• রোববার   ৩১ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৭ ১৪২৭

  • || ০৮ শাওয়াল ১৪৪১

দৈনিক গোপালগঞ্জ
২৪

জ্যাক মা’র চিকিৎসা সরঞ্জাম পেল বাংলাদেশসহ ১৫০ দেশ

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২০  

চীনা ধনকুবের জ্যাক মা গত মাসে একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন করোনা মহামারীর মধ্যে। তার প্রতিটি পোস্টে রয়েছে পৃথিবীব্যাপী দিশেহারা মানুষগুলোকে চিকিৎসা সামগ্রী পাঠানোর কথা। প্রথম দিকের একটি মেসেজে জ্যাক মার উৎসাহব্যঞ্জক মন্তব্য ছিল: ‘একটা বিশ্ব, একটা লড়াই।’ আরেকটি মন্তব্য ছিল, ‘একসাথে আমরা সফল হব!’

এখনও পর্যন্ত বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠিয়ে নিজেকে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের সারিতে রেখেছেন আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা। করোনাভাইরাস মোকাবেলার জন্য ফেস মাস্ক আর ভেন্টিলেটর জোগাড় করার লড়াইয়ে যারা বিশ্বের বড় বড় দেশগুলোর পেছনে রয়েছে তাদের জন্য এসব জীবন বাঁচানোর সামগ্রী সরবরাহের উদ্যোগ তিনিই চালাচ্ছেন।
বাংলাদেশেও গত মার্চ মাসে ৩০ হাজার করোনাভাইরাস পরীক্ষার কিট এবং ৩ লাখ মাস্ক পঠিয়েছেন জ্যাক মা। আল জাজিরার দেয়া তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৫০ দেশে ১২০.৪ মিলিয়ন ফেস মাস্ক, ৪১ লাখ ৫ হাজার টেস্টিং কিট এবং ৩ হাজার ৭০৪ ভেন্টিলেটর পাঠিয়েছেন জ্যাক মা।
মার্চ মাস থেকে শুরু করে জ্যাক মা ফাউন্ডেশন এবং তার সহযোগী আলিবাবা ফাউন্ডেশন বিমানে করে আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে, এমন কী ইরান, ইসরায়েল, রাশিয়া এবং আমেরিকাতেও সরঞ্জাম পাঠিয়েছে।
করোনাভাইরাস টিকা আবিস্কারের গবেষণায় মা লাখ লাখ ডলার অর্থ সাহায্য করেছেন এবং তার নিজের বাড়ি চীনের যে ঝেজিয়াং প্রদেশে সেখানকার ডাক্তারদের লেখা চিকিৎসা পরামর্শের পুস্তিকা চীনা ভাষা থেকে ১৬টি বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। 
কিন্তু জ্যাক মা খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন পৃথিবীর নানা দেশে চিকিৎসা সামগ্রী পাঠানোয় তার অবদানের জন্য। আর এ কারণেই তিনি সবার থেকে আলাদা হয়ে উঠেছেন।

জ্যাক মা একজন আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব। ইংরাজির শিক্ষক হিসাবে তিনি ছিলেন সুপরিচিত। তিনি চীনের বৃহত্তম প্রযুক্তি সংস্থা আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা। আলিবাবা এখন ‘পূর্বের আমাজন’ নামে পরিচিত। চীনের বন্দর নগরী হ্যাংঝুর ছোট্ট একটা অ্যাপার্টমেন্ট ঘর থেকে তিনি এই কোম্পানি গড়ে তোলেন। ১৯৯৯ সালে চীনের কারখানা অধ্যুষিত এলাকার কেন্দ্রে ছিল এই হ্যাংঝু শহর।
২০১৮ সালে আলিবাবার চেয়ারম্যানের পদ থেকে তিনি সরে দাঁড়ান। তিনি বলেন, তিনি দানধ্যান নিয়ে থাকতে চান। কিন্তু আলিবাবার পরিচালনা বোর্ডে তার স্থায়ী পদ থেকে যায়। শুধু সম্পদ আর খ্যাতি নয়, মা চীনের অন্যতম প্রভাবশালী একজন ব্যক্তি।
মা টুইটারে ঘোষণা করেছেন লাতিন আমেরিকার ২২টি দেশে তিনি দান পাঠাবেন। তাইওয়ানের সমর্থক বেশ কিছু দেশ চিকিৎসা সামগ্রী চেয়েছিল, কিন্তু তাদের নাম ১৫০টি দেশের তালিকায় নেই। তবে তার দান যে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে গৃহীত হয়েছে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। কিছু ঝামেলা হয়েছিল কিউবা ও এরিত্রিয়াতে পাঠানো চালান নিয়ে। কিন্তু এর বাইরে তার ফাউন্ডেশন, চীন থেকে যেসব দেশে চিকিৎসা সাহায্য পাঠিয়েছে, সেই সবগুলো দেশই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। 
মা’র জীবনীকার ডানকান ক্লার্ক বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির এই দুঃসময়ে তিনি যে বিশাল দাতব্য কাজ করছেন সেই সুনামের ভাগীদার চীন যে অনেকটাই হচ্ছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। কাজেই বিশ্লেষকরা বলছেন চীনা কর্তৃপক্ষ জ্যাক মার পথে এই সময়ে কোন প্রতিবন্ধকতা তুললে তারা ভুলই করবে।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর