• মঙ্গলবার   ০২ মার্চ ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ১৮ ১৪২৭

  • || ১৯ রজব ১৪৪২

দৈনিক গোপালগঞ্জ

বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও ৫০ বছরে বাংলাদেশ

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০২১  

১৯৫৮ সালের পর প্রথম রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। বঙ্গবন্ধুু প্রথম দিন থেকেই ছয়-দফার পক্ষে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেন। ১৯৭০ সালের ৪ জুন নির্বাচনকে সামনে রেখে মতিঝিল ইডেন হোটেল প্রাঙ্গণে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হয়। কাউন্সিলে আওয়ামী লীগ এককভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ১৯৭০ সালের ৫ জুন পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচনী এলাকা বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়। পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদে ৩১০টি আসন আর জাতীয় পরিষদে ১৬৯টি আসন নির্দিষ্ট করা হয়।

১৯৭০ সালের ১৫ আগস্ট প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন যথাক্রমে ৭ ও ১৭ ডিসেম্বর। ১৯৭০ সালের ৮ অক্টোবর ইসলামাবাদ থেকে ১৯টি রাজনৈতিক দলের প্রতীক ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আওয়ামী লীগকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। স্মরণীয় যে, ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার সাধারণ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিলো নৌকা। ১৯৭০ সালের ২৮ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুু বেতার ও টেলিভিশনে নির্বাচনী ভাষণ দেন। তিনি বলেন, ‘ প্রতিকূল অবস্হার মধ্যে দিয়ে-ই আওয়ামী লীগের জন্ম। তার সংকটময় পরিস্হিতির মধ্যে দিয়ে-ই আওয়ামী লীগের বিকাশ’।

তিনি দেশবাসীর কাছে ছয়-দফার পক্ষে ম্যান্ডেট চান। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর পূর্ব বাংলায় ভয়াবহ ঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসে ১০/১২ লাখ মানুষ মারা যান। বঙ্গবন্ধুু তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা স্হগিত করে ত্রাণ কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি এই অঞ্চলের জনগণের প্রতি চরম উদাসীনতা তুলে ধরেন। এই সময়’ সোনার বাংলা শ্মাশান কেনো’ শিরোনামে তথ্য সম্বলিত একটি পোষ্টার জাতিকে নাড়া দেয়। ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর বন্যা-দুর্গত এলাকা বাদে জাতীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করে। পাকিস্তান পিপলস পার্টি পায় ৮৮টি আসন।

 ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তান ২৯৮ টি আসন লাভ করে।

১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সকল নির্বাচিত সদস্য ৬ দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র প্রণয়ন অর্থাৎ ৬ দফা বাস্তবায়নের শপথ গ্রহণ করেন। ‘ আমার সোনার বাংলা,আমি তোমায় ভালবাসি ‘ এই সংগীতের মধ্যে দিয়ে বাঙালি জাতির মুক্তির সংকল্প ব্যক্ত করেন। শপথ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সংগীতের পর ‘ জয় বাংলা বাংলার জয় ‘ গানটি পরিবেশিত হয়। ১৯৭১ সালের ১০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় আসেন। তিনি বঙ্গবন্ধুুর সঙ্গে তিন দফা বৈঠক করেন। চারদিন পর ফিরে আসার সময় তিনি বলেন ‘ শেখ মুজিব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন ‘। ১৯৭১ সালের ২৭ জানুয়ারি জুলফিকার আলী ভূট্রো ঢাকা এসে বঙ্গবন্ধুুর সঙ্গে কয়েকদফা আলোচনা করেন। কিন্তু ভূট্রোর সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হয়। ১৯৭১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি এক সরকারি ঘোষণায় বলা হয় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় ৩ মার্চ ১৯৭১ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

১৯৭১ সালের ১ মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠক শুরু হয় হোটেল পূর্বানীতে। ঐ দিনই আকস্মিকভাবে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্হগিত ঘোষণা করেন। সারা বাংলা ক্ষোভে ফেটে পরে। বিক্ষুব্ধ জনসমুদ্রে পরিণত হয় রাজপথ। বঙ্গবন্ধুু এটাকে শাসকদের আরেকটি চক্রান্ত বলে চিহ্নিত করেন। তিনি ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সারা পূর্ব বাংলায় হরতাল আহ্বান করেন। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকায় বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে স্বত:স্ফুর্ত হরতাল পালিত হয়। উত্তাল জনস্রোতে ঢাকা পরিণত হয় এক বিক্ষোভের শহরে। জান্তা সরকার ঢাকা শহরের পৌর এলাকায় সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কারফিউ জারী করেন।

১৯৭১ সালের ৩ মার্চ বিক্ষুব্ধ জনতা কারফিউ উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে। সামরিক জান্তার গুলিতে মারা যান ৩ জন, আহত হন কমপক্ষে ৬০ জন। এই সময় পুরো দেশ বঙ্গবন্ধুুর নির্দেশে পরিচালিত হতে থাকে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে এক কালজয়ী ভাষণে  ঘোষণা করেন,

এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,

এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিবুর রহমানের এই ভাষণে স্পষ্ট হয়ে যায় স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। সারাদেশে শুরু হয় এক অভূতপূর্ব অসহযোগ আন্দোলন।

১৯৭১ সালের ১৬ মার্চ বিস্ফোরণমুখে বাংলাদেশে আসেন ইয়াহিয়া খান। বঙ্গবন্ধুুর সঙ্গে তার দীর্ঘ আলোচনা শুরু হয়। বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর গাড়িতে কালো পতাকা উড়িয়ে হেয়ার রোডে প্রেসিডেন্ট ভবনে আলোচনার জন্য যান। ১৯৭১ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুুর ৫১ তম জন্মদিন। এই দিন ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা  আলোচনা থেকে ফিরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বঙ্গবন্ধুু বলেন ‘ এদেশে জন্ম দিনই বা কি আর মৃত্যু দিনই বা কি, আমার জনগণই আমার জীবন ‘।

১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ প্রতিরোধ দিবস পালনের ঘোষণা দেন। সমস্ত সরকারী এবং বেসরকারি ভবনে ‘ বাংলাদেশের ‘ জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বঙ্গবন্ধুু এদিন সরকারী ছুটি ঘোষণা করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পৃথিবীর ইতিহাসে এক নৃশংসতম কালো রাত্রি ২৫ মার্চ। এদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে মানুষের ঢল নামে। সন্ধ্যায় খবর পাওয়া যায় ইয়াহিয়া ঢাকা ত্যাগ করেছেন। এ সময় বঙ্গবন্ধুু আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সাথে বৈঠক করেন। রাত সাড়ে এগারোটায় শুরু হয় ‘ অপারেশন সার্চ লাইট’। ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে অর্থাৎ ২৫ মার্চ দিবাগত রাত ১২ টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানী সেনাবাহিনী কতৃক গ্রেফতার হওয়ার পূবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, ঘোষণাবার্তা ওয়ারলেসযোগে চট্রগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরীকে প্রেরণ করেন। চট্রগ্রাম বেতার থেকে আওয়ামী লীগ নেতা হান্নান বঙ্গবন্ধুুর স্বাধীনতা ঘোষণার বাণী স্বকন্ঠে প্রচার করেন। পরে বঙ্গবন্ধুুকে গ্রেফতার করে করাচিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চের কালজয়ী ভাষণ ও ২৬ মার্চের বঙ্গবন্ধুুর স্বাধীনতার ঘোষণার আলোকে বীর বাঙালি গড়ে তোলে স্বত:স্ফূর্ত প্রতিরোধ। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল তৎকালীন মেহেরপুর মহকুমার ভবের পাড়ার (বৈদ্যনাথ তলা) আমবাগানে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নতুন মন্ত্রীসভা গঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহম্মদ ঘোষণা করেন আজ থেকে ( ১৭ এপ্রিল)  বৈদ্যনাথ তলার নাম মুজিবনগর এবং অস্হায়ী রাজধানী মুজিবনগর থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনা করা হবে। বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি এবং তার অনুপস্হিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্হায়ী রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মে ক্রমেই মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠিত হতে শুরু করে। সংগঠিত হয় প্রবাসী সরকার। ২৫ মে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু হয়। এই কেন্দ্রের সিগনেচার টিউন ছিলো ‘ জয় বাংলা বাংলার জয় ‘। কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধুুর ভাষণ প্রচারিত হতে থাকে। এই কেন্দ্র থেকে প্রচারিত শোন একটি মুজিবের কন্ঠে… গানটি বাঙালির উদ্দীপনা বাড়িয়ে দেয়। ১৯৭১ সালের ৩ আগস্ট পাকিস্তান টেলিভিশন থেকে বলা হয় ১১ আগস্ট থেকে সামরিক আদালতে বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিবুর রহমানের বিচার শুরু হবে। এই ঘোষণায় বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ এবং উদ্বেগের ঝড় বয়ে যায়। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রবাসী বাঙালিরা আন্তজার্তিক খ্যাতি সম্পন্ন আইনজীবী সন ম্যাকব্রাইডকে ইসলামাবাদে পাঠান। কিন্তু পাকিস্তানী জান্তা সরকার বিদেশি আইনজীবী নিয়োগে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। ১৯৭১ সালের ১০ আগস্ট পাকিস্তানী জান্তা সরকার বঙ্গবন্ধুুর পক্ষ সমর্থনের জন্য আইনজীবী একে ব্রোহীকে নিয়োগ দেয়।

কিন্তু বঙ্গবন্ধুুকে যখন ২৬ মার্চ ইয়াহিয়া খানের ভাষণের টেপ শোনানো হয় তখন তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনে অস্বীকার করেন এবং ব্রোহীকে অব্যহতি দেন। জাতীয় ও আন্তজার্তিকভাবে বাংলাদেশের পক্ষে ব্যাপক জনমত তৈরি হয়।মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবতা স্পর্শ করতে থাকে। ১৯৭১ সালের ১১ নভেম্বর বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিবুর রহমানকে ইয়াহিয়া খানের সামনে হাজির করা হয়। ইয়াহিয়ার সঙ্গে ছিলেন ভূট্রো এবং জেনারেল আকবর। ইয়াহিয়া করমর্দনের জন্য হাত বাড়ালে বঙ্গবন্ধুু বলেন ‘ দু: খিত ও হাতে বাঙালির রক্ত লেগে আছে,  ও হাত আমি স্পর্শ করবো না’।  এ সময় অনিবার্য বিজয়ের দিকে এগুতে থাকে আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। ১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের মুক্তির সংগ্রাম যখন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে তখন লায়ালাপুর কারাগারে ইয়াহিয়া বঙ্গবন্ধুুর সঙ্গে সমঝোতার প্রস্তাব দেন। কিন্তু ঐ সমঝোতা প্রস্তাব বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিবুর রহমান ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন।তিনি যেমন ছিলেন কোমল আর তেমনি  তিনি ছিলেন পর্বতের মতো অটল। তাঁর মহানুভবতা, সততা তাঁকে মহামানবে অধিষ্ঠিত করেছে।

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর অর্থাৎ বিজয়ের মাত্র দুইদিন আগে পাকিস্তান জান্তা সরকার ও স্বাধীনতার চরম শত্রু, পাকিস্তানের দোসর, রাজাকার, আলবদর, আলশামসের নেতৃত্বে মেধাশূন্য করতেই বুদ্ধিজীবীদের নির্মম, নিষ্ঠুর ও পৈশাচিক কায়দায় হত্যাযজ্ঞ চালায়। জাতিকে মেধাশূন্য করতে সব ধরণের চেষ্টা করে ওরা।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ত্রিশ লাখ শহীদ এবং আড়াই লাখ মা বোনের সম্ভ্রম লুন্ঠনের মধ্য দিয়ে আসে আমাদের বিজয়। বাঙালি জাতি মুক্ত হয় পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে। কিন্তু মুক্তির অপূর্ণতা রয়ে যায় স্বাধীনতার স্হপতি তখন নির্জন কারাগারে।

১৯৭২ সালের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে জুলফিকার আলী ভূট্রো করাচিতে ঘোষণা করেন ‘ শেখ মুজিবকে বিনা শর্তে মুক্তি দেয়া হবে’। ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুু কারাগার থেকে মুক্তি পান। পিআইয়ের একটি বিশেষ বিমানে বঙ্গবন্ধুুকে লন্ডনে পাঠানো হয়। ৮ জানুয়ারি ভোরে বঙ্গবন্ধুু লন্ডনে পৌছেন। তাঁর হোটেলের সামনে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা করেন ‘ আমি আমার জনগণের কাছে ফিরে যেতে চাই’।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ তখন তেগাসে সরকারী ছুটিতে ছিলেন, বাংলাদেশের স্হপতি, মুক্তির মহামানব, সদ্য স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা শুনে তিনি সরকারি ছুটি বাতিল করে সরকারি ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে এসে গাড়ির দরজা নিজে ওপেন, বাংলাদেশের জাতির পিতাকে রিসিভ করে সমস্ত ব্রিটিশ রীতিনীতি ভঙ্গ করে, এই কারণে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে সমালোচিত হতে হয়েছে।

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি সকালে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হীথের আগ্রহে ব্রিটেনের রাজকীয় বিমান বাহিনীর এক বিশেষ বিমানে রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিবুর রহমান ভারতের নয়া দিল্লি পৌছালে  ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি.ভি গিরি ও প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরাগান্ধী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান। বিমান বন্দরে বঙ্গবন্ধুু বলেন ‘ অশুভের বিরুদ্ধে শুভের বিজয় হয়েছে। ঐ দিন বিকেলে ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা বিমান বন্দরে অবতরণ করেন। লাখো লাখো মানুষের জনস্রোত, বাঁধভাঙ্গা আবেগে অশ্রুসিক্ত জাতির পিতা বলেন’ আজ আমার জীবনের স্বাদ পূর্ণ হয়েছে ‘। ঐ দিন জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধুু হৃদয়ছোঁয়া এক ভাষণ দেন। ঐ রাতেই তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি দেশে রাষ্ট্রপতি শাসনের পরিবর্তে সংসদীয় শাসন কাঠামো প্রবর্তন করে নতুন মন্ত্রী পরিষদ গঠন করে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ১৯৭২ সালের ১২ মার্চ স্বাধীনতার মাত্র ৫০ দিনের মধ্যে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহার শুরু হয়।

মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশের পতাকা হিসেবে ব্যবহৃত হয় সবুজক্ষেত্রের উপর স্হাপিত লাল বর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত,যার মাঝে ছিল সোনালি রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র। বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ৬ জুন ১৯৭০ এ পতাকার নকশা করেন শিব নারায়ণ দাস। স্বাধীনতা লাভের পর ৪ জানুয়ারি ১৯৭২ ঐ পতাকা থেকে মানচিত্র বাদ দেয়া সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ জারি হয়। বঙ্গবন্ধুু সরকার ১৭ জানুয়ারি ১৯৭২ গৃহীত করে বাংলাদেশের বর্তমান জাতীয় পতাকা।

১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ শোষণহীন সমাজ গঠনের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে প্রথম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়। ১৯৭২ সালের ২০ এপ্রিল শুরু হয় গণপরিষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা সম্পর্কিত প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়। ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের খসড়া শাসনতন্ত্র অনুমোদিত হয়। এ উপলক্ষে প্রদত্ত ভাষণে জাতির পিতা বলেন ‘ বিজয়ের ৯ মাসের মধ্যে শাসনতন্ত্র দেয়া, মানুষের মৌলিক অধিকার দেয়ার অর্থ হলো জনগণের উপর বিশ্বাস করি। ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর নতুন সংবিধান কার্যকর করা হয়। বাতিল করা হয় গণপরিষদ। ১৯৭২ সালের ৭ মার্চ নতুন সংবিধানের আওতায় বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জাতির পিতার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯২টি আসনে বিজয়ী হয়।

১৯৭৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম বাঙালি নেতা হিসেবে জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদে বাংলা ভাষায় বক্তৃতা দেন। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি দেশে বিরাজমান পরিস্হিতি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুু জাতীয় সংসদে চতুর্থ সংশোধনী বিল পাশ করেন। এই বিলের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়।

১৯৭৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুু সমস্ত রাজনৈতিক দলের সম্মিলনে ‘ বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ ‘ নামে একটি নতুন একক রাজনৈতিক দল গঠন করেন।

জাতির পিতার নেতৃত্বাধীন সরকার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় দেশকে স্বল্পোন্নত দেশে পরিণত করতে সক্ষম হন। দেশ যখন সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছিলো তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার চরম শত্রু, প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের ষড়যন্ত্র ও আন্তজার্তিক চক্রান্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে। দেশকে আবার পাকিস্তানের ভাবধারায় ফিরিয়ে নিতে সব ধরণের অপচেষ্টা করে খুনীচক্র।

সেই দিন বিদেশে থাকার কারণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

স্বাধীনতা বিরোধীচক্র জাতির পিতার দুই কন্যাকে দেশে পর্যন্ত আসতে বাঁধা দেয়। কিন্তু জাতির পিতার জৈষ্ঠকন্যা শেখ হাসিনা দীর্ঘ ছয় বছরের নির্বাসিত জীবনের অবশান শেষে জীবনকে হাতের মুঠে নিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে তৎকালীন অবৈধ শাসক, জাতির পিতার হত্যাকান্ডের নেপথ্যের খলনায়ক, স্বাধীনতার চরম শত্রু খুনি জিয়াউর রহমানের রক্ত-চক্ষু উপেক্ষা করে  ১৯৮১ সালের ১৭ মে তিনি  বাংলার মাটিতে পা রাখেন। লক্ষকোটি জনতা সেইদিন জাতির পিতার কন্যাকে বরণ করে নিয়েছিল। পিতার মতোই তিনি বাংলার মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছিলেন এবং সাথে সাথে শপথ নিয়েছিলেন এই বাংলায় তিনি গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করবেনই, মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার তিনি রক্ষা করবেনই। আর তিনি সেটা করেছেনই। সুতরাং দীর্ঘ ২১ বছরের অগণতান্ত্রিক শাসন ও স্বাধীনতা বিরোধীচক্রের ছোঁবল থেকে দেশকে বাঁচাতে বাংলার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অবশেষে ধরা দেয় সোনালি অধ্যায়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আবার মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে পরিচালিত হয় বঙ্গবন্ধুুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। দেশের মানুষ সুখে শান্তিতে বসবাস করতে থাকে। বহি: বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়।  কিন্তু বেশিদিন বাংলাদেশের ভাগ্যে সেই সুখ স্হায়ী না হতেই  না হতেই নেমে আসে অন্ধকার অর্থাৎ আবার স্বাধীনতা বিরোধীচক্র, খুনিচক্র দেশী-বিদেশী চক্রান্তের মধ্য দিয়ে অবৈধভাবে বিএনপি জামাত ২০০১ সালে  বাংলাদেশের ঘাড়ে জগৎদলের মতো চেপে বসে। বাংলাদেশের বারোটা বাঁজিয়ে ছাড়ে প্রতিক্রিয়াশীল চক্র। দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করে, আন্তজার্তিকভাবে হীয় প্রতিপন্ন করে, দেশের সম্পদ লুঠ করে বিদেশে পাচার করে, মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের পরিপন্থী বাংলাদেশ তৈরিতে তারা সব ধরণের চেষ্টা করে, ইতিহাস বিকৃতি করে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিকলাঙ্গ করে দেয়, যেভাবে করেছিল ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে, ঠিক তেমনিভাবে, একই কাদায় তবে ভিন্ন কৌশলে। দেশের সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। দেশের রাজনীতিকে দুরবিত্যায়নের  রাজনীতিতে পরিণত করে বিএনপি জামাত। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের কাঁধে বন্দুক রেখে যেভাবে খুনি জিয়াউর রহমান দেশকে শাসন করেছিল, ঠিক একই কায়দায় তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ শাসনের নামে শোষণ করেছিল। সেখান থেকে দেশের মানুষ মুক্তি পেতে লড়াই সংগ্রাম করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।

বঙ্গবন্ধুুকন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনার

দিনবদলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনে। জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার আজ পর্যন্ত দেশের সেবক হিসেবে বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের কাছে উন্নয়ন ও শান্তির রোল মডেলে পরিণত করেছে। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আজ সত্যিকারের সোনার বাংলায় পরিণত হয়েছে তাঁর-ই কন্যা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার হাত ধরে। বাংলাদেশ আজ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। অসাম্প্রদায়িক চেতনাবোধ ও সুমহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধুুকন্যা শেখ হাসিনা পিতা মুজিবের বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। স্বাধীনতার ৫০ বছরে আজ বাংলাদেশ। যদি এভাবে  আমরা হিসাব করি

  স্বাধীনতা  বিরোধীচক্র ও স্বৈরশাসকদের ২১ বছর বাদে বাংলাদেশ তার জন্মের সঠিক স্হানেই ছিল এবং আছে অর্থাৎ ২৯ বছর বাংলাদেশ তার আপন গতিতে চলমান। মাঝখানে স্বাধীনতা বিরোধীচক্রদের ২১ বছরের  বাঁধা না থাকলে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বহু আগেই সম্পূন্নরুপে বাস্তবায়িত হতো। সবচেয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছে স্বাধীনতা বিরোধীচক্ররা জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে। এই অপূরণীয় ক্ষতি বাঙালি জাতি কোনোদিন পুষিয়ে উঠতে পাড়বেনা, আর কখনও পূরণ হবারও নয়। শুধু বাঙালি জাতি নয় বিশ্ববাসীও নয়।

জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার ৫০ বছর বাংলাদেশ বিদ্যুৎ গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিলো রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কিন্তু কোভিট-১৯ করোনাভাইরাসের প্রভাবে কিছুটা তা থামিয়ে দিয়েছে। তারপরেও সততা, দেশপ্রেম, কমিটমেন্ট, নেতৃত্বের দূরদর্শীতার কারণে ও পিতা মুজিবের মতো অসীম সাহসের কারণে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে অনন্ন উচ্চতায় নিয়ে  গেছেন দেশকে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারের বিভিন্ন পলিসি অনুসরণ করেই দেশকে সফলতা চরম শীর্ষে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছেন বঙ্গবন্ধুুকন্যা শেখ হাসিনা। পিতা মুজিবের নির্দেশিত পথেই হাটছে দেশ। তাইতো এতো অগ্রগতি, এতো সাফল্য, এতো অর্জন।

বঙ্গবন্ধুুর নেত্বত্বাধীন সরকার দেশের সার্বিক অবস্হাকে একটি শক্তিশালী ভিত তৈরি করতে সক্ষম হয়। বিশেষ করে শিক্ষার ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য। ১৯৭৪ সালের ড. কুদরত-ই খুদা শিক্ষা কমিশনের ভিত্তিতে প্রণীত হয় বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন। আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশেরও ভিত্তি রচনা করেন বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিবুর রহমান। বেতবুনিয়া ভূ-উপকেন্দ্রের ভিত্তিস্থাপনের মধ্য দিয়ে। জাতিসংঘের সদস্য লাভ, ওআইস, জোটভুক্ত দেশের সদস্য সবই জাতির পিতার নেত্বত্বাধীন সরকারের আমলে হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা,বিশ্ব ইজতেমার জায়গা বরাদ্দ সহ ইসলামসহ সকল ধর্ম বর্ণের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধুুর হাত দিয়ে।

১১ জানুয়ারি ১৯৭৪ সালে চট্রগ্রামের ভাটিয়ারীতে প্রতিষ্ঠিত করেন বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি।

সমুদ্র আইন, বাংলাদেশ ভারত মৈত্রী চুক্তি ইত্যাদি জাতির পিতার নেতৃত্বেই হয়। পরবর্তীতে তাঁর-ই কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত হওয়ার পথে রয়েছে বাংলাদেশ।

৫০ বছরে বাংলাদেশ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্হায়ী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দুই মেয়াদে। পরিবেশ রক্ষায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয় বাংলাদেশ, পলিথিন শপিং ব্যাগ ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ এবং টু স্ট্রোক থ্রি হুইলার নিষিদ্ধ করা হয়। গঙ্গার পানিবন্টন চুক্তি কার্যকর হয় ১ জানুয়ারি ১৯৯৭।

১২ ডিসেম্বর ১৯৯৬ ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লীতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানিবন্টন চুক্তি।

মানবতার জননী, বিশ্ব শান্তির অগ্রদূত বঙ্গবন্ধুুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা সরকারের অবিস্মরণীয় একটি দিন

২ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্রগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় এক ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি।

এর মাধ্যমে পাহাড়ে ২৩ বছর ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটে। শান্তিচুক্তি অনুযায়ী, ১০ জানুয়ারি ১৯৯৮ সালে জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সংগঠন শান্তিবাহিনী প্রথম অস্ত্রসমর্পণ করে।

৬ জানুয়ারি ২০১০ সালে দেশের ৬৪ টি জেলার জন্য ওয়েব পোর্টাল বা তথ্য বাতায়ন চালু করা হয়। প্রথম টেষ্ট জয় ৬-১০ জানুয়ারি ২০০৫ চট্রগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ তাদের ৩৫ তম টেস্ট খেলতে নামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এতে জিম্বাবুয়েকে ২২৬ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ তার প্রথম জয় তুলে নেয়।

২৫ মার্চ ২০০৯ জাতীয় সংসদে সর্বসম্মত প্রস্তাবানুসারের পর ‘ আন্তজার্তিক অপরাধ ( ট্রাইব্যুনালস)  অ্যাক্ট, ১৯৭৩ ‘ অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ঘোষণা দেয়  সরকার। এ পরিপ্রেক্ষিতে ৯ জুলাই ২০০৯ আইন কমিশনের সুপারিশ বিবেচনা করে ১৯৭৩ সালে প্রণীত আইনকে যুগোপযোগী করতে আইনের কিছু সংশোধনী জাতীয় সংসদে কন্ঠভোটে পাস হয়। এরপর ২৫ মার্চ ২০১০ গঠিত হয় আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০ নভেম্বর ২০১১ দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকার্যের মাধ্যমে আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকার্য শুরু হয়। ২৫ মার্চ ২০১২ গঠিত হয় আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -২।

২১ জানুয়ারি ২০১৩ মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য গঠিত আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রথম রায় প্রধান করে। মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেত্বত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -২ পলাতক আসামি মাওলানা আবুল কালাম আযাদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার আদেশ দেন। তার বিরুদ্ধে আনা ৮টি অভিযোগের ৭টিতে অপরাধ প্রমাণিত হয়।

এভাবে স্বচ্ছতার সাথে আন্তজার্তিক মানদন্ডে একে একে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের রায় কার্যকর হয় এবং এখনও চলমান আছে বিচারকার্য। তবে শেখ হাসিনার নেত্বত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারকে অনেক চোখ রাঙানি পোহাতে হয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে গিয়ে।

মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস কার্যকর করে বর্তমান সরকার। জাতির পিতার পাঁচ হত্যাকারীর ফাঁসি কার্যকর করার মধ্য দিয়ে বাঙালি কলঙ্ক মুক্ত হয়। দেশের মানুষ আশা করে বাকি খুনিদেরও দেশে এনে ফাঁসি কার্যকর করবে আওয়ামী লীগ সরকার।

মানবিক বাংলাদেশের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্হাপন করে বাংলাদেশ। প্রায় দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গাদের মানবতার দিক বিবেচনা করে আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ। এই কারণে বঙ্গবন্ধুুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মাদার অব হিউম্যানিটি উপাধিতে ভূষিত করে ব্রিটিশ মিডিয়া। সমস্ত জল্পনাকল্পনার অবশান ঘটিয়ে নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতুর কাজ শেষ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। সেতুর দুই পাড়ের বন্ধন ৪১ তম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে জোড়া লাগে। আর সমালোচকদের সঠিক জবাব দেওয়া হয়। মুজিববর্ষের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা, মেট্রোরেল, এলিভেটর এক্সপ্রেস ওয়ে, বুলেট ট্রেন, পায়রা সমুদ্র বন্দর, রামপাল পাওয়ার প্ল্যান্ট, রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, কর্ণফুলী ট্যানেল, বঙ্গবন্ধুু স্যাটেলাইট -১,সাবমেরিন, জাহাজ শিল্পসহ বিভিন্ন মেঘা প্রকল্প দেশকে বহি:বিশ্বের কাছে সর্বোচ্চ সোপানে নিয়ে গেছে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। সুতরাং বাংলাদেশের অভ্যূদয় ও ৫০ বছরে বাংলাদেশ ২৯ বছর বাদে খুবই শক্ত অবস্হানে আছে।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ