• বুধবার   ০৬ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ২২ ১৪২৯

  • || ০৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

দৈনিক গোপালগঞ্জ

দুই বছর পর জমে উঠলো চড়কের মেলা

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২২  

রাজবাড়ীতে প্রায় ৩০ বছর ধরে চড়ক পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। করোনা মহামারির কারণে দুই বছর বন্ধ থাকার পর এবার এই পূজা ও মেলার আয়োজন করা হয় বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল)। মেলায় ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের কাটাখালী প্রেমচোন ফকিরের বাড়ির পাশের মাঠে চড়ক পূজা ও গ্রামীণ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

চড়ক পূজার মূল আকর্ষণ পিঠে বড় বড়শি দিয়ে আটকিয়ে চরকিতে ঘোরা। এই পূজা আর মেলা দেখতে সেই সঙ্গে গ্রামীণ তৈজসপত্র কিনতে অনেক দূর-দূরান্ত থেকে আসে হাজার হাজার মানুষ।

বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী এই মেলা ও পূজা অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে মেলার মাঠে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা চড়ক পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। পূজাকে কেন্দ্র করে সেখানে মেলা বসানো হয়। স্থানীয় ভাষায় এই মেলাকে বলা হয় ‘পিঠফোঁড়া মেলা’। এর আগে চড়ক পূজা করা হয়। পূজার পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কালী, শীতলা ও বুড়ি দেবীর পূজা করা হয়। একই সঙ্গে এবার তিন জনের পিঠ ফুটো করে চড়কে ঘোরানো হয়েছে।

মেলায় আগত সুজিত কুমার বলেন, ‘আমি এই মেলা ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি। মহামারি করোনার কারণে গত দুই বছর মেলা হয়নি। এবার হওয়ায় ভালোই লাগছে। সপরিবারে এসেছি। ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছি।’

কয়েকজন দর্শনার্থী জানান, শরীরের মধ্যে বড়শি ও শিক বিধিয়ে চরকিতে ঘোরা বিষয়টি শুনলেই গা শিউরে ওঠে। এই দৃশ্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে মানুষ।

মেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি বাদল ফকির জানান, চড়ক পূজায় যাদের বড়শি বিধিয়ে চরকিতে ঘোরানো হয়, তারা এক সপ্তাহ ধরে উপবাস করেন। প্রতি বছর হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা বাংলা বছরের চৈত্র সংক্রান্তির মাঝামাঝি সময় প্রায় ৩০ বছর ধরে এই চড়ক পূজা ও মেলার আয়োজন করে। তারই অংশ হিসেবে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলা উপভোগ করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থীদের ভিড় জমতে দেখা যায়। সেই সঙ্গে চড়ক মেলাকে কেন্দ্র করে মেলায় রকমারি দোকান বসে। 

তিনি আরও বলেন, এই মেলাটি রাজবাড়ী জেলার মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন এবং সবচেয়ে বেশি লোকের সমাগম হয়। সবােই শান্তিপ্রিয়ভাবে মেলায় এসে আনন্দ উপভোগ করেন।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ