• বুধবার   ০৬ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ২২ ১৪২৯

  • || ০৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

দৈনিক গোপালগঞ্জ

উকিলের বিরুদ্ধে শাস্তি চেয়ে জেল থেকে ডেসটিনি এমডির অভিযোগ

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ৮ মার্চ ২০২২  

আইনজীবী হয়েও মক্কেলের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম. মাইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে অভিযোগ দাখিল করেছেন ডেসটিনির কারাবন্দি এমডি মোহাম্মদ রফিকুল আমীন।

আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে মঙ্গলবার (৮ মার্চ) ওই অভিযোগের একটি অনুলিপি সাংবাদিকদের হাতে এসেছে। 

মূলত বার কাউন্সিলের সচিব মো. রফিকুল ইসলাম বরাবর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম. মাইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স এবং বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ নম্বর ৩২ অনুযায়ী অভিযোগটি দাখিল করা হয়।

অভিযোগ পত্রে বলা হয়, আমি মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), বৈশাখী মিডিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নমিনি পরিচালক এবং ডেসটিনি মাল্টিপারপাজ কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড এর সাবেক সভাপতি বর্তমানে কলাবাগান থানার ৩২ এবং ৩৩ নম্বর মোকাদ্দমার পরিপ্রেক্ষিতে কারান্তরীণ।

‘আমি কারান্তরীণ থাকাবস্থায় আইনজীবী এম. মাইনুল ইসলামকে উক্ত মোকাদ্দমায় বিভিন্ন আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আইনজীবী হিসেবে ওকালতনামা সম্পাদন পূর্বক নিয়োগ করি। আইনজীবী এম. মাইনুল ইসলাম নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে আমার মামলা পরিচালনার নিমিত্তে মামলাসংশ্লিষ্ট বহু গোপনীয় তথ্যাদি গ্রহণ করেন এবং তিনি অদ্যাবধি আমার আইনজীবী হিসেবে নিয়োজিত আছেন (হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত ক্রিমিনাল আপিল নং ৭৪৫৯/২০১৫ এবং ৯২৯৫/২০১৫ এবং কোম্পানি ম্যাটার নং ১৬৬/২০০৯)।

‘সম্প্রতি আমার (রফিকুল আমীন) কাছে প্রকাশ পাচ্ছে যে, আইনজীবী এম. মাইনুল ইসলাম আমার স্বার্থের প্রতিকূলে নিজেকে নিয়োজিত করে কর্ম সম্পাদন করছেন। ওই আইনজীবী কতিপয় ভুয়া এবং স্বার্থবিহীন ব্যক্তি কর্তৃক আইনজীবী হিসেবে নিয়োজিত হয়ে আমার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড এবং বৈশাখী মিডিয়া লিমিটেডের নামে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নং ১১১০১/২০২১ এবং কোম্পানি ম্যাটার নং ৩০৮/২০২১ দায়ের করেন এবং ২০২১ সালের নভেম্বরে নিজেকে ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড এবং বৈশাখী মিডিয়া লিমিটেডের  আইন উপদেষ্টা হিসেবে উল্লেখ পূর্বক একটি দৈনিক পত্রিকায় ভুয়া ও বেআইনি নোটিশ প্রদান করেন, যা তার আইন পেশার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক এবং আইন পরিপন্থী (ক্যাননস অব প্রফেশনাল কন্ডাক্ট অ্যান্ড এটিকেট এর অধ্যায় ৪ এর ধারা নং ১ এবং ২ এর বিধান মতে) ।

এমতাবস্থায়, আইন পেশার  সঙ্গে সাংঘর্ষিক সব কাজে যুক্ত থাকা ওই আইনজীবীর সকল কার্যক্রম তদন্ত সাপেক্ষে উদঘাটন করার মাধ্যমে বার কাউন্সিল থেকে আইনজীবী এম. মাইনুল ইসলামের সনদসহ সদস্যপদ বাতিলের জোর আবেদন জানানো হয়েছে।

একইসঙ্গে ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠনপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও অনুরোধ জানিয়েছেন রফিকুল আমীন।

প্রসঙ্গত, আইন পেশার জন্য নির্ধারিত বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে অভিযোগ দাখিল করা যায়। সে অভিযোগ দাখিলের পরিপ্রেক্ষিতে বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করাসহ বিচারে অভিযুক্ত আইনজীবীর সনদ স্থগিত, বাতিলসহ বিভিন্ন সাজা প্রদান করে থাকে।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ