• বুধবার   ০৩ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২০ ১৪২৭

  • || ১১ শাওয়াল ১৪৪১

দৈনিক গোপালগঞ্জ
৬২

বাগদাদির মৃত্যু ॥ তেল ও অস্ত্র বাণিজ্যের নতুন হিসাব?

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০১৯  

সোভিয়েত ইউনিয়নসহ সমাজতান্ত্রিক শিবিরে ধস নামার পর কমিউনিজমোফোবিয়া অবসানের প্রায় সঙ্গে সঙ্গে জাগিয়ে তোলা হয় ইসলামোফোবিয়া, ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধ’ ঘোষণার মধ্য দিয়ে যার সূচনা। ইসলামিক স্টেটের স্বঘোষিত খলিফা আবু বকর আল বাগদাদির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে কি এর অবসান হলো? না। আশ্বস্ত হওয়ার কিছু নেই। আইএসের প্রয়োজন হয়ত ফুরিয়েছে, তাই বাগদাদি নিহত হয়েছে। শীঘ্রই হয়তো মঞ্চে আসছে নতুন নামের নতুন কোন বাহিনী অথবা হতে পারে আইএস-এরই সংস্কার, পরিমার্জন হবে। একটা কিছু হতেই হবে। নইলে অস্ত্র অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি ঠিক থাকবে কী করে? আরব দেশগুলোর তেল ভান্ডারের কর্তৃত্বেরই বা কী হবে?

২০১৪ সালের জুনে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি এক শ’ নয় ডলার থেকে এক শ’ পনেরো ডলার পর্যন্ত বেড়ে নবেম্বরের মধ্যে পঁচাশি ডলারে এসে স্থির হয়, যা ছিল কয়েক বছরের মধ্যে অস্বাভাবিকরকম কম দাম। তেলের বাজারে এই বড় ধরনের দরপতন হয়েছিল আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের জন্য নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নগামী অর্থনীতির জন্য জরুরী ছিল তাই। আর এতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মাসতুতো ভাই সৌদি আরব এবং তার বলয়ের আরব দেশগুলোর। অবশ্য রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান ও তার পরিবার সিরিয়া এবং ইরাকের তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত। আর এ কাজে তাদের সহযোগী ছিল আইএস সদস্যরা। যুদ্ধ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ব্যয় মেটানোর জন্য তারা কম দামে তুরস্কের কাছে তেল পাচার করত। যা হোক, তেলের বাজারের এ নিম্নগতির সুবিধা শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, চীনও ভোগ করেছে। স্বাভাবিকভাবেই এটা মার্কিনীদের কাছে ভাল লাগার কথা নয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে চীন রাশিয়া ও ইরানের সহযোগিতায় মধ্যপ্রাচ্যে বাণিজ্যিক প্রভাব বিস্তার করছে।

তেলের বাজারে ধারাবাহিক নিম্নগতিতে আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে কাতার। কাতার আরবের অন্যতম তেল ও গ্যাস উৎপাদন এবং রফতানিকারী দেশ। ক্ষতি পোষাতে তারা ভিন্ন পথ বেছে নেয়। পারস্য সাগরের তলায় বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাস ক্ষেত্রটির যৌথ মালিকানা কাতার ও ইরানের। কাতার ইরানের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন করে পাইপলাইনে গ্যাস নিয়ে ইরান থেকে এশিয়ায় রফতানি করার পরিকল্পনা করছিল। এশিয়ায় তাদের মূল ক্রেতা চীন। অনেকে বলছেন কাতার চীনের কাছে মার্কিন ডলারে নয়, চীনা মুদ্রায় গ্যাস রফতানির কথা ভাবছিল। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন মার্কিন বলয়ে থাকা কাতারের এমন পিঠটান যুক্তরাষ্ট্রের ভাল লাগার কথা নয়। ভাল লাগছে না তাদের আরও কারণে। যেমন কাতার ফিলিস্তিনে হামাসকে সহযোগিতা দিয়ে আসছে। হামাসের কার্যালয় দামেস্ক থেকে এখন দোহায়। মিসরে ইসলামী ব্রাদার হুডকেও সহযোগিতা করছে তারা। কাতার এবং সুইস বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গ্লেনকোর যৌথভাবে রাশিয়ার তেল কোম্পানি রস্নেফ্টের বিশ পার্সেন্ট শেয়ার কেনার ঘোষণা দিয়েছে, যা রাশিয়ার জন্য লাভজনক। এসব কারণে রুষ্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। বছর দেড়েক আগে সৌদি আরব রিয়াদে অনুষ্ঠিত আরব-ইসলামিক আমেরিকা সম্মেলনের পরপরই কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন এবং অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে। সৌদি বলয়ের প্রতিবেশী অন্য আরব দেশগুলোও একই পথ অনুসরণ করেছে। কাতারকে নিজ বলয়ের বাইরে বিরোধী শিবিরে ঠেলে দেয়ার প্রচ্ছন্ন অর্থ হতে পারে তার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধ প্রস্তুতি। ইরান একে সেভাবেই দেখছে- কাতারের তেল, গ্যাস খনি দখলের জন্য সৌদি আরবের যুদ্ধ প্রস্তুতি। ইয়েমেনে শিয়া মতাবলম্বী হুতি, লেবাননে হিজবুল্লাহ, সিরিয়ায় বাশার আল আসাদকে সহযোগিতা দেয়ার জন্য ইরান নিজেও যুদ্ধ হুমকিতে রয়েছে।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ