• শনিবার   ২৮ মার্চ ২০২০ ||

  • চৈত্র ১৪ ১৪২৬

  • || ০৩ শা'বান ১৪৪১

দৈনিক গোপালগঞ্জ
সর্বশেষ:
মিরপুর বাউনিয়াবাঁধ বস্তিতে আগুনে ৩ জনের মৃত্যু ২৭তম স্প্যানে পদ্মা সেতুর চার কিলোমিটারের বেশি দৃশ্যমান করোনায় নতুন করে কেউ আক্রান্ত হয়নি, সুস্থ আরও ৪ জন টাঙ্গাইলে সিমেন্টভর্তি ট্রাক উল্টে নিহত বেড়ে ৬
৬২৫৪

খুলনায় রাজাকার পুত্র ফরিদ রানা এখন দাপুটে আ’লীগ নেতা !

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০১৯  

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার গাওঘেরা গ্রামের ফরিদ রানা নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিলেও তিনি এলাকায় আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী দাপুটে নেতা হিসেবেই বেশী পরিচিত। তার বাবা মৃত আবু সরদার ছিলেন খুলনাঞ্চলের তালিকাভূক্ত কুখ্যাত রাজাকার। জীবিত অবস্থায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা তার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা হত্যা, লুটপাট, ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন। বাবার রাজাকারের পরিচয় আড়াল করে ফরিদ রানা খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির আস্থাভাজন হিসেবে দলে অনুপ্রবেশ করেছেন। বাগিয়ে নিয়েছেন সৈনিকলীগের খুলনা জেলা সভাপতির পদটি। সেই কল্যানে দখল করেছেন খুলনা প্রেসক্লাবের সদস্য পদটিও। পদ পদবী পাওয়ার পর থেকেই এলাকায় একের পর এক সরকারী ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি জোর করে দখল করে চলেছেন। অভাবের তাড়নায় খুলনা শহরের এক সময়ের রিকশাচালক ফরিদ রানা এখন একজন কোটিপতি। রাজাকারের পুত্র হয়েও আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের প্রভাবশালী নেতা বনে গেছেন জেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার অনুকম্পায়। শুধু তাই নয় সংবাদপত্র পেশায় কখনো না থাকলেও কথিত সাংবাদিক হিসেবে তার দাপটে অস্থির এলাকাবাসী। খুলনা প্রেস ক্লাব ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) নাম ভাঙিয়ে একের পর এক দখল করে চলছে সরকারী জমি। জন সাধারণের প্রশ্ন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দলে শুদ্ধি অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন সেই মূহুর্তে কুখ্যাত এই রাজাকার পুত্র ফরিদ রানা কি করে আওয়ামী লীগের নেতা হয় ? কি করে কথিত সাংবাদিক ফরিদ রানা খুলনা প্রেস ক্লাব ও মুক্তিযুদ্ধের অনুসারী সাংবাদিক সংগঠন বিএফইউজের সদস্য হয় এই প্রশ্ন তুলে এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত অভিযোগ করেছেন বটিয়াঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বি, এম মাসুদ রানা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ক্যাপ্টেন (অবঃ) শেখ আফজাল হোসেন।

ফরিদ রানার বিরুদ্ধে বটিয়াঘাটা এলাকায় দখলবাজি, চাঁদাবাজি, জেলা পরিষদের বরাদ্দ নিয়ে কমিশন খাওয়া, সরকারি সার ও চালের ডিলারশীপ নিয়ে জোচ্চুরিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় মানুষ নব্য এ আলীগারের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন। তার দখলদারিত্ব ও আধিপত্য বিস্তারের কারনে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও দলীয় নেতাকর্মীরা বিব্রত হয়ে একাধিক অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন মহলে। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির কারণে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এ পর্যন্ত।

দলের একাধিক নেতা ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফরিদ রানার বাবা দিনমজুর আবু সরদার মুক্তিযুদ্ধের আগে অন্যত্র থেকে এসে বটিয়াঘাটা উপজেলার গাওঘেরা গ্রামের একটি খাস জমিতে ভূমিহীন হিসেবে বসতি স্থাপন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন তিনি স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে আতাঁত করেন।  এলাকার স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার ইয়াকুব আলীকে হত্যা করেন। মুক্তিযুদ্ধের পরে আবু সরদারের বিরুদ্ধে হত্যা, লুটপাট ও ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে মামলা হয়। রাজাকারপুত্র ফরিদ রানা এক সময় অর্থের অভাবে খুলনা শহরে রিকশা চালাতো। শহরে রিকসা চালাতে চালাতে সুচতুর ফরিদ রানা এলাকায় ফিরে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করে। পাশপাশি ছাত্র রাজনীতিতেও নাম লেখায়। ২০০৮ সালে আলীগ ক্ষমতায় আসার পর তার ভাগ্যের পরিবর্তন হতে শুরু করে। জেলা আলীগের প্রভাবশালী একজন নেতার ছত্রছায়ায় থেকে এলাকায় দখলদারিত্ব ও বেপরোয়া চাঁদাবাজি শুরু করে সে। এক সময় কোটিপতি বনে যায়। বর্তমানে খুলনা প্রেস ক্লাবের নির্বাহী সদস্য, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য ও খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা হওয়া এবং প্রভাবশালী নেতার অনুকম্পা পাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনও তাকে সমীহ করতে শুরু করে। যে কারনে তার বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষ কথা বলতে ভয় পায়। সাংবাদিকতাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট হয়ে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন বটিয়াঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বিএম মাসুদ রানা। এছাড়া তার রাজাকার বাবার কবর স্থানান্তরের আবেদনও করা হয়েছে স্থানীয় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর।

২০১০ সালের ২৯ এপ্রিল মুক্তিযোদ্ধা হরিপদ গোলদার নামে এক ব্যাক্তি তার বাবা আবু সরদারসহ ১২ জন রাজাকারের বিরুদ্ধে হত্যা, লুন্ঠন ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলটি চলমান রয়েছে। ওই মামলায় ফরিদ রানার পিতা আবু সরদার ২ নম্বর আসামি। ফরিদ রানার বাবার নাম রাজাকার ও আলবদরের তালিকার শীর্ষে রয়েছে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বটিয়াঘাটা উপজেলা কমান্ডের করা রাজাকারের তালিকায় ১৮ নম্বরে রয়েছে আবু সরদারের নাম।

বটিয়াঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বিএম মাসুদ রানার লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তার বর্তমান আয়ের উৎস হচ্ছে, সরকারী জায়গা দখল, বরাদ্দের নামে জেলা পরিষদের অনুদানের অর্থ লোপাট,  প্রতিমাসে ইজিবাইক থেকে লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায়, সরকারী সার ও চালের ডিলারশীপ নিয়ে জোচ্চুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় বসত বাড়ি নির্মাণ, গাওঘরা-বটিয়াঘাটা সড়কের পাশে সারের গোডাউন নির্মাণ।

এর আগে নব্য এ আলীগার ফরিদ রানার নানা অপকর্মের চিত্র তুলে ধরে খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক অনির্বান পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সে সময় ছাত্রলীগ সংগঠন থেকে টেন্ডারবাজিসহ নানা অভিযোগে তাকে বহিষ্কারের সুপারিশ দলের হাই কমান্ডে পাঠানো হয়।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ সর্বস্তরের মানুষের একটাই দাবি, স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে কোনো রাজাকার পুত্রের ঠাঁই হবে না। অবিলম্বে তাকে দল থেকে বহিস্কার করতে হবে। এবিষয়ে তারা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ
আঞ্চলিক বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর