• শুক্রবার   ২৯ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪২৭

  • || ০৬ শাওয়াল ১৪৪১

দৈনিক গোপালগঞ্জ
১৬৬৪

ফিরে দেখা : শিক্ষা সেক্টরে সরকারের সফলতা

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ৪ জানুয়ারি ২০২০  

বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। রুপকল্প ২০২১ এবং একশ’ বছরের ডেল্টা প্লানকে সামনে রেখে দূর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। উন্নয়নের মহান রুপকার, গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনার দূরদর্শী চিন্তাধারা ও যুগোপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে দেশ থেকে দূর হয়েছে ক্ষুধা-দারিদ্র্য-বেকারত্ব। শিক্ষা, কৃষি, শিল্প, ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাসহ দেশের প্রতিটি সেক্টরে হয়েছে অভূতপূর্ব উন্নয়ন। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন নিয়ে আমাদের ধারাবাহিক পরিবেশনা ‘উন্নয়নের ১২ বছর’।

শিক্ষা জাতির সার্বিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির চাবিকাঠি। এ উপলব্ধি থেকে প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বজনীন ও বাধ্যতামূলক করে দক্ষ ও মেধাবী মানবসম্পদ গঠন এবং নিরক্ষরমুক্ত সোনারবাংলা দেশ বির্নিমাণে দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ লক্ষ্যে জাতির পিতা মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের পরেই ১৯৭৩ সালে ৩৬,১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণসহ ব্যাপক  কার্যক্রম গ্রহণ করেন যা জাতির কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি  প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেন। প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের অর্জিত ঈর্ষণীয় সাফল্য সর্বমহলে ব্যাপকভাবে আদৃত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নসহ নানাবিধ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষার কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে ২০১৫ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয় নীট ভর্তির হার ৯৭.৯৪% এ উন্নীত হয়েছে। ভর্তির ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যের পাশপাশি ঝরেপড়ার কারণসমূহ চিহ্নিত করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় অসহায় দরিদ্র পরিবারের শিশুদের উপবৃত্তি প্রদান, স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে মিড-ডে মিল চালুর উদ্যোগ গ্রহণ, উন্নতমানের বিস্কুট সরবরাহ, স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্তকরণসহ মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করার ফলে ঝরেপড়ার হারও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা-চক্র সমাপ্তির হারও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বই বিতরণ প্রতি বছরের প্রথম দিন বই বিতরণ বর্তমান সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ২০১০ সাল থেকে বই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০১৬ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ২.২৩ কোটি ছাত্র/ছাত্রীদের মধ্যে চার রঙ বিশিষ্ট ১০,৮৭,১৯,৯৯৭টি পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির শিশুদের নিজস্ব বর্ণমালায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন এবং সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

উপবৃত্তি প্রকল্প দারিদ্র্য ম্যাপ অনুযায়ী যে সকল উপজেলায় দারিদ্র্যের হার ৬০% এর বেশি এমন ৬৭টি উপজেলায় ৯০% শিক্ষার্থীকে, দারিদ্র্যের হার (৪৮.১-৬০)% পর্যন্ত এমন ১২২টি উপজেলার ৭৫% শিক্ষার্থীকে, দারিদ্র্যের হার (৩৬.১-৪৮)% পর্যন্ত এমন ১৪০টি উপজেলার ৫০% শিক্ষার্থীকে ও দারিদ্র্যের হার ৩৬% পর্যন্ত এমন ১৫৪টি উপজেলায় ৪৫% শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। এ জন্য ২০১০ সালে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৪৮,১৫,৬৩৬ জন হতে বাড়িয়ে ৭৮,১৭,৯৭৭ জনে উন্নীত করা হয়। বর্তমানে দেশের ১০০% শিশুকে উপবৃত্তির আওতাভুক্ত করায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখে এ উন্নীত হবে। বৃত্তি ঝরে পড়া রোধ, শ্রেণি কক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে উপজেলাভিত্তিক বৃত্তি প্রদান করা হয়। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৫৫ হাজার শিক্ষার্থীদের মাঝে মেধার ভিত্তিতে বৃত্তি দেওয়া হত। ২০১৬ সাল থেকে বৃত্তির সংখ্যা বাড়িয়ে ৮২ হাজার ৫ শত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। স্কুল ফিডিং প্রকল্প বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরেপড়া রোধ সহ পুষ্টি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ৯৩টি দারিদ্রপীড়িত উপজেলায় ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে উচ্চ পুষ্টিমান সম্পন্ন বিস্কুট বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও স্থানীয় কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করে ১৩৬টি বিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে শিক্ষার্থীদের মাঝে রান্না করা খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। মায়েদের উদ্বুদ্ধ করে সারাদেশে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থীদের মাঝে দুপুরে রান্না করা খাবার সরাবরাহ করা হচ্ছে। শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ ‘ভিশন ২০২১’ বাস্তবায়নসহ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট মাঠ পর্যায়ের দপ্তরসমূহে ইন্টারনেট সংযোগসহ ৫৫টি পিটিআইতে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ৫০৩টি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৫৫০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ, ইন্টারনেট মডেম ও সাউন্ড সিস্টেম সরবরাহ করা হয়েছে। ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি-৩ এর আওতায় জুন ২০১৫ পর্যন্ত ২০১৪টি বিদ্যালয় পুনঃনির্মাণ, ১৯,৮১৯টি অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ, ১৫,০৫৪টি শ্রেণিকক্ষ মেরামত, ২৫,৬২১টি টিউবওয়েল স্থাপন, ১২,২৫৫টি ওয়াশব্লক নির্মাণ ও ১৯,২২৬টি টয়লেট মেরামত, ৩৬টি পিটিআই সম্প্রসারণ ও   মেরামত, ১১৮টি উপজেলা শিক্ষা অফিস সম্প্রসারণ ও মেরামত, ১০৩টি রিসোর্স সেন্টার সম্প্রসারণ ও মেরামত করা হয়েছে।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ
উন্নয়ন বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর