• মঙ্গলবার   ০৭ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ২৪ ১৪২৬

  • || ১৩ শা'বান ১৪৪১

দৈনিক গোপালগঞ্জ
সর্বশেষ:
বঙ্গবন্ধুর খুনি ক্যাপ্টেন(অব.) মাজেদ গ্রেফতার দিনাজপুরে দুই মোটরসাইকেল মুখোমুখি, ব্যবসায়ী নিহত মাওয়ায় ৩ পিকআপ জাটকা উদ্ধার করোনা : আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ লাখ ও মৃত্যু ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে
৪৮

‘ভারতে অবস্থান করা বাংলাদেশিদের ফিরতে সমস্যা হবে না’

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০২০  

কলকাতা: আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশসহ সব দেশের ভিসা স্থগিত করেছে ভারত। গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। চালু থাকছে কেবল বিশেষ কয়েক ধরনের ভিসা। এরই মধ্যে যেসব বাংলাদেশি ভারতে অবস্থান করছেন তারা কতদিন ঠিক থাকতে পারবেন, ফিরতে কোনো সমস্যা হবে কিনা, মুজিববর্ষের পূর্বনির্ধারিত সূচিতে পরিবর্তন আসছে কিনা- এসব বিষয়ে কথা বলেছেন কলকাতার বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস প্রধান তৌফিক হাসান।

বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা স্থগিত। আপনারা কি ভারতীয়দের ভিসা দিচ্ছেন?

তৌফিক হাসান: যেহেতু এখনো পর্যন্ত সেরকম কোনো নির্দেশনা আসেনি, সে কারণে আমরা ভিসা দেওয়া অব্যাহত রেখেছি। তবে যেসব ভিসা আবেদনকারী ট্যুরিস্ট ভিসা নিতে চাইছেন তাদের নিরুৎসাহিত করছি। আমরা ভিসা আবেদনকারীদের বলছি খুব জরুরি না হলে পরে যান।

শুধু ট্যুরিস্ট ভিসা না সব ধরনের ভিসা বন্ধ করেছে ভারত সরকার?

তৌফিক হাসান: আমাদের কাছে যা খরব এসেছে তাতে ভারত সরকার আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সব ধরনের ভিসা বন্ধ করেছে বাংলাদেশিদের জন্য। তবে ডিপ্লোম্যাট, অফিশিয়াল কাজ বা কোনো সরকারি প্রকল্পের কাজে যাতায়াতের জন্য ভিসাগুলো খোলা থাকছে। এছাড়া জরুরি কোনো পরিষেবা যেমন মেডিক্যাল, ব্যবসা ইত্যাদির জন্য যদি কোনো ব্যক্তি ভারতীয় হাইকমিশনে যোগাযোগ করে তা বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেবে সংশ্লিষ্ট এলাকার হাইকমিশন।

তাহলে যাদের আগে থেকে ভিসা আছে?

তৌফিক হাসান: না, বাংলাদেশিরা এক্সিস্টিং কোনো ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে পারবেন না। আবারও বলছি জরুরি কোনো বিষয় থাকলে ভারতীয় হাইকমিশনে যোগাযোগ করতে হবে। তারা বিষয়টার গভীরতা বুঝে ডিসিশন নেবে।  

তাহলে যেসব বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, রোগী বা ব্যবসায়ী যারা এই মুহূর্তে ভারতে আছেন, তাদের কোনো কারনে যদি আরো কিছুদিন ভারতে থাকতে হয়, তারা ভিসার মেয়াদ বাড়াতে পারবেন? বা এ বিষয়ে বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস কী সহযোগিতা করবে?

তৌফিক হাসান: সেটা অবশ্য আমি এক্ষুনি বলতে পারবো না। আর আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিষয়টার গভীরতা বুঝে ডিসিশন নেবো।

কলকাতায় যেসব বাংলাদেশিরা বর্তমানে এসেছেন তাদের মধ্যে একটা আতঙ্ক কাজ করছে যে নির্ধারিত দিন থেকে ১৫ এপ্রিল শেষ না হাওয়া পর্যন্ত হয়তো প্রয়োজনে তারা বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন না। এটার সত্যতা কতটা?

তৌফিক হাসান: এরকম কোনো বিষয় নেই। যেসব বাংলাদেশি, ভারতে অবস্থান করছেন তারা তাদের প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে আমি বিমানের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি বেসরকারি প্লেনগুলো আপাতত ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলাচল বন্ধ রাখবে। যারা কলকাতা থেকে গেছেন তাদের ফেরত নিতে দু-একটি স্পেশাল ফ্লাইট থাকতে পারে। তবে সেটা ওয়ানওয়ে হবে। সেটা শুধু কলকাতা টু ঢাকা। তা ডিপেন্ড করবে ডিমান্ডের ওপর। কতজন আছেন এবং কতজন ফেরত যেতে চায় তার ওপর।

প্লেনে তো সব মানুষ যাতায়াত করে না। বাস ও রেলপথে বেশি যাতায়াত করেন। সেটাও কি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। আপনার কাছে এরকম কোনো খবর আছে?

তৌফিক হাসান: বিষয়টি নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা আছে। তবে এটা মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশিদের ভারতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা হয়েছে, বাংলাদেশের তো এরকম কোনো নিষেধাজ্ঞা হয়নি। যারা বাংলাদেশি কলকাতায় আছেন তাদের বাংলাদেশে ফেরত যাওয়ার কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে ১৪ ও ১৫  তারিখ গেলে বোঝা যাবে বিষয়টা।

বাংলাদেশ সরকার তো বিদেশি ভিসা বন্ধ করেনি। সেক্ষেত্রে কোনো ভারতীয় বাংলাদেশে যেতে চাইলে, দু’দেশের ইমিগ্রেশন কি তাকে আটকাবে?

তৌফিক হাসান: শুক্রবার (১৩ মার্চ) পর্যন্ত আমি কোনো সমস্যা দেখিনি। কাল, পরশু গেলে বোঝা যাবে আসলে বিষয়টা কী! কারণ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে তো কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এরকম কোনো নির্দেশনা এখনো পর্যন্ত নেই।

বলা হচ্ছে বহু মানুষের সমাগম যেন না হয়। কিন্তু এই উপদূতাবাস চত্বরে ভিসার জন্য ভিড় হয়। ভিড় ঠেকানোর বিষয়টাকে আপনারা কীভাবে মোকাবিলা করছেন?

তৌফিক হাসান: প্রথমেই বলে রাখি ইদানীং কিন্তু ভারতীয় ভিসা আবেদনকারীর ভিড় অনেকটাই কমেছে। এখানের লোকজনের মধ্যে একটা সচেতনতা এসেছে। আপনি যদি দেখেন, বাংলাদেশে তিনজনের ভাইরাস ধরা পরলেও দুজনের নেগেটিভ রেজাল্ট এসেছে। কিন্তু ভারতে ৭০ প্লাস করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এবং দুজন মারাও গেছেন। সেই হিসেবে ভারতে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগটা বেশি। তাই বিশাল লাইন আগের থেকে অনেকটাই কম। তবুও আমাদের ভিসা কাউন্টার খোলা আছে। কাউন্টারে যারা বসেছেন তাদের মাস্ক দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদি দেওয়া হয়েছে। যতটা সম্ভব লোকজনকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করছি যাতে তারা ভিসা না নেয়। এভাবেই যতটা পারছি মোকাবিলা করছি।

করোনার কারণে ১৭ মার্চ ঢাকার মতো কলকাতায় মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানের পরিকল্পনায় কি কোনো পরিবর্তন হয়েছে?

তৌফিক হাসান: কলকাতায় ১৭ মার্চ থেকে শুরু করে পরপর তিনদিন জমকালো অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ছিল। ১৮ ও ১৯ তারিখেরটা বাতিল করা হয়েছে। তবে এটাকে ঠিক বাতিল বলবো না, বলতে পারেন সাময়িকভাবে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেহেতু গোটা বছরটাই মুজিববর্ষ উদযাপন করা হবে, সে কারণে ভবিষ্যতে আমরা সুবিধাজনক সময় অনুষ্ঠানগুলো করবো।

সেক্ষেত্রে ১৮ এপ্রিল তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের উপস্থিতিতে কলকাতায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসবও কি পিছিয়ে যাবে?

তৌফিক হাসান: এখন অনেক কিছু নির্ভর করছে সামনের দিনগুলো কীভাবে যায় তার উপর। এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ
সাক্ষাৎকার বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর