• মঙ্গলবার   ০২ মার্চ ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ১৮ ১৪২৭

  • || ১৯ রজব ১৪৪২

দৈনিক গোপালগঞ্জ

মেনোপজ চলাকালীন মহিলাদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০২১  

অধিকাংশ নারীরই ৪৫ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে মেনোপজ এর (দীর্ঘস্থায়ী ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া) ঘটনা ঘটে। এই সময় শরীরে হরমোনের অনেক পরিবর্তন হয়। শরীর জ্বালাপোড়া করা, ঘুমের অসুবিধা, ভ্যাজাইনায় অস্বস্তি, মেজাজের ওঠানামা-এগুলো মেনোপজের সময় হয়ে থাকে।

মেনোপজ এর সময়ে মহিলাদের ক্যালশিয়ামে ভর্তি খাবার খাওয়া খুবই প্রয়োজন। সঙ্গে পরিমিত ডায়েট এবং শরীর চর্চা করাও দরকার। যোগাসন করতে পারেন। 

মেনোপজের লক্ষণঃ

একেকজনের ক্ষেত্রে মেনোপজের লক্ষণ সাধারণত একেক ধরনের হয়ে থাকে। তবে মেনোপজের প্রচলিত লক্ষণ হলো হট ফ্লাস বা গরম ঝলকানি এবং ওজন বেড়ে যাওয়া।

হট ফ্লাসের সময় মুখ, গলায় লালা ভাব হতে পারে, ঘাম হতে পারে।

এই অনুভূতি কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়। এই সময়ে দুর্বলতা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি হতে পারে।

সারা দিনে হট ফ্লাস কয়েকবার অনুভূতি হতে পারে। এ ছাড়া অত্যধিক ঘামের কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

হাড়ের ক্ষয় হয়ঃ

গবেষণায় বলা হয়, মেনোপজের সময় হাড়ের ক্ষয় হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই সময় নারীদের বেশি করে ক্যালসিয়াম-জাতীয় খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

তাই দুধ, পনির, দই, ডিম ইত্যাদি খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। এই খাবারগুলো হাড়ের স্বাস্থ্যকে ভালো করবে। 

হার্টের জন্য ঝুঁকিঃ

মেনোপজের সঙ্গে হৃদরোগের সম্পর্ক রয়েছে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে এই সময় হার্টকে ভালো রাখা যায়।

মূলত স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস পালন করা মেনোপজের সময় ভালো থাকার চাবিকাঠি। 

মাথাব্যথাঃ

কখনো কখনো মেনোপজের সময় মাথাব্যথার সমস্যা হতে পারে। হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে এমনটি হতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি কমে যায়।

মেনোপজ চলাকালীন ডায়েটঃ 

 মেয়েরা সারাজীবনই স্বামী বা পরিবারের বাইরে নিজের খেয়াল রাখার কথা ভুলে যান। অনেক সময় ঠিক মতো খাওয়া দাওয়াও করেন না। কিন্তু মেনোপজের সময় কিন্তু বিশেষ যত্ন দরকার।

কারণ মেয়েদের মধ্যে ক্যালসিয়ামের অভাব দেখা যায়। তাই, এই সময় একেবারে ব্যালেন্স ডায়েট প্রয়োজন৷

অর্থাৎ খুব বেশি খাবারও নয় আবার খুব কম খাবারও নয়।

ফল অবশ্যই খেতে হবে। এছাড়া দু’বেলা টক দইয়ের লাস্যি৷ দুধ আর দুধ জাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে।

তবে অবশ্যই সুগার বা অন্যান্য কোন রোগ রয়েছে কিনা তা দেখে নিতে হবে।

একটা সঠিক চিকিৎসার প্রয়োজন। মেনোপজ হচ্ছে মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো খাওয়া দাওয়া করলে এ নিয়ে তেমন কোন সমস্যাই থাকবে না ৷

মেনোপজের সময় মানসিক আশংকা দূর করতে করণীয়ঃ 

অনেকে মনে করেন পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যাওয়া মানেই যৌবন চলে যাওয়া। সেই কারণে অনেক মহিলাদের মধ্যে অবসাদ দেখা দেয় ৷ তবে এটা পুরোটাই তাদের কাল্পনিক ধারণা।

এসময় গর্ভধারনের আশংকা নেই বলে স্বামীর সঙ্গে খোলামেলা সম্পর্ক স্থাপনে কোন সমস্যা হয় না এবং নির্দ্বিধায় যৌনতা উপভোগ করা সম্ভব।

মেনোপজের সময় মন ভালো রাখার জন্য মেয়েদের নিজেদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। নিজের প্রতি ভালোভাবে খেয়াল রাখার জন্য যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশী জরুরি তাহলো নিজের কর্মজগৎ ৷

এ সময় মানসিক অবসাদ থেকে রক্ষা পেতে তাঁকে অবস্যই বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে।

প্রকৃতির সাধারণ নিয়মে যেমন একজন কিশোরী নির্দিষ্ট বয়সে পরিপূর্ণ নারীতে পরিণত হয়ে সন্তান ধারণের ক্ষমতা অর্জন করে, তেমনি একসময় মেনোপজের মাধ্যমে সন্তান ধারণ ক্ষমতার সমাপ্তি ঘটে।

মেনোপজ কোন অসুখ নয় বরং এটি একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া।

শারীরিক অসুস্থতা না হলেও যদি এর উপসর্গগুলো মারাত্মক আকার ধারণ করে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ