• রোববার   ০৯ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৫ ১৪২৭

  • || ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

দৈনিক গোপালগঞ্জ
২৫৬

রোজা রেখে ভাবতাম বড় হয়ে যাচ্ছি : সোহানা সাবা

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২০  

তারকাদের সকল বিষয় নিয়েই তাদের ভক্তদের আগ্রহ থাকে অনেক। অনেকেই মনে করেন মিডিয়াতে কাজ করা তারকারা ধর্ম থেকে দূরে থাবেন। এটা ভুল ধারণা। আসলে সব তারকাই যার যার ধর্ম পালন করেন।

মুসলিম তারকারাও রোজা রাখেন। সবার মতো তাদেরও আছে রোজা রাখার অনেক মজার স্মৃতি। যা ফেলে আসা শৈশবে পড়ে আছে সোনালি স্মৃতি হয়ে। অভিনেত্রী সোহানা সাবা রোজা নিয়ে কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো আলাপের চুম্বক অংশ-

প্রথম রোজা কবে রেখেছিলেন মনে পড়ে?
সোহানা সাবা : আমি তখন ক্লাস ওয়ানে পড়তাম। ১৯৯১ সালের কথা। একরকম জোর করে রোজা রেখেছিলাম। কারণ তখন আমি খুব ছোট । বড়রা রোজা রাখতে দিতে চাইত না। তবে বড়রা যা করে সেটা করতে পারার ভেতরে একটা আনন্দ ছিল। মনে হতো বড়দের মতো আমিও রোজা রাখতে পারলে মনে হয় বড় হয়ে যাব।

আপনার কোনো বড় ভাই, কিংবা বোন ছিলো যার সঙ্গে রোজা রাখার প্রতিযোগীতা করতেন?
সোহানা সাবা : আমার ভাই আর আমি পিঠাপিঠি ছিলাম। ওর সঙ্গে আমার একটা কম্পিটিশন ছিল। ও আমার থেকে ১৫ মাসের বড়। ভাবতাম, তুই রোজা রাখতে পারছিস আর আমি পারব না। আমি তো ক্লাস ওয়ানে পড়ি, আমার ভাই পড়তো ক্লাস থ্রিতে। দুই জনই প্রথম রোজা রাখছি সেইবার। আমার মনে আছে আমি ১৪ টা রোজা রেখেছিলাম। আমার ভাই রেখেছিল ১৩টা। ভাইকে হারিয়ে বেশ আনন্দ হয়েছিলো।

সেই সময়ের আর মজার কোনো স্মৃতি মনে পড়ে?
সোহানা সাবা : রোজার সময় আমাদের বাসায় নানি বেড়াতে এসেছিল। সেই সময় আমরা আজিমপুরে থাকতাম। রোজা রেখে ভাবতাম,আমি বড় হয়ে যাচ্ছি। একটা অন্যরকম ব্যাপার ছিল। সেই সময়গুলো এখনো খুব মিস করি।

ওই সময়ের পরিবেশটা অনেক সুন্দর ছিল, ইফতারের সময় আমাদের বাসায় ইফতার বানানো হতো। সেটা আমরা পাশের বাসায় দিয়ে আসতাম। আবার পাশের বাসায় ইফতারি তৈরি হলে আমাদের বাসায় দিয়ে যেত। পাড়া-প্রতিবেশীরা একে অপরের খোঁজ খবর নিতো। পাড়া-প্রতিবেশীরা আত্মার আত্মীয় ছিল তখন।

ছোটবেলার রোজা ও এখনকার রোজার মধ্যে কী পার্থক্য চোখে ধরা পড়ে?
সোহানা সাবা : এখন খাওয়া-দাওয়ার বহরটা অনেক বেড়ে গেছে। বাইরে সেহেরি ইফতারের পার্টি হয়। এসব বড় আয়োজন বেশি বড় হয়ে ধরা দিচ্ছে এখন। আমার খুব ভাল মনে আছে তখন বাড়িতে বাড়িতে ফিক্সড ফকির রাখা হতো। সন্ধ্যার সময় তারা ইফতার নিতে আসত। সব বাসাতেই এটা একটা ট্রেন্ড ছিল।

ছোটরা রোজা রাখতে চাইছে কিন্তু সেহরির সময় বড়রা ঘুম থেকে ডাকতো না এরকম ঘটনা কি ঘটেছে আপনার ক্ষেত্রে?
সোহানা সাবা : প্রথম যে বছর আমি রোজা রেখেছি সেই বছর আমার সঙ্গে এমন ঘটনা অনেক ঘটেছে। তখন আমি যেটা করতাম; না খেয়ে রোজা রাখতাম। যখন বাবা-মা আমার রোজা রাখার প্রতি ভীষণ আগ্রহ দেখলেন, তখন আমাকে ঠিকই ঘুম থেকে ডেকে তুলতেন।

কেমন ছিল সেই সময় ইফতারির রেওয়াজ?
সোহানা সাবা : বাইরে থেকে ইফতারি কিনে আনার কোনো ট্রেন্ড ছিল না তখন। বাসাতেই সব কিছু বানানো হতো। তখন খুব সাধারণ ছিল সবকিছু। নয় দশ বছর আগেও কিন্তু সবকিছু খুব সাধারণ ছিল এখন নতুন করে অনেক পরিবর্তন এসেছে।

এ বছর যে পরিস্থিতির মধ্যে আমরা রোজা রাখছি, এমন পরিস্থিতি তো আগে কখনো পড়িনি আমরা। এবারের রোজা কেমন কাটছে কিভাবে কাটছে?
সোহানা সাবা : সত্যিকার অর্থে ব্যাপারটাকে আমি মেনে নিয়েছি। বাস্তব পরিস্থিতি মেনে না নিলে সবকিছুই খুব ট্রিপিক্যাল হয়ে যায়। এখন আমাদের ঘরে থাকা ছাড়া কোন উপায় নেই। আমাদের ঘরে থাকতেই হবে। এমনিতেও চৈত্র, বৈশাখ, জৈষ্ঠ, এই তিন মাস শুটিং করতে আমার তেমন ভালো লাগে না। প্রচুর গরম থাকে থাকে এই সময়। এবার সেগুলো করা লাগছে না।

সাধারণত সেহরিতে ও ইফতারিতে কোন ধরনের খাবার খেয়ে থাকেন?
সোহানা সাবা : খুব বেশি ভাজাপোড়া আমি খেতে পারি না ছোটবেলা থেকেই। এখন বাসায় মা যেসব ইফতার ও সেহরি তৈরী করেন সেগুলোই খাই। আমি খুবই সাধারণ খাবার খায় সব সময়। আমাকে সাধারণ একজন ভেতো বাঙালি বলতে পারেন।

এবারের রমজানে বিশেষ কি প্রার্থনা করছেন প্রভুর কাছে?
সোহানা সাবা : রিসেন্টলি আমার বাবাকে হারিয়েছি। সব সময় ভীষণ মনে পড়ছে বাবার কথা। তাই প্রার্থনা করতে গেলে বাবার কথা মনে হচ্ছে। বাবার জন্য অনেক দোয়া করছি। বাবা যেখানে আছেন যেন ভাল থাকেন। রোজার সময় বেহেশতের জানালা খুলে দেওয়া হয়। আর কবরবাসীরা সেই জানালার বাতাস পান। আর সব সময় দোয়া করছি, জরুরী পৃথিবীর সুস্থ হোক।

আপনার ছেলের বয়স কত হলো রোজা কেমন কাটছে ওর?
সোহানা সাবা : ছেলের বয়স ৫ বছর পার হয়েছে। আমার ছেলে স্বরবর্ণ, মা, ভাই, সবাই একসঙ্গে আছি। সেহেরির সময় ঘুম ভেঙে যায় ওর। রোজা রাখতে চাই। আসলে এই বয়সে রোজা রাখা সম্ভব না। বড় হলে অবশ্যই রাখবে।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
সোহানা সাবা : আপনাকেও ধন্যবাদ।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ
সাক্ষাৎকার বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর