• বুধবার   ১২ মে ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২৯ ১৪২৮

  • || ৩০ রমজান ১৪৪২

দৈনিক গোপালগঞ্জ

জুমার দিনের কিছু আমল

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২১  

আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমার দিন। সাপ্তাহিক ঈদের দিন। সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। এই দিন বিশেষ সময়ে দোয়া কবুল করা হয়। কোরআন হাদিসে এ দিনের অনেক মর্যাদা ও ফজিলত রয়েছে। মুসলমানদের কাছে শুক্রবার সপ্তাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। এর রয়েছে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য।চলুন তবে জেনে নেয়া যাক সে সম্পর্কে- 

>> হজরত আবু হোরায়রা(রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অযু করে, অতঃপর জুমার নামাজের জন্য আসে, খুব মনোযোগ দিয়া খুতবা শুনে এবং খুতবার সময় চুপ থাকে তার এই জুমা হইতে বিগত জুমা পর্যন্ত এবং অতিরিক্ত আরো তিন দিনের গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। যে ব্যক্তি পাথরের কঙ্করে হাত লাগাইয়াছে, অর্থাৎ খুতবার সময় উহা দ্বারা খেলিতে রহিয়াছে (অথবা হাত, চাটাই বা কাপড় ইত্যাদি লইয়া খেলা করিতে রহিয়াছে) সে অনর্থক কাজ করিয়াছে (এবং উহার কারণে জুমার খাছ সওয়াব নষ্ট করিয়া দিয়াছে)।(মুসলিম) 

>> হজরত আবু আইউব আনসারী (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) এই ইরশাদ করিতে শুনিয়াছি, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে, খুশবু থাকিলে উহা ব্যবহার করে, ভালো কাপড় পরিধান করে এবং তারপর মসজিদে যায়। অতঃপর মসজিদে আসিয়া সময় থাকে তো নফল নামাজ পড়িয়া লয় এবং কাহাকেও কষ্ট দেয় না, অর্থাৎ লোকদের ঘাড় টপকাইয়া যায় না। তারপর যখন ইমাম খুতবা দেয়ার জন্য আসেন তখন হইতে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত চুপ থাকে, অর্থ কোনো কথাবার্তা না বলে তবে এই আমলসমূহ এই জুমা হইতে বিগত জুমা পর্যন্ত গুনাহসমূহ মাফ হইয়া যাওয়ার কারণ হইয়া যায়।(মুসনাদে আহমাদ) 

>> হজরত সালমান ফারসী (রা.) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করিয়াছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে, যথাসম্ভব পাক পবিত্রতা হাসিল করে। নিজের তৈল লাগায় অথবা নিজ ঘর হইতে খুশবু ব্যবহার করে, অতঃপর মসজিদে যায়। মসজিদে পৌঁছিয়া এমন দুই ব্যক্তির মাঝখানে বসে না যাহারা পূর্ব হইতে একত্রে বসিয়া আছে, যে পরিমাণ তৌফিক হয় জুমার পূর্বে নামাজ পড়ে। অতঃপর যখন ইমাম খুতবা দেয় উহা মনোযোগ সহকারে চুপ করিয়া শ্রবণ করে তবে এই জুমা হইতে বিগত জুমা পর্যন্ত সকল গুনাহ মাফ করিয়া দেয়া হয়। (বুখারী)

>> হজরত আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) একবার জুমার দিন ইরশাদ করিলেন, মুসলমানগণ, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্য এই দিনকে ঈদের দিন বানাইয়াছেন। অতএব এই দিনে গোসল করিও, মেসওয়াকের এহতেমাম করিও। (তাবারানী, মাজমায়ে যাওয়ায়েদ) 

>> হজরত আবু উমামাহ (রা.) হইতে বর্ণিত আছে যে, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করিয়াছেন, জুমার দিনের গোসল চুলের গোড়া হইতে পর্যন্ত গুনাহগুলোকে বাহির করিয়া দেয়া হয়।(তাবারানী, মামায়ে যাওয়ায়েদ)

>> হজরত আবু হোরায়রা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করিয়াছেন, জুমার দিন ফেরেশতাগণ মসজিদের দরজায় দাঁড়াইয়া যান, প্রথম আগমনকারীর নাম প্রথমে তারপর আগমনকারীর নাম তারপরে লিখেন। (এইভাবে আমানকারীদের নাম তাহাদের আগমনের নিয়মে একের পর এক লিখিতে থাকেন।) যে ব্যক্তি জুমার জন্য সকাল গমন করে সে উট সদকা করার সওয়াব লাভ করে। 

তারপর আগমনকারী গাভী সদকা করার সওয়াব লাভ করে, অতঃপর আগমনকারী দুম্বা সদকা, তারপর আগমনকারী মুরগি সদকা ও তারপর আগমনকারী ডিম সদকা করার সওয়াব লাভ করে। যখন ইমাম খুতবা দেয়ার জন্য আসেন তখন ফেরেশতাগণ রেজিষ্টার খাতা যাহাতে আগমনকারীদের নাম লেখা হইয়াছে বন্ধ করিয়া ফেলেন এবং খুতবা শুনিতে মশগুল হইয়া যান। (বুখারী) 

>> হজরত ইয়াযীদ ইবনে আবু মারয়াম (রহ.) বলেন, আমি জুমার জন্য পায়ে হাঁটিয়া যাইতেছিলাম। এমন সময় হজরত আবায়াহ ইবনে রাফে (রহ.) এর সহিত আমার সাক্ষাৎ হইল। তিনি বলিতে লাগিলেন, তোমার জন্য সুসংবাদ, কারণ তোমার কদমগুলো আল্লাহর রাস্তায় আছে। আমি হজরত আবু আবস (রা.) কে এরূপ বলিতে শুনিয়াছি যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করিয়াছেন, যাহার কদম আল্লাহর রাস্তায় ধুলামুক্ত হয় তাহার সেই কদম দোযখের আগুনের উপর হারাম।(তিরমিযী) 

>> হজরত আওস ইবনে আওস সাকাফী (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) এই ইরশাদ করিতে শুনিয়াছি, যে ব্যক্তি জুমার দিন খুব উত্তমরূপে গোসল করিয়া অতি প্রত্যুষে মসজিদে যায়, পায়ে হাঁটিয়া যায় সওয়ারীতে আরোহন করে না, ইমামের নিকটবর্তী হইয়া বসে এবং মনোযোগ সহকারে খুতবা শ্রবণ করে। খুতবার সময় কোনো প্রকার কথা বলে না সে জুমার জন্য যত কদম হাঁটিয়া আসে উহার প্রত্যেক কদমের বিনিময়ে এক বছরের রোজার সওয়াব ও এক বছরের রাত্রের এবাদতের সওয়াব লাভ করে। (আবু দাউদ) 

>> হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আসী (রা.) হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করিয়াছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন উত্তমরূপে গোসল করে, অতি প্রত্যুষে জুমার জন্য যায়, ইমামের অতি নিকটবর্তী হইয়া বসে, মনোযোগ সহকারে খুতবা শ্রবণ করে, খুতবার সময় চুপ থাকে, সে যত কম হাঁটিয়া মসজিদে আসে উহার প্রত্যেক কদমের বিনিময়ে সারা বছরের তাহাজ্জুদ ও সারা বছরের রোজার সওয়াব লাভ করে। (মুসনাদে আহমাদ) 

>> হজরত আবু লুবাবা ইবনে আবদুল মুনযির (রা.) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করিয়াছেন, জুমার দিন সমস্ত দিনের সরদার, আল্লাহ তায়ালার নিকট সমস্ত দিনের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সম্মানিত। এই দিন আল্লাহর নিকট ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের দিন অপেক্ষা অধিক মর্যাদাবান। এই দিনে পাঁচটি জিনিস হইয়াছে। 

এক. এই দিনে আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করিয়াছেন। 

দুই. এই দিনেই তাহাকে জমিনে নামাইয়াছেন। 

তিন. এই দিনেই তাহাকে মৃত্যু দিয়াছেন। 

চার. এইদিনে একটি মুহূর্ত এমন রহিয়াছে যে, বান্দা সেই মুহূর্তে যাহা চায় আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই তাহাকে উহা দান করেন, শর্ত হইল কোনো হারাম জিনিস না চায়। 

পাঁচ. এই দিনে কেয়ামত কায়েম হইবে। সমস্ত নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ, আসমান, জমিন, হাওয়া, পাহাড়, সমুদ্র সকলেই জুমার দিনকে ভয় করে।(কারণ জুমার দিনেই কেয়ামত আসিবে।)(ইবনে মাজাহ)

>> হজরত আবু হোরায়রা (রা.) হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করিয়াছেন, যে সকল দিনে সূর্য উদয় অস্ত যায় তন্মধ্যে জুমার দিন অপেক্ষা কোনো দিন উত্তম নয়। অর্থাৎ জুমার দিন সকল দিন অপেক্ষা উত্তম। মানুষ ও জিন ব্যতীত সকল প্রাণী জুমার দিনকে(এইজন্য) ভয় করে(যে, নাজানি কেয়ামত কায়েম হইয়া যায়।)(ইবনে হিব্বান)

>> হজরত আবু সাঈদ খুদরী ও হজরত আবু হোরায়রা (রা.) হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করিয়াছেন, জুমার দিনে এমন এক মুহূর্ত রহিয়াছে যে, মুসলমান বান্দা সেই মুহূর্তে আল্লাহ তায়ালার নিকট যাহা চায় আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই তাহাকে উহা দান করিয়া দেন। আর সেই মুহূর্ত আসরের পরে হয়। (মুসনাদে আহমাদ, ফাতহে রাব্বানী) 

>> হজরত আবু মূসা আশআরী (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জুমার সেই মুহূর্ত সম্পর্কে ইরশাদ করিতে শুনিয়াছি যে, সেই মুহূর্ত জুমার খুতবা আরম্ভ হইতে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়। (মুসলিম) 

ফায়দা: জুমার দিনে দোয়া কবুল হওয়ার সময় নির্ধারণ সম্পর্কে আরো অনেক হাদীস রহিয়াছে। অতএব সম্পূর্ণ দিনেই অধিক পরিমাণে দোয়া ও এবাদতের এহতেমাম করা উচিত।(নাবাবী)

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ