• শুক্রবার   ০৫ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২২ ১৪২৭

  • || ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

দৈনিক গোপালগঞ্জ
৩৬

বান্দার যে আমল আল্লাহর কাছে গ্রহণীয় নয়

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২০  

আলহামদুলিল্লাহ! নাজাতের দিনগুলোর রোজা রাখার সৌভাগ্য পাচ্ছি। জানি না পবিত্র এ রমজানের রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের দশক থেকে কতটা আল্লাহ তাআলার কৃপাভাজন হতে পারব। তবে দয়াময় প্রভুর দরবারে আমাদের সবিনয় প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদেরকে ক্ষমা করে তার দয়ার চাদরে আবৃত করে নেন।

আমাদের রোজা, আমাদের রাতের নামাজ আর অন্যান্য সব ইবাদত যদি কেবল আল্লাহর জন্যই হয়ে থাকে তাহলে তিনি অবশ্যই তা গ্রহণ করবেন। এ গুলোর মাঝে যদি সামন্য পরিমাণও লোক দেখানো আমল থেকে থাকে তাহলে এসবের কোনো মূল্য তার দরবারে নেই।

কেননা তিনি লোক দেখানো আমল গ্রহণ করেন না বরং তিনি মানুষের অন্তরের আমল গ্রহণ করেন। যে আমল বর্জনে আল্লাহ বান্দার প্রতি খুশি হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং কুরআন সুন্নাহর নসিহত গ্রহণ করা জরুরি। এ সম্পর্কে হাদিসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তোমাদের বাহ্যিক আকৃতি এবং সম্পদের প্রতি তাকান না বরং তিনি তাকান তোমাদের অন্তর এবং আমলের প্রতি।’ (মুসলিম)

পবিত্র কুরআনে লোক দেখানো আমলকে আল্লাহ তাআলা মুনাফিকের সঙ্গে তুলনা করেছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
- ‘মুনাফিকরা আল্লাহরকে ধোঁকা দিতে চায়, কিন্তু তিনি তাদেরকে তাদের নিজেদের ধোঁকায় ফেলে দিবেন। আর তারা যখন নামাজের উদ্দেশ্যে দাঁড়ায় তারা আলস্যভরে দাঁড়ায়। তারা লোক দেখানো কাজ করে। আর তারা আল্লাহকে খুব কমই স্মরণ করে থাকে।’ (সুরা নিসা : আয়াত ১৪২)

- এছাড়া রাসুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে লোক দেখানো আমল বা রিয়াকে ছোট শিরকে গণ্য করা হতো। (তাবারানি)

অপর এক হাদিসে এভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বের হয়ে এলেন এবং ঘোষণা করলেন-
‘হে জনগণ, গোপন শিরক সম্পর্কে সাবধান!’ লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গোপন শিরক কী?’ তিনি বললেন, ‘যখন কেউ নামাজে দাঁড়ায় এবং লোকে তাকিয়ে দেখছে জেনে তার সালাত সুন্দরভাবে আদায়ের চেষ্টা করে, এটাই গোপন শিরক।’ (ইবনে মাজাহ)

এছাড়া যারা লোক-দেখানো ইবাদত করে পবিত্র কুরআনে তাদের নিন্দা করে বলা হয়েছে-
‘ধ্বংস সেসব নামাজির জন্য, যারা তাদের নামাজের ব্যাপারে উদাসীন, যারা প্রদর্শন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস দেওয়া থেকে বিরত থাকে।’ (সুরা মাউন: আয়াত ৪-৭)

হাদিসে যেমন বর্ণিত হয়েছে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
‘তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে কোরো যেন তুমি তাকে দেখছ। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে তিনি তোমাকে দেখছেন।’ (বুখারি)

আমরা জানি, মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সব কর্ম ছিল কেবল আল্লাহ তাআলার জন্যই। তিনি রাতের পর রাত আল্লাহর ইবাদতে কাটিয়ে দিতেন আর নবুয়তপ্রাপ্তির আগে মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হেরা গুহায় নিরিবিলি পরিবেশে ধ্যানমগ্ন থাকতেন।

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিষ্ঠাপূর্ণ সেই ইবাদত আর রাতের আহাজারি প্রভু গ্রহণ করেছিলেন। এছাড়া তার ইবাদত, জীবন-মৃত্যু এক কথায় সবই ছিল আল্লাহর জন্য। যেভাবে পবিত্র কুরআনে উল্লেখ রয়েছে-
‘নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানি এবং আমার জীবন ও মৃত্যু বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহর জন্যই।’ (সুরা আল-আনআম: আয়াত ১৬২)

তাই আমাদের প্রত্যেককে আত্মবিশ্লেষণ করতে হবে, আমাদের নেক কর্মগুলো, আমাদের এই রোজা রাখা, করোনার দিনগুলোকে অসহায়দের সাহায্য করা এবং বিভিন্ন স্থানে দান-সাদকা করা, তা কি আল্লাহর জন্য, নাকি লোক দেখানো? যদি লোক দেখানো আর প্রশংসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে তাহলে এসবের কোন মূল্য আল্লাহ তাআলার দরবারে নেই।

তাই আসুন, আমরা আমাদের পুণ্যকর্মগুলো কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই করি। এছাড়া রমজানে যেসব পুণ্য অভ্যাস আমাদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে তা যেন রমজান চলে যাওয়ার পরেও আমাদের মাঝে অবশিষ্ট থাকে। তাহলেই এই রমজান আমাদের জন্য পুরো বছর রহমতের কারণ হবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষেই পুণ্যকর্ম করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ
ধর্ম বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর