• বুধবার   ১২ মে ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২৯ ১৪২৮

  • || ৩০ রমজান ১৪৪২

দৈনিক গোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জে তরমুজের আবাদ কমেছে

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০২১  

গত বছর জেলায় যেখানে ছয়শ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে, সেখানে এবছর হয়েছে দুইশ হেক্টরে। তরমুজ চাষি ও কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এবছর রমজানে প্রচণ্ড গরমের কারণে ব্যাপক চাহিদা থাকায় এবং বাজারে সরবরাহ কম হওয়ায় উচ্চ মূল্যে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যাসায়ীদের জরিমানা করছে জেলার বিভিন্ন স্থানে।

গোপালগঞ্জ বড় বাজারের তরমুজ ক্রেতা আবুল হোসেন শেখ বলেন, রমজানের আগে প্রতি কেজি তরমুজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। রমজান শুরুর পর প্রতি কেজি তরমুজের দাম ওঠে ৫০ টাকায়। 

“গোপালগঞ্জের ‘তরমুজের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত কালিগঞ্জ বাজার থেকে পিচ হিসেবে তরমুজ কিনে কেজি দরে বিক্রি করে মধ্যসত্ত্বভোগীরা অধিক মুনাফা হাতিয়ে নিতে শুরু করে। এতে তরমুজ আমাদের মতো  সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যায়।”  

তবে বুধবার ও বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর ও জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তর যৌথ অভিযান চালিয়ে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি বন্ধ করে দেয়।

এখন বাজারে পিচ হিসেবে তরমুজ বিক্রি শুরু হয়েছে। এতে বাজারে তরমুজের দাম প্রতি পিচে একশ থেকে ১৫০ টাকা কমেছে।

কোটালীপাড়া উপজেলার কলাবাড়ি ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামের তাপস কান্তি বিশ্বাস বলেন, “গত বছর করোনার মধ্যে তরমুজে ভালো দাম পাইনি; তাই লস হয়েছে। এ বছর তরমুজের আবাদ কমিয়ে দিয়েছি। এ বছর হেক্টরে ২০ টনের স্থলে ১৫ টন  ফলন হয়েছে। কালিগঞ্জ আড়তে প্রতি পিচ বড় তরমুজ (১০/১২ কেজি) ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। এছাড়া ছোট তরমুজ (৫/৬ কেজি) ৮০ থেকে একশ টাকা দরে বিক্রি করেছি। প্রতি হেক্টরে ১৫ টন তরমুজ ফলেছে। এতেও আমাদের ভালো লাভ হয়েছে।”

কালিগঞ্জ বাজারের আড়তদার আসীম হালদার বলেন, “রমজানে প্রচুর গরম পড়েছে এবার। তাই হঠাৎ তরমুজের চাহিদা বেড়েছে। এ বছর আমাদের এলাকায় তরমুজের চাষ কম হয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় তরমুজের দাম বেড়েছে। আমরা প্রতিটি বড় তরমুজ ২৫০ টাকা দরে ও ছোট তরমুজ ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। এতে আমাদের ভালো মুনাফা হয়েছে।”

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) অরবিন্দু কুমার রায় বলেন, প্রতিবছর গোপালগঞ্জ জেলায় ছয়শ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়। এখানে প্রতি বছর অন্তত ১২ হাজার টন তরমুজ উৎপাদিত হয়। এ তরমুজ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয়।

“করোনার মধ্যে গত বছর কৃষক তরমুজের ভালো দাম পাননি। এ কারণে তাদের লস হয়েছে। তাই এ বছর কৃষক মাত্র দুইশ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ করেছে। প্রতি হেক্টরে ১৫ টন করে মোট উৎপাদিত হয়েছে তিন হাজার টন তরমুজ।

“এই জেলায় তরমুজ উৎপাদনে ঘাটতি রয়েছে। এই সুযোগটিকে মধ্যসত্ত্বভোগীরা কাজে লাগিয়ে লাভবান হচ্ছে।”

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আরিফ হোসেন বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তর যৌথ অভিযান চালিয়ে মূল্য তালিকা না থাকায় চার তরমুজ ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়। এ সময় ব্যবসায়ীরা পিচ হিসেবে তরমুজ কিনে কেজি দরে বিক্রি করার কথা স্বীকার করেন। তখন ম্যাজিস্ট্রেট তাদের পিচ হিসেবে তরমুজ বিক্রির নির্দেশ দেন।

“এরপর ক্রেতারা ১০ কেজি ওজনের একটি তরমুজ ৫০০ টাকার স্থলে পিচ হিসেবে ৩৫০ টাকায় ক্রয় করছেন।”

এভাবে বাজার মনিটরিং ও অভিযান চালিয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ