• শনিবার   ০৬ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪২৭

  • || ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

দৈনিক গোপালগঞ্জ
৫৮

রাজশাহীর রেশম শিল্পে করোনার প্রভাব

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ৪ মার্চ ২০২০  

চীনের মরণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়েছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী রেশম বা সিল্কেও। রেশম পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চীনা সুতা নির্ভর হওয়ায় তৈরি হয়েছে সঙ্কট। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি কমায় বৃদ্ধি পেয়েছে সুতার দাম। ফলে কমেছে উৎপাদন। এতে পহেলা বৈশাখ ও ঈদ-পূজার বাণিজ্য নিয়ে শঙ্কিত তারা। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশে বেশিমাত্রায় রেশম সুতা উৎপাদনে সরকারি উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ ব্যবসায়ীদের।

আভিজাত্য ও অনিন্দ্য সুন্দর রেশমি পোশাক মানেই রাজশাহী। দেশি সুতায় তৈরি হয় অপেক্ষাকৃত কম জৌলুস সিল্ক পোশাক। আর আকর্ষণীয় পোশাক তৈরি হয় চীনা সুতায়। ফলে উৎপাদনের জন্য চীন থেকে ৮০ শতাংশ সুতা আমদানি করে নগরীর বিসিকসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্ধশতের বেশি রেশম হাউজ। বর্তমানে চীনে করোনার প্রাদুর্ভাবে কমেছে সুতার আমদানি। ফলে কমেছে উৎপাদন, বেড়েছে দাম। কর্ম ঘণ্টা কমে যাওয়ায় বিপাকে সিল্ক শ্রমিকরাও।
চীন থেকে সুতা আমদানি কমে যাওয়ায় কারখানাগুলো চলছে মজুদ সুতায়। এরইমধ্যে বেড়েছে আমদানি সুতার দাম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় পোশাকের দামও বাড়বে। তাদের শঙ্কা পহেলা বৈশাখ-ঈদ-পূজাসহ চারটি উৎসবে ক্রেতার চাহিদার তুলনায় কমবে সরবরাহ।
রাজশাহী সিল্ক ফ্যাশনের চেয়ারম্যান খুরশিদা খাতুন খুশি বলেন, আমরা যে ৮০ ভাগ সুতা চীন থেকে নেই তা হয়তো আর নেয়া সম্ভব হবে না।
এ অবস্থা উত্তরণে স্থানীয়ভাবে রেশম উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারি উদ্যোগ বৃদ্ধি ও ভর্তুকির দাবি রেশম সংশ্লিষ্টদের।
বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মো. লিয়াকত আলী বলেন, এখন পর্যন্ত এখানে সরকারি বড় কোনো সাহায্য আসেনি, তবে যদি সাহায্য দেয়া হয় তাহলে তিন বছরের মধ্যে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে আমরা সিল্ক রফতানি করতে পারব। 
দেশে বার্ষিক রেশম সুতার চাহিদা প্রায় সাড়ে ৩শ’ মেট্রিক টন। আর উৎপাদন হয় মাত্র ৪০ মেট্রিক টন।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ