• বুধবার   ০৩ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২০ ১৪২৭

  • || ১১ শাওয়াল ১৪৪১

দৈনিক গোপালগঞ্জ
৪০

চবির ডিন নিবার্চনে প্রশাসনপন্থীদের ভরাডুবি!

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন নির্বাচনে প্রশাসনপন্থী হিসেবে পরিচিত সকল প্রার্থীরই ভরাডুবি হয়েছে। সকল অনুষদে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা বিজয়ী হলেও তাদের বেশিরভাগই ছিলেন বিদ্রোহী প্রার্থী। রবিবার বিকেলে এ ফলাফল ঘোষণা করেন ডিন নির্বাচনের প্রিজাইডিং অফিসার ডেপুটি মোহাম্মদ হাসান মিয়া।

বিশ্ববিদ্যালয় আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠনের কয়েকজন নীতিনির্ধারক শিক্ষক জানান, আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন হলুদ দলের স্টিয়ারিং কমিটির সভায় বর্তমান প্রশাসনপন্থী শিক্ষক প্রফেসর ড. বেণু কুমার দে’কে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রার্থী করা হয়। কিন্তু বিজ্ঞান অনুষদে ড. বেণু কুমার মাত্র ২৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। ৩৭ ভোট পেয়ে এই অনুষদের ডিন নির্বাচিত হন ড. নাসিম হাসান। ৩১ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন সদ্য বিদায়ী ডিন ড. সফিউল আলম।

ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদে হলুদ দল থেকে প্রার্থী করা হয় প্রফেসর ড. খাইরুল ইসলামকে। বর্তমান প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ এই শিক্ষক ১৬ ভোট পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী ড. রাশেদ মোস্তফার কাছে হেরে যান। ড. রাশেদ মোস্তফা ভোট পান ১৯টি।

 

ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ শিক্ষক প্রফেসর ড. আহমদ সালাহউদ্দিনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু ভোটের মাঠে নেমে এই অনুষদের শিক্ষকদের সাড়া না পাওয়ায় ড. আহমদ সালাহউদ্দিন প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন বলে জানান ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের কয়েকজন শিক্ষক।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে হলুদ দলের প্রার্থীতা পেয়ে কোনো প্রার্থী তার প্রার্থীতা প্রত্যাহারের নজির এটিই প্রথম। ড. আহমদ সালাহউদ্দিন প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সমর্থন দেয়া হয়। এই অনুষদে ৪৫ ভোট পেয়ে ডিন নির্বাচিত হন অপর বিদ্রোহী প্রার্থী এস এম সালামত উল্লাহ
ভূঁইয়া। বিপরীতে মাত্র ২৮ ভোট পেয়ে ড. মামুন দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।

এছাড়া আইন অনুষদে প্রশাসনপন্থী হিসেবে পরিচিত নির্মল কুমার সাহা ৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। এই অনুষদে নজিরবিহীনভাবে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন হলুদ দলের স্টিয়ারিং কমিটির অন্যতম সদস্য এবিএম আবু নোমান। তিনি ১৩ ভোট পেয়ে আইন অনুষদের ডিন নির্বাচিত হন।

এদিকে, জীববিজ্ঞান অনুষদে হলুদ দলের প্রার্থী ছিলেন ড. মোহাম্মদ কামরুল হোসাইন। কিন্তু প্রশাসনপন্থি শিক্ষকরা সমর্থন জানান ড. অলক পালকে। এই অনুষদে ড. মোহাম্মদ কামরুল হোসাইন ৮০ ভোট পেয়ে ডিন নির্বাচিত হন। বিপরীতে ২৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন ড. অলক পাল।

অন্যদিকে, কলা ও মানববিদ্যা অনুষদে হলুদ দলের প্রার্থী ড. মহীবুল আজিজ ১৭৩ ভোট পেয়ে ডিন নির্বাচিত হন। বিপরীতে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের প্রার্থী ড. আবু নছর মু. আবদুল মাবুদ ২৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।

এছাড়াও মেরিন সায়েন্স এন্ড ফিশারিজ অনুষদে ১২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন ড. রাশেদ উন নবী। তার নিকটতম প্রার্থী ড. মারুফ হোসেন অর্জন করেন ৭ ভোট।

সমাজবিজ্ঞান অনুষদে হলুদ দলের প্রার্থী প্রফেসর ড. মুস্তাফিজুর রহমান সিদ্দিকী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ