• শনিবার   ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ১৫ ১৪২৭

  • || ১৬ রজব ১৪৪২

দৈনিক গোপালগঞ্জ

জুনেই চালু পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) আগামী জুনেই চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে লক্ষ্যেই নির্মাণকাজ এগোচ্ছে বলে জানালেন প্রজেক্ট ম্যানেজার সুভাষ বড়ুয়া। ৩২ একর জায়গা নিয়ে নির্মাণাধীন পিসিটি চালু হলে বছরে ৪ লক্ষাধিক টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা যাবে। দেশে এই প্রথম মরিচাপ্রতিরোধী ও লবণাক্ততা-সহনীয় লোহা দিয়ে এই টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে, যা সাধারণ স্থায়িত্বকালকে দীর্ঘায়িত করবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের জুলাই মাসে কাজ শুরু করে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর নাগাদ নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলে প্রতিকূল পরিবেশ ও করোনা মহামারীর কারণে তা শেষ করা যায়নি। ফলে সময় বাড়িয়ে চলতি বছরের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পিসিটিতে চারটি জেটি দ্রুত নির্মাণ শেষ করে সংকট সামাল দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নির্মাণের দায়িত্ব দেয় সরকার। নির্মাণ শেষে চার জেটিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোগ করা হলে এই টার্মিনালে বছরে ৪ লাখ টিইইউস কনটেইনার ওঠানামা করা সম্ভব হবে। একসঙ্গে তিনটি কনটেইনারবাহী ও একটি তেলবাহী জাহাজ এই টার্মিনালে ভিড়তে পারবে। প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে টার্মিনালের ভিতর দিয়ে যাতে বিমানবন্দরমুখী গাড়িগুলো দ্রুত যাতায়াত করতে পারে সে জন্য ৪২০ মিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ ছাড়া ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে আরও দুটি লেনও রাখা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির প্রথম ধাপে কাজের গতিতে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিলেও এখন পুরোদমে চলছে। চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, পিসিটি চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি বড় প্রকল্প। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বন্দরের নিজস্ব তহবিলের ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। ২০১৯ সালেই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ করে মুজিববর্ষে টার্মিনাল অপারেশনে যাওয়ার কথা থাকলেও সময়ের হিসাব অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন হয়নি। চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (পরিকল্পনা ও প্রশাসন) জাফর আলম জানান, মুজিববর্ষে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের কাজ শেষ করে অপারেশনে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাংলাদেশে দেখা দিলে ক্রমশ সব ধরনের কাজে ব্যাঘাত ঘটে। এর প্রভাব এই টার্মিনালের নির্মাণকাজকেও বাধাগ্রস্ত করে। এ পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ ৭০-৭৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। জুন মাসের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে। ডিসেম্বর মাসে টার্মিনালটি অপারেশনে যেতে পারবে বলে প্রত্যাশা রয়েছে। বন্দরের অপর এক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নির্ধারিত সময়ে কাজ বুঝে না পাওয়ায় শুরু করতে পারেনি। ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এই প্রকল্পের জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। পরে ২০১৮ সালের ২০ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর কাছে প্রকল্পের কাজ হস্তান্তর করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ওই বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সেনাবাহিনী প্রকল্পের কাজ শুরু করে। এতে প্রকল্পের কাজ শুরু করতেই ছয় মাস অতিরিক্ত লেগে যায়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক জানান, বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পে রয়েছে ৩২ একর জায়গায় ৬০০ মিটার দীর্ঘ জেটি, যেখানে চারটি জাহাজ বার্থিং করতে পারবে। এ ছাড়া থাকবে ২২০ মিটার দীর্ঘ একটি ডলফিন জেটি, ১ লাখ ১২ হাজার বর্গমিটার অভ্যন্তরীণ ইয়ার্ড এবং রাস্তা। থাকবে ২ হাজার ১২৮ বর্গমিটার কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন শেড (সিএফএস), ৬ মিটার উচ্চতার ১৭৫০ মিটার কাস্টমস বন্ডেড ওয়াল, ৫৫৮০ বর্গমিটার পোর্ট অফিস বিল্ডিং, ১২০০ বর্গমিটার যান্ত্রিক ও মেরামত কারখানা, ২৫০০ মিটার রেলওয়ে ট্র্যাক, ৪২০ মিটার ফ্লাইওভার, চার লেনবিশিষ্ট শূন্য দশমিক ৭৫ কিমি এবং ছয় লেনবিশিষ্ট এক কিলোমিটার আগের রাস্তা স্থানান্তর করে পুনর্নির্মাণ, সিকউরিটি পোস্ট, গেস্টহাউস, ফুয়েল স্টেশন এবং লেবার শেড।

সূত্রমতে, চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে পণ্য/কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ বছরে প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে পিসিটি নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশ এবং সংস্থা পিসিটির অপারেটর (পরিচালনা) কাজের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। টার্মিনাল অপারেটর নিয়োগের লক্ষ্যে ফিজিবিলিটি স্টাডি করার জন্য পরামর্শক নিয়োগ করতে সময়সূচি ও অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়ন এবং পিপিপি কর্তৃপক্ষ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও চবকের সমন্বয়ে একটি প্রজেক্ট টিম গঠন করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ