• শনিবার   ২৩ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ৮ ১৪২৮

  • || ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

দৈনিক গোপালগঞ্জ

বদলে গেছে বেনাপোলের চিত্র

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১  

দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৩ সালে বেনাপোল স্থলবন্দর পরিদর্শনে এসেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তখন বেনাপোল দিয়ে ভারতের সঙ্গে পণ্য আমদানি-রফতানি হতো যৎসামান্য। তখনকার বেনাপোল আর আজকের বেনাপোল এক নয়, বদলে গেছে এর সার্বিক চিত্র। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর উন্নয়নের জোয়ার বইতে শুরু করে এ বন্দরে। বেনাপোল বন্দর, কাস্টম ইমিগ্রেশনসহ সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলাব্যাপী এই সরকারের আমলে কমপক্ষে দুই হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, দেশের স্থলপথে বাণিজ্যের দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় আর বেশি রাজস্ব আদায় হয়ে থাকে বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে। এই বন্দরের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৩ সালে। তখন এ বন্দরটি বাংলাদেশ ওয়্যার হাউজিং কর্পোরেশনের অধীনে ন্যাস্ত ছিল। সে সময় সীমিত আকারে এই বন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য হতো। পরবর্তীতে দুদেশের মধ্যে আমাদানি ও রফতানি বাড়তে থাকে। ফলে বিভিন্ন সরকার বন্দর উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তবে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে এ বন্দরের গুরুত্ব বাড়তে থাকে। মাঝে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এলে তা আবার পিছিয়ে যায়। এরপর ফের ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষামতায় আসলে বদলাতে শুরু করে এ বন্দরটির অবকাঠামো। বন্দরের রাস্তাঘাট, পণ্যগার থেকে শুরু করে সিসি ক্যামেরা ও অটোমেশনের আওতায় আনা হয় এ বন্দরটি। ফলে বাণিজ্য কার্র্যক্রমের গতি ত্বরান্বিত হয় বহুগুণে। সেই থেকে অধ্যবধি বন্দরে একের পর এক চলমান রয়েছে বিভিন্ন অবকাঠামো মূলক উন্নয়ন কাজ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেনাপোল স্থলবন্দরের গুরুত্ব অপরিসীম হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নে পিছিয়ে ছিল বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে। একটা সময় ছিল এ অঞ্চলের মানুষের একটা বড় অংশ জীবিকা নির্বাহ করত চোরাচালানি করে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে নানা রকম কর্মসংস্থান সৃষ্টির ফলে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আওয়ামী লীগ সরকার বেনাপোল স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে থাকে।

বেনাপোলের ব্যবসায়ীরা জানান, বেনাপোল স্থলবন্দর উন্নয়নে বর্তমান সরকার বরাবরই আন্তরিক। বর্তমান সরকারের আন্তরিকতায় এ পর্যন্ত এ বন্দর তথা এ অঞ্চলে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন ঘটেছে। যেখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ১০ হাজার মানুষের। ফলে আর্থিক স্বচ্ছলতা এসেছে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের। যা চোখে পড়ার মতো।

আগে বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্য রাখার জায়গা ছিল না। ভারত থেকে আমদানিকৃত কোটি কোটি টাকার মূল্যবান পণ্যসামগ্রী জায়গার অভাবে খোলা আকাশের নিচে রাখা হতো। যার ফলে পণ্যের গুণগতমান নষ্টের পাশাপাশি চুরি হয়ে যেত একটা অংশ। বন্দরের এহেন দুর্দশার কারণে লোকসানে পড়তে হতো ব্যবসায়ীদের। আগে একই সড়ক দিয়ে পণ্য আমদানি ও রফতানি হতো। আবার সেই সড়ক দিয়েই ভারত-বাংলাদেশের যাত্রী পারাপার হতো। ভোগান্তির শেষ ছিল না তখন। সেগুলো এখন আর চোখে পড়ে না। নতুন নতুন সড়ক তৈরি হয়েছে বেনাপোলে। শুধু বন্দর উন্নয়নেই ব্যয় করা হয়েছে ৭শ’ কোটি টাকা।

বর্তমান সরকারের আমলে বেনাপোল স্থলবন্দর উন্নয়নে যে সকল অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে তার মধ্যে আন্তর্জাতিক পেসেঞ্জার টার্মিনাল, বাস টার্মিনাল, চার লেন বিশিষ্ট বাইপাস সড়ক, আমদানি পণ্য রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২৪.৯৮ একর ভ‚মি অধিগ্রহণ, আধুনিকমানের দুটি ওয়ার হাউস নির্মাণ, বন্দর অভ্যন্তরে আর.সি.সি ঢালাই করন। ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড নির্মাণ, বন্দরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসনের জন্য দুইটি তিন তলা বিশিষ্ট ডরমেটরি ভবন নির্মাণ, একটি ফায়ার স্টেশন, ফায়ার হাইড্রেন্ট পয়েন্ট সংখ্যা ৯৩টি। ফায়ার সেফটি ফিল গাল পাম্প ২টি, ফায়ার পোর্টেবল ২টি, ফায়ার সাব স্টেশন ৪টি। বন্দরের নিরাপত্তায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৭৫টি আধুনিক সিসি ক্যামেরা, রেলপথে বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য বেনাপোল থেকে পেট্রাপোল পর্যন্ত একটি ব্রডগেজ রেললাইন ও দুটি লুক লাইন স্থাপন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

অবকাঠামো উন্নয়নে বেনাপোল কাস্টমসে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে, ৬তলা বিশিষ্ট শুল্ক ভবন। যেখানে শুল্ক সংক্রান্ত কার্যাদি সম্পন্ন করা হয়। নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ভবন। আমদানি বাণিজ্যে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে গোটা কাস্টমস হাউসকে অটোমেশনের আওতায় ও নিরাপত্তার স্বার্থে ফিঙ্গার প্রিন্ট ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে। একইসঙ্গে আরও যেসব উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে তারমধ্যে রয়েছে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ‘মুজিব কর্ণার’, শুল্ক ভবন এলাকার আলো স্বল্পতা দূরীকরণে সীমানা প্রাচীরের ওপর লাইট স্থাপন করা হয়। আবাসিক এলাকার অভ্যন্তরীণ রাস্তা মেরামত, সংস্কারসহ রাস্তা বর্ধিত করা হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন ‘ইছামতি কনফারেন্স রুম’ স্থাপন করা হয়েছে একটি। কমিশনার হোসাইন আহমেদ স্মৃতি লাইব্রেরি স্থাপন করা হয়েছে একটি। সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ হামিদুল হক স্মৃতি কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে এখানে। এছাড়া আইয়ুব আলী আকন্দ স্মৃতি ক্যাফেটেরিয়া স্থাপন করা হয়। সরকারী গাড়ির সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গাড়ি পার্কিং জোন স্থাপন করা হয়েছে। আমদানি-রফতানি কার্যক্রম সহজীকরণের লক্ষ্যে কাস্টম হাউস এলাকায় সিএ্যান্ডএফ এজেন্ট এর প্রতিনিধিদের জন্য জায়গাসহ রুম বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। আমদানি-রফতানি ট্রাকের কারপাশ সংশ্লিষ্ট তথ্য রেকর্ড ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে ই.পড়স সফটওয়্যারের সফল প্রবর্তন করা হয়েছে। ২য় তলা বিশিষ্ট মিউজিয়াম ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। উন্মুক্ত দরপত্র আহŸান প্রক্রিয়ায় উন্নতমানের যন্ত্রাংশ ক্রয়পূর্বক কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে, যা আগে কাস্টমসে ছিল না। নিরাপত্তা ও চোরাচালান রোধে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হয় বেনাপোল কাস্টমস হাউসকে। সরকারী রাজস্ব ফাঁকি ও চোরাচালান রোধে আইআরএম টিম গঠনের মাধ্যমে রাত্রীকালীন টহল প্রদান করা হচ্ছে গোটা বন্দর এলাকায়। ছোট আচড়া বাইপাস সড়কে চোরাচালান রোধে বাশকল স্থাপন করা হয়েছে। রাজস্ব কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষার জন্য ওয়াকি-টকি সিস্টেম এর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কাস্টমসের নিরাপত্তা বিবেচনায় আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর ক্রয় করে আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে স্থাপন করা হয়েছে। চেকপোস্টে আগত পাসপোর্ট যাত্রীগণের নিরাপত্তা বিবেচনায় সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনা ও সচেতনতামূলক প্রচারণা কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী রেলওয়ে যোগে আগত যাত্রীদের সুবিধার্থে বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশনে ব্যাগেজ স্ক্যানিং মেশিন দ্বারা তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। একইসঙ্গে যাত্রীসেবা প্রদানে আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ও ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী রেলযোগে আগত যাত্রী সাধারণের জন্য ল্যাগেজ ট্রলির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারী অফিসের নিরাপত্তা বিবেচনায় অফিস ভবনের প্রধান গেটে ভিকেল সার্স মিরর স্থাপন করা হয়েছে, কাস্টম হাউস, বেনাপোলের সার্বিক কার্যক্রমের ওপর ডকুমেন্টরি নির্মাণ কারা হয়, যানজট নিরসনে লিঙ্ক রোডে সিজিসি-৯ গেট স্থাপন করা হয়, অফিসার্স ক্লাব সংস্কার ও ডিজিটালাইজ করা হয়।

বন্দর এলাকা ছাড়াও উপজেলাব্যাপী শিক্ষা, সড়ক, কৃষি খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এরমধ্যে পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে ২৪২.৮৪৬ কিলোমটার, ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ হয়েছে ৪১৪ কিলোমিটার, প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা হয়েছে ৫৬টি, ইউনিয়ন ভ‚মি অফিস নির্মাণ হয়েছে ৩টি, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন ১টি। অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি নির্মাণ ৪টি, মসজিদ-মন্দির ১০টি, ১১৮ দুস্থ নারীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি যাদুঘর একটি, মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ একটি। স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব বাস্তবায়ন করা হয়।

শার্শা উপজেলা \ শার্শা উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী এম এম মামুন হাসান জানান, শার্শা উপজেলা বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় এখানকার অবকাঠামো উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি স্থানীয় সাংসদ শেখ আফিল উদ্দিনও ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। বিগতদিনে আওয়ামী লীগ সরকারের তিন তিন বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার যখন গোটা দেশব্যাপী উন্নয়ন ঘটিয়ে চলেছেন তখন তিনিও আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত ১১ বছরে তার নির্বাচনী এলাকা শার্শায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। সে কারণে এলাকায় উন্নয়নের রূপকার হিসেবে নতুনভাবে পরিচিতি লাভ করেছেন সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন। এলাকার মানুষ তাকে উন্নয়নের রূপকার আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন বলে প্রচার করেন। স্বাধীনতার পর থেকে এ উপজেলা ছিল উন্নয়ন বঞ্চিত। ২০০৮ সালে শেখ আফিল উদ্দিন প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর থেকে এলাকার উন্নয়নে চমক সৃষ্টি করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গ্রামকে শহরে পরিণত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই কার্জক্রম শুরু করেন। পরপর তিনবার নির্বাচিত এ সংসদ সদস্য উন্নয়নের প্রদীপে আলোকিত করেছেন গোটা শার্শা উপজেলাকে।

এই উপজেলা ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এখানকার সকল স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় এখন বহুতল ভবন। কাঁচা রাস্তা হয়েছে পাকা। উপজেলা পরিষদ চত্বরে গড়ে তুলেছেন আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন উপজেলা প্রশাসনিক ভবন, উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন, আবাসিক ডরমেটরি, আধুনিক ডাক বাংলো ও উপজেলা মৎস্য ভবন। নির্মাণ করেছেন জেলা পরিষদ অডিটরিয়াম, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, বেনাপোল পোর্ট থানা ভবন, বাগআঁচড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ভবন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।

গত ১১ বছরে তার হাতে একটু একটু করে বদলে গেছে শার্শা। উপজেলাটি আধুনিক থেকে আধুনিকতর হয়েছে। এ সময়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৪টি পাকা বাড়ি। ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ’র মাজার সংস্কারকরণ, ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে জামতলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর সংস্করণ, ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে কাগজপুকুর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর সংস্করণ, ৪ তলা বিশিষ্ট শার্শা উপজেলা কলেজ ভবন, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ কলেজে ভবন ও সরকারীকরণ, পাকশি আইডিয়াল কলেজ ভবন, বেনাপোল ডিগ্রী কলেজ ভবন, গোগা ইউনাইটেড কলেজ ভবন, নাভারণ ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজ ভবন, লক্ষণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন, কেরালখালী-পারুয়ার ঘোপ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন, পাকশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন, বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন, ধান্যখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন, বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন ও কায়বা-বাইকোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মিত হয়েছে। সরকারীকরণ করেছেন শার্শা পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এছাড়া নির্মাণাধীন আছে ৪তলা বিশিষ্ট সামটা মাদ্রাসা ভবন, বসতপুর মহিলা মাদ্রাসা ভবন, আমলা মহিলা মাদ্রাসা ভবন ও টেংরা মহিলা মাদ্রাসা ভবন।

এছাড়াও বেনাপোল পৌরসভাকে ১ম শ্রেণীতে উন্নীত করেছেন। নির্মাণ করেছেন বহুতল বিশিষ্ট শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবন, বেনাপোল আন্তর্জাতিক পেসেঞ্জার টার্মিনাল, আন্তর্জাতিক বাস টার্মিনাল, বেনাপোল বাইপাস সড়ক, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম, ইউনিয়ন ভ‚মি অফিস, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক, বিদ্যুত, রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট ইত্যাদি। নির্মাণাধীন রয়েছে শার্শা উপজেলা বহুতল বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, বেনাপোল বড় মসজিদ।

সংস্কার করেছেন উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের কয়েক শ’ মসজিদ। জমি আছে ঘর নেই এ ধরনের ৩৩৩ জনের মধ্যে ১ লাখ টাকা করে অনুদান দিয়ে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। জমি আছে ঘর নেই এমন ২৩টি পরিবারের মাঝে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দুর্যোগ সহনীয় ২৩টি ঘর নির্মাণ করেছেন। যার প্রতিটি ঘর বাবদ ব্যয় হয় ২ লাখ ৫১ হাজার ৫শ’ ৩১ টাকা। এসব উন্নয়নে ব্যয় করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫শ’ কোটি টাকা।

বেনাপোল পৌরসভার কাউন্সিলর কামরুন নাহার আন্না বলেন, শার্শা উপজেলার অনেক উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। পূর্বে এখানকার অনেক গ্রামে সন্ধ্যার সঙ্গে সঙ্গে মনে হতো ভ‚তের নগরী। এখন প্রতিটি গ্রামই আলো ঝলমলে এবং গ্রামগুলো যেন শহর হয়ে গেছে। রাস্তাঘাটগুলো শুকনা মৌসুমের সময় ধুলা আর বর্ষার সময় কাদাময় বেহাল দশা ছিল। এখন প্রতিটি গ্রামেরই সংযোগ সড়কগুলো পর্যন্ত পাকা হয়ে গেছে। যা কিছু হয়েছে তার সবকিছুই হয়েছে বর্তমান সরকার তথা স্থানীয় এমপি শেখ আফিল উদ্দিন এমপির দক্ষ নেতৃত্বে।

শার্শার নাভারণ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ও যশোর জেলা পরিষদের সদস্য ইব্রাহিম খলিল বলেন, শার্শা উপজেলায় শেখ আফিল উদ্দিন এমপি যে উন্নয়ন করেছেন তা মুখে বলে বোঝানো যাবে না। ২০০৯ সালের পূর্বের চিত্র আর এমপি হওয়ার পর কি রকম উন্নয়ন হয়েছে তা স্ব^চক্ষে না দেখলে বোঝা কষ্টকর।

উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হয়। শার্শার মাটি ও মানুষের নেতা শেখ আফিল উদ্দিন তারই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তারা বলেন, স্বাধীনতার বহু পরে হলেও এমপি শেখ আফিল উদ্দিনের সুসংগঠিত নেতৃত্বের কারণে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ১১টি চেয়ারম্যান এবং ১টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি শার্শায় যে উন্নয়ন করেছেন এগুলো তারই বহির্প্রকাশ।

শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু বলেন, শেখ আফিল উদ্দিন এমপি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের আলোকে তাঁর সুযোগ্যকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল এবং পরীক্ষিত সহযোদ্ধা। শেখ আফিল উদ্দিন এমপি তার সকল দায়িত্ব পালনের মাঝেও তার নির্বাচনী এলাকায় সার্বক্ষণিক অবস্থান করে সরকার ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ঘোষিত সকল র্কমসূচী বাস্তবায়ন করে আসছেন। এছাড়া নিঃসন্দেহে বলা যায় শার্শা উপজেলার নজরকাড়া উন্নয়নের রূপকার শেখ আফিল উদ্দিন এমপি। তিনি হ্যাটট্রিক এমপি হিসেবে এলাকায় পরিচিত। ব্যক্তি জীবনে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে আপোসহীন এবং উদার মনের মানুষ হওয়ায় এখানকার উন্নয়নমূলক কাজ অব্যাহত আছে।

তিনি আরও বলেন, নীরবে দেশ ও জাতির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন শেখ আফিল উদ্দিন এমপি। প্রতিদানে তিনি কিছুই চান না। দিতে পেরেই আত্মতৃপ্ত হন। একজন আদর্শবান, সুশিক্ষিত, দানশীল, ন্যায়বিচারক, গরিব ও মেহনতি মানুষের প্রকৃত বন্ধু ও আলোকিত সমাজ গড়ার কারিগর তিনি। ব্যক্তি জীবনে তিনি জাতীয় শ্রেষ্ঠ মৎস্য ও কৃষিপদক পেয়েছেন। ব্যক্তি আচরণ আর সততার মধ্যে দিয়ে অতি অল্পসময়ে উপজেলাবাসীর মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। সত্য আর সততা থাকলে যে একজন মানুষ কতদূর এগোতে পারেন শেখ আফিল উদ্দিন তারই নিদর্শন।

শেখ আফিল উদ্দিন এমপি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের স্বার্থে ও জনগণের উন্নয়নে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, এলাকার মানুষেরা টিভিতে দেখেছেন সংসদ অধিবেশনে দাঁড়িয়ে আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য যশোর-বেনাপোল রাস্তার দাবি করেছিলাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি রাস্তাটি দেয়ার জন্য। আমি বলব না যে আমি সবকিছু করতে পেরেছি তবে এলাকার উন্নয়নের জন্য সবসময় চেষ্টা করেছি এবং আগামীতেও করব। এছাড়া এলাকার কি উন্নয়ন হয়েছে সেটা এলাকার সাধারণ জনগণই বলবে।

তিনি আরও বলেন, ঘরে ঘরে বিদ্যুত বর্তমান সকারের একটি অন্যতম বৃহত্তম এজেন্ডা ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় উপজেলার সকল গ্রামে, পাড়ায়, মহল্লায় বিদ্যুত সংযোগের কাজ শেষ পর্যায়ে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মাঠ এলাকায় নতুন নতুন কিছু বাড়ি তৈরি হওয়ায় দূর-দূরান্তের কারণে হয়তবা কিছু বাড়িতে বিদ্যুত পৌঁছাতে না পারে। তাও প্রত্যেক এলাকায় মাইকিং করে বিদ্যুত অফিসে যোগাযোগের জন্য ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে সমগ্র শার্শা উপজেলাকে ১০০% বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকারের আন্তরিকায় গত ৯ বছরেই শুধু ৭শ’ কোটি টাকার অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে বেনাপোল স্থলবন্দরে। এতে যেমন বাণিজ্য বেড়েছে তেমনি সরকারের রাজস্বও বেড়েছে। এছাড়া বাণিজ্য খাতকে আরও গতিশীল করতে সরকারের নানা পদক্ষেপ চলমান রয়েছে।

বেনাপোল সিএ্যান্ডএফ এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, বেনাপোল বন্দর সবচেয়ে বেশি রাজস্ব দাতা হলেও বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে বিগত সরকারগুলোর তেমন মাথা ব্যথা ছিল না। বর্তমান সরকার বাণিজ্যিক গুরুত্ব অনুধাবন করে বন্দরকে ডিজিটাল বন্দরে রূপ দিয়েছে।

বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রফতানি সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়াতে প্রথম থেকেই বেনাপোল বন্দর দিয়ে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যে আগ্রহ বেশি। সে কারণে বন্দর উন্নয়নে এ সরকার যথেষ্ট আন্তরিক। অবকাঠামো উন্নত হচ্ছে বলে এ বন্দর দিয়ে ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যে আগ্রহ বেড়েছে। ফলে গত ৫ বছরের ব্যবধানে আমদানি ও রফতানি পরিমাণ বেড়েছে দ্বিগুণ। পদ্মা সেতুকে ঘিরে এ পথে বাণিজ্য বৃদ্ধির আরও সম্ভাবনা দেখছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা।

বেনাপোল রেল স্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান জানান, বর্তমান সরকারের আমলে ঢাকা বেনাপোল যাত্রীবাহী রেল ও খুলনা কলকাতা যাত্রীবাহী রেল চালু হয়েছে। এছাড়া রেলে আমদানি বাণিজ্যও শুরু হয় এ সরকারে আন্তরিক প্রচেষ্টায়।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোঃ আজিজুর রহমান জানান, বেনাপোল বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ধারা চোখে পড়ার মতো। ’৭৫ পরবর্তী যেসব সরকার ক্ষমতায় এসেছে তার মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বেনাপোলে। একটা সময় মাত্র এক শ’ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হতো এ কাস্টমস হাউসে। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকায়। বর্তমান সরকারের আন্তরিকতায় বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সর্বোপরি এখানকার কাস্টমস ও বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এত পরিমাণে রাজস্ব আহরণ করা সম্ভব হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন সমৃদ্ধি, শান্তি ও দক্ষতার সঙ্গে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যেভাবে দেশ পরিচালনা করে চলেছেন তাতে করে গোটা দেশের ন্যায় বেনাপোল বন্দরের ব্যাপক উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। তিনি মনে করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যেসব মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছেন, তারমধ্যে পদ্মা সেতু চালু হলে বেনাপোল স্থল বন্দরের চিত্র পাল্টে যাবে।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ