• বুধবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ||

  • ফাল্গুন ১৪ ১৪২৬

  • || ০২ রজব ১৪৪১

দৈনিক গোপালগঞ্জ
সর্বশেষ:
ট্রেনে ট্রাভেল ব্যাগ থেকে চুইয়ে পড়ছিল রক্ত! গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ইউপি চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু
৬২

সমাজের কোনো পরত নেই যেখানে আবেদের কর্মকাণ্ডের বাতাস লাগেনি

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১ ডিসেম্বর ২০১৯  

বিশ্বের সর্ববৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ব্র্যাক’ এর প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ স্মরণে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস লিখেছেন, আবেদ চলে গেলো। কিন্তু তাকে বিদায় জানানো সম্ভব হবে না। সে আমাদের চিরসাথী হয়ে থাকবে। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছে। সমাজের কোনো পরত নেই যেখানে আবেদের কর্মকাণ্ডের বাতাস লাগেনি।

শনিবার নিজের ফেসবুক পেজের পোস্টে বাংলাদেশি এই নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদ আরো লিখেছেন, বাংলাদেশে সমাজের যে বিপুল পরিবর্তন হয়েছে আবেদ তার প্রধান রূপকার। সমাজের যত ভাঙ্গাচোরা অলিগলি, চোরাবালি, অলীক নিয়মনীতির ফাঁদ সর্বত্র ছড়িয়ে ছিল, সবকিছুতে আবেদ তার সৃজনশীল প্রতিভার ছোঁয়া লাগিয়েছে। এই ছোঁয়া লাগিয়ে সবকিছু পাল্টে দিয়ে তাকে নতুন কাঠামোয় নিয়ে আসাই ছিল আবেদের ব্রত।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরো লিখেন, এটা বললে বোধ হয় বাড়িয়ে বলা হবে না যে, বাংলাদেশের সতেরো কোটি মানুষের মধ্যে খুব কম মানুষই আছেন যিনি জীবনে কোনো না কোনোভাবে আবেদের কর্মকাণ্ডের সুফল ভোগ করেন নি। আর তিনি যদি হন বিশাল গ্রাম বাংলার দরিদ্রদের একজন, মহিলাদের একজন তাহলে তো তাকে জীবনের প্রতি পদক্ষেপে আবেদের সাক্ষাৎ পেতে হয়েছে- শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোজগার, আত্মোপলদ্ধি, আরো অনেক কিছুতে। আমাদের অজান্তে যে-আবেদ আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী তাকে আমরা বিদায় জানাবো কীভাবে?

আবেদ বাংলাদেশের গরীব মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির অসাধারণ কারিগর। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের আর্থিক দৈন্যের মুক্তিদাতা।

সে নিরবে তার বিশাল কর্মকাণ্ড গড়ে তুলেছে। সে মানুষকে ডাক দিয়ে বসে থাকেনি, একাই এগিয়ে গেছে। সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে। সে একাই এগিয়ে গেছে- একেবারে পুরো কাজটা সমাধা করার জন্য।

আবেদ সারা বিশ্বে এনজিও-র কনসেপ্ট বদলে দিয়েছে। একটি এনজিও দেশব্যাপী প্রায় সকল সমস্যার সামগ্রিক সমাধান দেবার জন্য এগিয়ে আসতে পারবে এরকম ধারণা ছিল একেবারে অকল্পনীয়। দেশে বিদেশে অসংখ্য রকম প্রতিষ্ঠান ও কর্মসূচি নিয়ে একটি বিশালায়তনের এনজিও-র ধারণা আবেদই দিয়ে গেলো। তার চাইতেও তার বড় অবদান একক এনজিও ও বহুমাত্রিক এনজিও-র ব্যবস্থাপনাকে একটা নতুন বিজ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়ে যেতে পারা। এই অবদান তাকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে। ভারত পাকিস্তান নেপাল শ্রীলংকার অর্থনৈতিক গবেষকদের কাছ থেকে বরাবরই একটি প্রশ্ন আসে: বাংলাদেশে যে যা-ই করে সেটা দেশব্যাপী করে ফেলে, আমাদের দেশে এরকম হয়না কেন? আমার বরাবরের জবাব ছিল তোমাদের দেশে তো এখনো আবেদের জন্ম হয়নি।

আবেদ একটি আত্মপ্রত্যয়ী বাংলাদেশ তৈরী করে দিয়ে গেছে। তার দুরন্ত সাহস, আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতার কাহিনী আগামী সকল প্রজন্মকে অনবরতভাবে শক্তি যুগিয়ে যাবে। বহু প্রজন্ম পরেও আবেদ তাদের কাছে বাংলাদেশ হয়ে বেঁচে থাকবে।

তুমি যে-বাংলাদেশ বানিয়ে দিয়ে গেছো তার বুনিয়াদের উপর দ্রুত আমাদের কাঙ্খিত বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব নেয়া পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সহজ হলো।

পরিশেষে ড. ইউনূস লিখেন- আবেদ, তোমার কাছে জাতি চিরকৃতজ্ঞ হয়ে থাকবে।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ