• শনিবার   ০৬ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪২৭

  • || ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

দৈনিক গোপালগঞ্জ
১৬৫

পদ্মাসেতুর ৪২টি পিলারের মধ্যে কাজ বাকি ২টির

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ৮ মার্চ ২০২০  

প্রমত্তা পদ্মার বুকে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে স্বপ্নের সেতুর ৪০টি পিলার। আর দুইটি পিলারের কাজ হলে গেলেই চ্যালেঞ্জিং একটা ধাপ শেষ হবে। ২০১৪ সালে শুরু হওয়া সেতুর কাজ নানা বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে গেছে৷

সর্বশেষ প্রকল্পে করোনাভাইরাস কাজের গতিতে প্রভাব ফেললেও এগিয়ে যাচ্ছে সেতু নির্মাণের কাজ। সেতুর ২৬ ও ২৭ নম্বর পিলারের শেষ হলেই সম্পন্ন হবে সব পিলারের কাজ, যা আরো এক মাস সময়ের মধ্যে শেষ হবে বলে আশাবাদী প্রকৌশলীরা। 
এদিকে, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ২৬তম স্প্যান সেতুর ২৮ ও ২৯ নম্বর পিলারে বসিয়ে ৩ হাজার ৯০০ মিটার দৃশ্যমানের পরিকল্পনা প্রকৌশলীদের।  
আজ রোববার (৮ মার্চ) গভীর রাতে দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীদের চেষ্টায় শেষ হয় ১০ নম্বর পিলারের কাজ। এর মাধ্যমে মূল নদীর সব পিলারের কাজ শেষ হলো। বাকি দুইটি পিলারের অবস্থান নৌযান চলাচলের চ্যানেলে। পদ্মাসেতুর প্রকৌশল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকৌশলী জানান, বাকি থাকা দুইটি পিলারে এখন কংক্রিটিং চলছে। তা শেষ হয়ে সময় লাগবে এক মাস। ইতিমধ্যে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে দুইটি স্প্যান এসে যোগ হয়েছে, বর্তমানে ৩৯টি স্প্যান আছে। চীন থেকে দুইটি স্প্যান আসার কার্যক্রম চলছে। চীনে স্প্যানগুলো তৈরি হয়ে নৌপথে বাংলাদেশে আসে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সেখানকার খোঁজখবর ঠিকমতো নেওয়া যাচ্ছে না। 
আরও জানান, সোমবার (৯মার্চ) মাওয়া কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ২৬তম স্প্যান সেতুর ২৮ ও ২৯ নম্বর পিলারের কাছে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর মঙ্গলবার (মার্চ) সকালে স্প্যানটি বসানোর মাধ্যমে ৩ হাজার ৯০০ মিটার দৃশ্যমানের পরিকল্পনা আছে। অনুকূল আবহাওয়া আর কারিগরি জটিলতা দেখা না দিলে এই শিডিউল অনুযায়ী স্প্যান বসানো হবে। চীনা প্রকৌশলী-শ্রমিকরা এখনো পুরোপুরি কাজে যোগ দেয়নি। প্রায় দেড়শ চীনা বাকি আছে, যারা কাজে যোগাদান করেনি। 
জানা যায়, সেতুর ৫, ৬, ৭, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৫, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১,৪২ নম্বর পিলারে বসেছে ২৫টি স্প্যান। স্প্যান বসানো বাকি পিলারগুলো হলো-১, ২, ৩, ৪, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ২০, ২৬, ২৭, ২৮ নম্বর। রেলওয়ে স্ল্যাব বসেছে ৭২২টি ও রোডওয়ে স্ল্যাব বসেছে ৩৪৪টি।  
৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি দ্বিতল হবে, যার ওপর দিয়ে সড়কপথ ও নিচের অংশে থাকবে রেলপথ। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে চীনের আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ