• শনিবার   ০৬ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪২৭

  • || ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

দৈনিক গোপালগঞ্জ
৯৫

বৃষ্টি ও যানজটে ইজতেমায় দুর্ভোগ

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ৯ জানুয়ারি ২০২০  

সকাল থেকে কয়েক দফা বৃষ্টি ও যানজটের কারণে টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে আসা মুসল্লিদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) ভোর থেকেই ইজতেমা মাঠে আসতে শুরু করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। রবিবার আখেরি মোনাজাত পর্যন্ত এ ঢল অব্যাহত থাকবে। তবে জমায়েতের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মুসল্লিরা টঙ্গী রেলস্টেশন, উত্তরার কামারপাড়া ও ময়মনসিংহ থেকে আসা মুসল্লিরা গাজীপুরের সালনা পর্যন্ত এসে যানজটে আটকে পড়েছেন।

শুক্রবার থেকে ইজতেমার মূল কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৃহস্পতিবার বাদ ফজর থেকে আম বয়ান শুরু হয়েছে। প্রায় সব জেলার জিম্মাদাররা টঙ্গীর ময়দানে এসে উপস্থিত হয়েছেন। জেলা জিম্মাদারদের উদ্দেশে ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ে দিক-নির্দেশনামূলক আলোচনাও চলছে।

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বেখৈরহাটি গ্রামের সিরাজুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় ইজতেমার উদ্দেশে বাড়ি থেকে রওনা হয়েছেন তিনি। গাজীপুর পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে আসতে পারলেও সালনা থেকে জ্যাম থাকায় বাসে বসে থাকতে হচ্ছে।   

অনেক মুসল্লি ময়দানে তাদের খিত্তায় অবস্থান নিয়েছেন। তারা সবাই বৃষ্টির বিষয়টি মাথায় রেখে পলিথিন-কাগজ সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে ময়দানে চটের নিচে অবস্থান নেওয়া মুসল্লিরা দুর্ভোগে পড়বেন। বিশেষ করে খোলা আকাশের নিচে রান্না-বান্না এবং খিত্তায় অবস্থান করাও কঠিন হয়ে যাবে।

টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায় কথা হয় নরসিংদী সদর উপজেলার গাবতলী গ্রামের রুহুল আমীন সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা ২০ জনের একটি দল ইজতেমায় এসেছি। বৃষ্টি ও রাস্তায় কাদা থাকায় দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। আমাদের ইজতেমায় আসার উদ্দেশ্য হলো নিজের ঈমান ও আমলকে মজবুত করা এবং দ্বীনের জন্য মানুষকে মেহনত করা।’

চান্দনা চৌরাস্তা মোড়, ছয়দানা, বাসন সড়ক, চেরাগআলী, গাজীপুরা, বোর্ড বাজার, ভোগড়া বাইপাস ও টঙ্গী ব্রিজের পর থেকে স্টেশন রোড পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে তীব্র যানজট লেগেই রয়েছে।

নরসিংদীর রায়পুর উপজেলার পালাতরী গ্রামের আব্দুছ ছাত্তার বলেন, ‘যানজট নিরসনে পুলিশের কোনও পদক্ষেপই লক্ষ করা যাচ্ছে না। তিনি  অভিযোগ করেন পুলিশ যানজট নিরসনে ভূমিকা না নেওয়ায় ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের বিপাকে পড়তে হবে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজটের কারণে ঢাকা-বাইপাস ও ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কেও যানজট লেগে রয়েছে।’

শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নিজ মাওনা গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল ৭টায় বোর্ড বাজার থেকে ইজতেমা মাঠের উদ্দেশে বাসে চড়ি। বেলা ১১টায় ইজতেমা মাঠের প্রধান গেটে পৌঁছাই। যানজটের কারণে আধা ঘণ্টার সড়ক পাড়ি দিতে হয়েছে চার ঘণ্টায়।’

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার প্রভাকরদি গ্রামের ইসমাইল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শৈত্যপ্রবাহ থাকবে, বৃষ্টির আশঙ্কা থাকবে, এ বিষয়গুলো সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের আগেই জানার কথা। তারা ইজতেমায় আসা মুসল্লিদের কথা চিন্তা না করে শুধু ময়দানের কথা ভেবে সড়কে শৃঙ্খলার কথা ভুলে গেছেন। যার কারণে মুসল্লিদের যানজটে পড়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’ 

এদিকে, এবার পুরো ইজতেমা ময়দান এলইডি লাইট দিয়ে সাজিয়েছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন। শেষ মুহূর্তে মুসল্লিদের যাতায়াতের পথগুলো মেরামত, ময়দান পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হচ্ছে। মুসল্লিদের সুবিধার সার্বিক দিক ইজতেমা ময়দানে উপস্থিত থেকে দেখভাল করছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জানিয়েছেন, ইজতেমার মুরুব্বিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তাদের যে কোনও সমস্যা সমাধানে তৎপর রয়েছে সিটি কর্তৃপক্ষ। ইজতেমা ময়দান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নসহ মুসল্লিদের সব ধরনের সেবা দিতে সিটি করপোরেশন প্রস্তুত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ইজতেমা ময়দানের পাশে বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্পগুলো উদ্বোধন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হচ্ছে। পুরো ইজতেমা ময়দানের চারপাশে সিসি ক্যামেরাগুলো সচল করা হয়েছে। মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

টঙ্গী স্টেশন রোডে সকাল সাড়ে ৯টায় কথা হয় নরসিংদীর মেঘালয় পরিবহনের চালক ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘রাস্তায় খানাখন্দ, বৃষ্টি এবং যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সকালে মহাসড়কে পুলিশের সংখ্যা কম। সে কারণেও চালকেরা নিয়ম ভেঙে সড়কে চলাচল করছে। এতে করে যানজটে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে।’

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক জানান, ‘আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি যেন ইজতেমাগামী মুসল্লিদের দুর্ভোগে পড়তে না হয়। হঠাৎ গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় সড়কে জমে থাকা ময়লা ও বালু জমে কাদা হয়ে গেছে। এ কারণে মুসল্লি ও বাসচালকদেরও দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।’

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, ‘সকাল থেকেই মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে আসতে থাকায় সড়কে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া হঠাৎ করে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশ কাজ করছে।’

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ