নিয়ে আসে যে, তা উত্তপ্ত হয়ে পৃথিবী পৃষ্ঠে পতিত হওয়ার আগেই ছাই হয়ে মিলিয়ে যায়।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর