• শুক্রবার   ০৫ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২২ ১৪২৭

  • || ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

দৈনিক গোপালগঞ্জ
২০০৭

রোববার থেকে ১০ টাকায় চাল বিক্রি

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ৪ এপ্রিল ২০২০  

সারাবিশ্বে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাস সংক্রমণ দেখা দিয়েছে এবং এর প্রতিরোধে সরকার বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ওএমএস এর মাধ্যমে ভোক্তা পর্যায়ে চালের মূল্য প্রতিকেজি ১০ টাকা নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত হয়। এ অবস্থায় খাদ্য মন্ত্রণালয় পরিচালিত ওএমএস খাতে চালের এক্স গুদাম মূল্য ৮ টাকা এবং ভোক্তা পর্যায়ে ১০ টাকায় পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

মন্ত্রণালয় থেকে খাদ্য অধিদপ্তরে পাঠানো এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে:

১। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধকল্পে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট কর্মহীন মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বিশেষ এ ওএমএস কর্মসূচি চলমান ওএমএস (আটা) কর্মসূচির অতিরিক্ত হিসেবে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত চলমান থাকবে।

২। করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের লক্ষ্যে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিকালে জনসাধারণ ঘরে অবস্থান করায় সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এর ফলে তাদের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। দিনমজুর, রিকশা চালক, ভ্যানচালক, পরিবহন শ্রমিক, ফেরিওয়ালা, চায়ের দোকানদার, ভিক্ষুক, ভবঘুরে, তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়সহ অন্যান্য সব কর্মহীন মানুষকে এর আওতায় এনে এ বিশেষ ওএমএস কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।

৩। কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভোক্তার বিস্তারিত তথ্য সংবলিত মাস্টাররোল (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মোবাইল নাম্বারসহ) সংরক্ষণ করতে হবে।

৪। একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তিকে ভোক্তা হিসেবে নির্বাচন করা যাবে না। এছাড়া উক্ত পরিবারের কেউ যদি খাদ্যবান্ধব অথবা ভিজিডি কর্মসূচির উপকারভোগী হয়ে থাকেন তাহলে তিনি এ কর্মসূচির আওতায় ভোক্তা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না।

৫। জেলা ও বিভাগীয় শহরের কেন্দ্রে প্রতি দুই মেট্রিক টন এবং ঢাকা মহানগরের কেন্দ্র প্রতি তিন মেট্রিক টন করে চাল দৈনিক বিক্রি করা যাবে।

৬। জেলা ও বিভাগীয়/ঢাকা মহানগরীর ওএমএস বরাদ্দের পরিমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ওএমএস কমিটির (জেলা ও বিভাগীয়/ঢাকা মহানগরীর ওএমএস কমিটি) মাধ্যমে বিদ্যমান ওএমএস কেন্দ্রের সংখ্যা ঠিক রেখে বিক্রয়কেন্দ্রের স্থান পুনঃনির্ধারণ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী, শ্রমজীবীদের বসবাস কেন্দ্রের নিকটস্থ বস্তি এলাকায় অথবা পর্যাপ্ত খালি জায়গা আছে এমন স্থানকে অস্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করতে হবে।

৭। ভোক্তা প্রতি পাঁচ কেজি চাল বিক্রয় করতে হবে এবং একজন ভোক্তা জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে সপ্তাহে একবার মাত্র পাঁচ কেজি চাল ক্রয় করতে পারবেন।

৮। সপ্তাহে তিনদিন রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত বিক্রয় কার্যক্রম চালানো হবে।

৯। স্থানীয় প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা এর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা প্রতিনিধির উপস্থিতি/তদারকিতে বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

১০। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি পরিচালনপূর্বক বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

১১। ওএমএস নীতিমালায় বর্ণিত জেলা/বিভাগীয়/ঢাকা মহানগরীর কমিটি সার্বিক বিষয়টি মনিটরিং করবে।

১২। ডিলারগণ দৈনিক বিক্রয় প্রতিবেদন তদারকি কর্মকর্তার প্রতি-স্বাক্ষর গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট ওএমএস কমিটির সভাপতির নিকট পাঠাবেন।

উল্লেখ্য, ঢাকা মহানগরে মোট ৭৩ বস্তি আছে। এই বস্তি গুলোতে ৩৯,১৮০টি পরিবার আছে।  এখানে মোট জনসংখ্যা প্রায় ২ লাখ  ঢাকা জেলা প্রশাসন থেকে জানা যায়। এরা কেউ সরকারে খাদ্য সহায়তা পায়নি। ঢাকা মহানগরে ওএমএস ডিলার কেন্দ্রের সংখ্যা ১২০ টি। এই ডিলারদের তালিকা হতে ২৪ জন ডিলার বাছাই করে সপ্তাহে ৩ দিন পর্যায়ক্রমে ৭৩ বস্তি বা ৩৯,১৮০টি পরিবারকে বিশেষ ওএমএস ৫ কেজি চাল বিক্রয় করা হবে। এই সকল কেন্দ্রে কোন আটা বিক্রয় করা হবে না।

এ অবস্থায় পরীক্ষামূলকভাবে আগামীকাল রোববার এই বিশেষ ওএমএস কার্যক্রম ঢাকা মহানগরের ২টি কেন্দ্র দিয়ে শুরু হবে। এর মধ্যে একটি হলো ৭ নং ওয়ার্ড, শিয়ালবাড়ী, রুপনগর ঝিলপাড় বস্তি, মিরপুর অন্যটি সাততলা বস্তি, মহাখালী, ঢাকা।

এ কার্যক্রম জেলা প্রশাসন, ঢাকা, স্থানীয় সিটি কাউন্সিলর, আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয়/ খাদ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ঢাকা রেশনিং ওএমএস ডিলারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবে। এ কার্যক্রম সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয় বর্তমান দেশের করোনা ভাইরাস আক্রমণের পরিস্থিতির কারণে সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ কার্যক্রমে কোন উদ্বোধনি অনুষ্ঠান হবে না।

পাশাপাশি আজ শনিবার (৪ মার্চ) থেকে যথারীতি ওএমএস-এ আটা ১৮ টাকা কেজি দরে প্রতি কেন্দ্র হতে ১ হাজার কেজি বিক্রয় করা হবে। কেন্দ্র সংখ্যা হবে ৯৬টি এবং সপ্তাহে ৬ দিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর