• রোববার   ০৭ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২৪ ১৪২৭

  • || ১৫ শাওয়াল ১৪৪১

দৈনিক গোপালগঞ্জ
১১৮৫

যশোরে হবে করোনা পরীক্ষা, অনুমতি পেলো যবিপ্রবি

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০২০  

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। হাসপাতালের বাইরে দেশের কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এই প্রথম করোনা ভাইরাস পরীক্ষার সরকারি অনুমতি পেলো।

গত শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে যবিপ্রবি উপাচার্য ড. মো. আনোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোভিড-১৯ টেকনিক্যাল কমিটি ল্যাবরেটরি ইনভেস্টিগেশনের সভাপতি ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন)  অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টারে করোনা পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অতিদ্রুত সেখানে নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হবে। তারা পরীক্ষা করে দেবেন।

উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন আরও জানান, যবিপ্রবি জিনোম সেন্টারে ২০১৯ সালে সংগ্রহ করা বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির পিসিআর মেশিন রয়েছে। একসঙ্গে এখানে ৯৬ জনের পরীক্ষা সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চারজন শিক্ষক করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করবেন। তারা ছাড়াও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দুইজন শিক্ষক এই ল্যাবে কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। তাদেরও প্রশিক্ষিত করে ল্যাবে যুক্ত করা হবে।

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি থাকায় তিনি নিজে এবং শিক্ষকরা ঢাকা, ফরিদপুরসহ অন্যান্য এলাকায় অবস্থান করছেন। তাদের সঙ্গে নিয়ে রোববার (১২ এপ্রিল) তিনি যশোর পৌঁছাবেন। আর পার্সোনাল প্রটেকশন ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই), কীট ও রোগীর নমুনা সরবরাহ করা হলে তারা আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যেই পরীক্ষা শুরু করতে পারবেন। ল্যাবটি ২৪ ঘণ্টা চালু রাখারও সক্ষমতা তাদের রয়েছে। প্রতিদিন ২শ রোগীর নমুনা এখানে পরীক্ষা সম্ভব। তবে নমুনা বারে বারে না পাঠিয়ে এক বা দুইবার পাঠানো হলেই কাজ দ্রুত সম্ভব হবে। দিনের দিনই পরীক্ষার ফলাফল তারা দিতে পারবেন।

উপাচার্য জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে ২০১১ সাল থেকে তিনি করোনার আরএমএন ভাইরাস পরীক্ষা শুরু করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ল্যাবেও ৩৮টি নমুনা পরীক্ষা সম্ভব।

ড. আনোয়ার জানান, যবিপ্রবির ল্যাবটি ইতোমধ্যে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ও যশোরের সিভিল সার্জন পরিদর্শন করেছেন। শনিবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি এবং শিক্ষা সচিবের সঙ্গেও তার কথা হয়েছে। আইইডিসিআর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার সঙ্গেও এ নিয়ে তার কথা হয়েছে।

উপাচার্য আরও বলেন, তাদের ল্যাবে শুধু পরীক্ষইই নয়, তারা দেশের যেকোনো স্থানে পরীক্ষা চালুর প্রশিক্ষণ দেওয়ার সক্ষমতাও রাখেন। সরকারের সিগন্যাল পেলে মহামারির এই দুর্যোগ মোকাবিলায় তারা তাদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে প্রস্তুত।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ
আঞ্চলিক বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর