• বুধবার   ০৬ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ২২ ১৪২৯

  • || ০৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

দৈনিক গোপালগঞ্জ

সোহেল চৌধুরী হত্যায় আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০ মার্চ ২০২২  

চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলায় বিতর্কিত ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ বাই ওরফে আব্দুল আজিজসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

আজ রবিবার (২০ মার্চ) ঢাকার ২ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক জাকির হোসেন এই পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

পরোয়ানা জারি হওয়া অন্য দুই আসামি হলেন, ট্রাম্পস ক্লাবের মালিক আফাকুল ইসলাম ওরফে বান্টি ইসলাম ও সেলিম খান। জামিনে থাকা এ আসামিরা এদিন আদালতে না আসায় বিচারক এ পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

এদিকে একই সঙ্গে মামলার বাদী নিহত সোহেল চৌধুরীর ভাই তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী সাক্ষী দিতে ট্রাইব্যুনালে না আসায় তার বিরুদ্ধে অজামিনযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

এদিন মামলার আসামিদের মধ্যে আসামি তারিক সাঈদ মামুন ও হারুন অর রশীদ ওরফে লেদার লিটন ওরফে বস লিটনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়নি।

জামিনে থাকা আসামি আদনান সিদ্দিকী ও ফারুক আব্বাসী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলার অন্য দুই আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন ও আশিষ রায় চৌধুরী ওরফে বোতল চৌধুরী পতালক রয়েছেন।

চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরীকে ১৯৯৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর বনানীর ক্লাব ট্রামসের নিচে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার বড় ভাই তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী গুলশান থানায় মামলা করেন। ১৯৯৯ সালের ৩০ জুলাই গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল কাশেম ব্যাপারী নয়জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। ২০০১ সালের ৩০ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে বিচারের জন্য পাঠানো হয় ২ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে।

মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসামি আদনান সিদ্দিকী ২০০৩ সালের ১৯ নভেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০০৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুলসহ আদেশ দেন। বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর বেঞ্চ শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট রায় দেন। রায়ে রুলটি খারিজ করে দেওয়া হয়। প্রত্যাহার করা হয় হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশও। কিন্তু এরপর সেই রায় আর নিম্ন আদালতে পৌঁছায়নি। সেই মামলার নথিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এ মামলার নথি গায়েবের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চায় হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবীর করা রিটের শুনানি নিয়ে এ রুল জারি হয়। এরপরই নথির সন্ধানমেলে। এরপর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রায়ের নথি বিচারিক আদালতে আসার পর ২০ মার্চ সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করা হয়।

বনানী জামে মসজিদের পাশে আবেদীন টাওয়ারের অষ্টম তলায় টমার্স ক্লাব অবস্থিত। এ ক্লাবের মালিক আসামি বান্টি ইসলাম ও বোতল চৌধুরী। ওই ক্লাবে অসামাজিক কার্যকলাপ হতো। বিশেষ করে নিয়মিত মদ্যপান, মহিলাদের অশ্লীল নৃত্য চলতো। ক্লাবের এ ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপের বিরোধিতা করেছিল সোহেল চৌধুরী। সোহেল বনানীর মসজিদ কমিটির লোকজন নিয়ে এ ধরনের অসামাজিক কাজ বন্ধের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

১৯৯৮ সালের ২৪ জুলাই ক্লাবের মধ্যে সোহেলের কথিত এক বান্ধবী নিয়ে আসামি আজিজ মোহাম্মদের সঙ্গে সোহেলের তর্ক হয়। উত্তেজিত হয়ে নায়ক সোহেল আজিজ বাইকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। সেদিন আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে হত্যার চেষ্টাও চালায় সোহেল। এ দুটি ঘটনার পর আসামিরা সোহেলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। হত্যার দিন সোহেল রাত ১টার দিকে বন্ধুদের নিয়ে টমার্স ক্লাবে ঢোকার চেষ্টা করেন।

নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তোফাজ্জল হোসেন তাকে ঢুকতে না দেওয়ায় তখন তিনি চলে যান। সেদিন রাত আড়াইটার পর সোহেল ফের ক্লাবে ঢোকার চেষ্টা করলে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন, মামুন, লিটন, ফারুক আব্বাস ও আদনান সিদ্দিকী সোহেলকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে ঘটনাস্থালে সে মারা যায়। খুনের পরপরই খুনি আদনান সিদ্দিকী হাতেনাতে ধরা পড়ে।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ