• শুক্রবার   ১৬ এপ্রিল ২০২১ ||

  • বৈশাখ ৩ ১৪২৮

  • || ০৫ রমজান ১৪৪২

দৈনিক গোপালগঞ্জ

শহিদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর স্ত্রী মারা গেছেন

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ২ মার্চ ২০২১  

শহিদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর স্ত্রী ও প্রয়াত সাংবাদিক মিশুক মুনীরের মা নাট্যাভিনেত্রী লিলি চৌধুরী মারা গেছেন। সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর বনানীর বাসায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।

মুনীর চৌধুরীর ছোট ছেলে আসিফ মুনীর তন্ময় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরো জানান, আত্মীয়-স্বজনদের দেখার জন্য তার মায়ের মরদেহ বাসায় রাখা হবে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। এরপর সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তার মরদেহটি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে রাখা হবে। জোহরের পর জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে ছেলের কবরের পাশে লিলি চৌধুরীকে দাফন করা হবে।

লিলি চৌধুরী ১৯২৮ সালের ৩১ আগস্ট টাঙ্গাইলের জাঙ্গালিয়া গ্রামে নানা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। বাবার নাম নূর মোহাম্মদ মির্জা। সেজন্য প্রথমে তার নাম ছিল লিলি মির্জা। সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় বারবার বদলি হতেন তার বাবা। তাই তৃতীয় শ্রেণি থেকে হোস্টেল জীবনে পদার্পণ করেন লিলি। কলকাতায় বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠিত সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলে তাকে ভর্তি করেন নূর মোহাম্মদ মির্জা।

সপ্তম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় রবীন্দ্রনাথের নাটকে প্রথম অভিনয় করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল কিছুদিনের জন্য বন্ধ হয়। তখন দিল্লিতে বাবা মায়ের কাছে চলে গিয়ে ভর্তি হন ইন্দ্রপ্রস্থ গার্লস হাই স্কুলে। তবে অভিনয়ের শখ তার দমে যায়নি। দুই বছর পর আবারো কলকাতায় ফিরে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল থেকেই প্রবেশিকা শেষ করে ভর্তি হন লেডি ব্রেবোর্ন কলেজে। সেখানে হোস্টেল জীবনেও কলেজের নাটকে নিয়মিত অভিনয় করেন লিলি। 

দেশ ভাগের সময় ১৯৪৮ সালে নূর মোহাম্মদ মির্জা ঢাকায় আসেন। তখন লিলি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। একপর্যায়ে মুনীর চৌধুরীর সঙ্গে লিলি মির্জার পরিচয় হয়। বাম রাজনীতিতে জড়িত মুনীর ১৯৪৯ সালের মার্চে গ্রেফতার হন। কারাগার থেকে পাঁচ মাস পর মুক্তি পেলে লিলি-মুনির বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন।

মহান মুক্তিযুদ্ধের শেষ ভাগে তাদের দেশীয় দোসরদের সহায়তায় বাঙালি শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ হাজারো বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। ১৪ ডিসেম্বর মুনীর চৌধুরীকে ধরে নিয়ে যায় আলবদর বাহিনী।

স্বাধীন দেশে কঠিন সংগ্রামের জীবন পার করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করা লিলি চৌধুরী। একটি চাকরির পাশাপাশি অভিনয় করতেন বেতার, মঞ্চ আর টেলিভিশনে।

মুনীর চৌধুরীর শুরু করা টেনেসি উইলিয়ামসের ‘স্ট্রিট কার নেমড ডিজায়ার’ নাটকের অসমাপ্ত অনুবাদ শেষ করেন লিলি। এছাড়া ‘দিনপঞ্জি-মনপঞ্জি-ডাকঘর’ শিরোনামে স্বামীর সঙ্গে তার পত্রালাপ আর দুজনের লেখা ডায়েরির সংকলন প্রকাশিত হয়েছে।

গুণী এ নাট্যব্যক্তিত্ব কাজের স্বীকৃতি হিসেবে নাট্যকার-নাট্যশিল্পী সংসদ, টেলিভিশন নাট্যশিল্পী নাট্যকার সংসদ ও বাংলাদেশ মানবাধিকার নাট্য পরিষদের সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ