• শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ৮ ১৪২৭

  • || ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

দৈনিক গোপালগঞ্জ
২১

ভূ-রাজনীতিতে ক্রমেই বাড়ছে বাংলাদেশের গুরুত্ব

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২০  

করোনার সংক্রমণে সারা বিশ্ব এখন বিপর্যস্ত। কম বেশী অস্থিরতায় সবাই। সেটা হউক বাংলাদেশের ধর্ষণ বিরোধী বিক্ষোভ কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্লাক লাইভ ম্যাটারস’। ধনী, দরিদ্র সবাই যেন এক অস্থির সময় পাড় করছে। কিন্তু এতো অস্থিরতার মধ্যে আশা জাগাচ্ছে বাংলাদেশ। যেই বাংলাদেশকে শুধু সম্ভাবনাময় বলা হতো। বাংলাদেশ যেন আজ সেই সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে।

‘৭১ এর এই যুদ্ধ শিশু ক্রমেই জানান দিচ্ছে তার অস্তিত্ব। পাকাপোক্ত করছে তার অবস্থান।করোনার মধ্যে অনেকটাই বন্ধ রয়েছে আন্তঃরাষ্ট্রীয় যোগাযোগ। কূটনীতিক সম্পর্কের বিষয় তো বটেই। কিন্তু এই করোনা যেন বাংলাদেশের সৌভাগ্যের দ্বার খুলে দিল। মহামারির মধ্যে সবচেয়ে বড় দুটি বিদেশি বিনিয়োগ করল চীন। দেশে এর আগে এতো বড় বিনিয়োগের নজির নেই। বিশ্ব জুড়ে বিদেশি বিনিয়োগ সংকুচিত করছে বড় বড় পুজিবাদী কোম্পানি। কিন্তু বাংলাদেশে এর উল্টোটাই ঘটল। করোনায় যেখানে সবাই বিনিয়োগ গুটিয়ে নিচ্ছে। সেখানে দেশে বিনিয়োগের রেকর্ড তৈরি হল।

ঘটনাটা এখানেই শেষ হতে পারত। তৃতীয় বিশ্বের অনুন্নত দেশ। উন্নয়নশীল হওয়ার পথে। তারপরে উদ্বাস্তু, বেকারত্ব সহ নানা সমস্যার জর্জরিত। কিন্তু না। চীন যেন এই গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিল। করোনা মাথায় নিয়ে ঢাকায় ছুটে এলেন ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব হর্সবর্ধন শ্রীংলা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিশেষ বার্তা নিয়ে আসলেন তিনি। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিলেন। সেইসাথে সরিয়ে নিলেন ভারতের প্রধান কূটনীতিককে। এটা যে, রীভা গাঙ্গুলীর কূটনীতিক ব্যর্থতার কারণেই ঘটেছে, তা সহজেই অনুধাবন করা যায়। এর প্রধান কারণ দোরাইস্বামীর তৎপরতা। করোনার মধ্যে ফ্লাইটে না এসে স্থলপথেই এলেন এই কূটনীতিক। সেইসাথে একের পর চমকও দেখাচ্ছেন। আন্তরিকতা দিয়ে নিজের সরব উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। সেইসাথে দ্বি-পাক্ষিক স্পর্শকাতর বিষয়গুলো সমাধানের প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন।

বাংলাদেশকে এতোটা গুরুত্ব প্রতিবেশি ভারত সম্ভবত এর আগে কখনো দেয়নি। এই করোনার সময়ে যতোটা দিয়েছে। কিন্তু এবার তো চলে এলেন খোদ মার্কিন উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন ই বিগান। অনেক বড় বড় সমস্যার সমাধানেও যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ সহকারি বা বিশেষ দূত হিসেবে কোন রাষ্ট্রীয় কর্মচারীকে পাঠায়। দীর্ঘদিন ধরে তাই দেখে আসছি। কিছুদিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও ভালো করে বাংলাদেশকে চিনতেন না। প্রিয়া সাহার অভিযোগের সময় ট্রাম্প জানতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশ কোথায়। আর সেই দেশের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী করোনা মাথায় নিয়ে ছুটে এসেছে বাংলাদেশে।

শুধু কি তাই। যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে কৌশলগত দিক থেকে বাংলাদেশকে পাশে চায়। তিন দিনের এই সফরে এমনটাই জানান তিনি। এক সময় শেতাঙ্গরা আমাদের শাসন করেছে। আর আজ আত্মীয়তার সম্পর্ক করতে বিপদ মাথায় নিয়ে ছুটে এসেছে। অস্থিরতার ই সময়ে বাঙালি বাংলাদেশি এর গুরুত্ব বুঝবে কিনা জানি না! শুধু এই টুকুই বলব, একজন বাঙালি হিসেব একজন বাংলাদেশি হিসেবে আজ গর্বই হচ্ছে। ভূ-রাজনীতিতে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে আমার প্রিয় স্বদেশ, জন্মভুমি বাংলাদেশ।

আর বাড়াবো না। শেষ করব অকাল প্রয়াত কবি সুকান্তের ‘দুর্মর’ কবিতার কয়েকটি ছত্র দিয়ে...    
সাবাশ বাংলাদেশ, এ পৃথিবী
অবাক তাকিয়ে রয়,
জ্বলে-পুড়ে-মরে ছারখার
তবু মাথা নোয়াবার নয়!

এবার লোকের ঘরে ঘরে যাবে
সোনালী নয়কো, রক্তের রঙ্গীন ধান
দেখবে সকলে সেখানে জ্বলছে
দাউ দাউ করে বাংলাদেশের প্রাণ।     

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর