• শুক্রবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২৫ ১৪২৯

  • || ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

দৈনিক গোপালগঞ্জ

এক মৌসুমে রেকর্ড সাড়ে ৬ হাজার টন শুঁটকি উৎপাদন

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ৮ এপ্রিল ২০২২  

সুন্দরবনের দুবলার চরে বেড়েছে শুঁটকির উৎপাদন। এবারের মৌসুমে দুবলার ৪টি চরে ৬ হাজার ৫০০ টন (৬৫ হাজার কুইন্টাল) শুঁটকি উৎপাদন হয়েছে। বন বিভাগ বলছে, চলতি অর্থবছর রেকর্ড পরিমাণ শুঁটকি উৎপাদন হয়েছে। এর আগে এ চরে কোনো বছরই সাড়ে ৪ হাজার টনের বেশি শুঁটকি উৎপাদন হয়নি।

শুঁটকির উৎপাদন বাড়ায় বেড়েছে বন বিভাগের রাজস্ব আদায়ও। এ মৌসুমে (২০২১-২২ অর্থবছরে) রেকর্ড ৪ কোটি ১৮ লাখ ৬৯ হাজার ৯৫৪ টাকা রাজস্ব পেয়েছে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ।

এবার একটু বেশি মাছ পাওয়ায় এবং দুর্যোগ কম থাকায় ভালো শুঁটকি হইছে।’ওমর ফারুক, শুঁটকি তৈরির শ্রমিক

সুন্দরবনের পাশে বঙ্গোপসাগরের কোণে দুবলার চর। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে এখানে গড়ে ওঠে অস্থায়ী এক শুঁটকিপল্লি। সাগরতীরে কুঙ্গা ও মরা পশুর নদের মোহনায় জেগে ওঠা বেশ কয়েকটি চর মিলে দুবলার চর মাছের জন্য সুপরিচিত।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বলছে, এবারের মৌসুমে বনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চরের আলোরকোল, মাঝের কেল্লা, নারিকেলবাড়িয়া ও শেলার চরে শুঁটকি উৎপাদনের জন্য অনুমতি নেয় ১ হাজার ঘর, ৬৬টি ডিপো ঘর ও ১৫ জন বহাদ্দার। প্রতিবছরের মতো চরগুলোয় পলিথিন, কাঠ ও খড় দিয়ে অস্থায়ী তাঁবু করে পাঁচ মাসের জন্য অস্থায়ী বসতি গড়েন জেলেরা। ২০২১ সালের ১ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সাগর থেকে ধরে আনা মাছ শুকিয়ে এসব চরে শুঁটকি উৎপাদন করেন বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, বরগুনাসহ উপকূলীয় বিভিন্ন জেলার প্রায় ১০-১২ হাজার জেলে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গেল মৌসুমে (২০২০-২১ অর্থবছরে) দুবলায় ৪৫ হাজার ৯৭৮ দশমিক ৯৮ কুইন্টাল শুঁটকি উৎপাদনের বিপরীতে বন বিভাগের রাজস্ব পায় ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছিল ৪৪ হাজার ৭১৩ দশমিক ১৪ কুইন্টাল এবং রাজস্ব আয় হয় ২ কোটি ৮৭ লাখ ৯৫ হাজার ২৬২ টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে উৎপাদন ৪১ হাজার ৫৪ দশমিক ৮৮ এবং রাজস্ব ২ কোটি ৬৪ লাখ ৩৯ হাজার ৩৪২ টাকা।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, চলতি অর্থবছরে সুন্দরবনের দুবলার চরে সবচেয়ে বেশি শুঁটকি উৎপাদন হয়েছে। শুঁটকি মৌসুমের শুরুর দিকে এবং মাঝামাঝিতে দুই দফা ঝড়-বৃষ্টি হয়েছিল। এটা না হলে এবার উৎপাদন আরও বাড়ত।

বন বিভাগ বলছে, মাছের উৎপাদন বাড়াতে প্রজনন মৌসুমে সাগরে মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল সরকার। এর সুফল দেখা যাচ্ছে। এবার সাগরে জেলেরা মাছ বেশি পেয়েছেন। ফলে শুঁটকির উৎপাদন ও রাজস্ব আদায় বেড়েছে।

দুবলায় শুঁটকি মৌসুম শেষ করে বাড়ি ফিরেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালী গ্রামের ওমর ফারুক ও সোহেল মল্লিক। তাঁরা প্রায় ১০ বছর ধরে শুঁটকি মৌসুমে সাগরে যান। ওই সময় তাঁরা অস্থায়ীভাবে দুবলার চরের আলোরকোলে থাকেন। তাঁরা দুজন বলেন, ‘দুবলায় যেতে অনেক খরচ হয়। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের ভয় মাথায় নিয়ে সাগর করে গত দুই বছর ধরা খাইছি, খরচ ওঠেনি। তবে এবার একটু বেশি মাছ পাওয়ায় এবং দুর্যোগ কম থাকায় ভালো শুঁটকি হইছে।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ