• বৃহস্পতিবার   ২০ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ৭ ১৪২৮

  • || ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

দৈনিক গোপালগঞ্জ

পরিত্যক্ত খাদান যেখানে বাড়ি, গুহায় গড়ে উঠেছে হোটেল

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৯ ডিসেম্বর ২০২১  

ছোট-বড় শহরগুলো, কমবেশি একই রকম দেখতে, তা সে পৃথিবীর যে প্রান্তেই সেগুলো গড়ে উঠুক না কেন। তবে এখনও কিছু কিছু মানুষ এমন বাড়িতে বাস করে, যেগুলো পরম্পরা মেনে তৈরি অথবা একেবারে অন্যরকম। জলবায়ু, ভূমিরূপ, হাতের কাছে বাড়ি তৈরির জন্য মজুত সামগ্রী, জীবনযাত্রার ধরণধারণ, এসবের ওপর নির্ভর করে তৈরি হয় সেইসব বাড়ির নকশা। আসুন জেনে নেই তেমনই পরিত্যক্ত খাদান যেখানে বাড়ি, গুহায় গড়ে উঠেছে হোটেল সে সম্পর্কে-   

গুহা গৃহ

গুহা গৃহ


এখানকার মাটি আগ্নেয়শিলা দিয়ে তৈরি। আগ্নেয় শিলাগুলো ক্ষয়ে গিয়ে বিচিত্ররকমের থাম, স্তম্ভ এবং গুহার আকার নেয়। হাজার হাজার বছর ধরে এখানকার মানুষ সেগুলোকেই কেটে কুঁড়ে বাড়ি, ভাড়ারঘর, গির্জাঘরের রূপ দিয়ে এসেছে। আগ্নেয় শিলা নরম হওয়ায় একাজে সুবিধা হয়েছে। যখন বহিরাগত হানাদাররা আক্রমণ চালিয়েছে, তখন এইসব গুহাগুলোতেই আশ্রয় নিয়েছে স্থানীয় মানুষজন। বর্তমানে সেগুলোর কয়েকটিতেই পর্যটকদের জন্য হোটেল গড়ে উঠেছে।

উলুখাগড়ার ভাসমান বাড়ি

উলুখাগড়ার ভাসমান বাড়ি


এখানকার জলাভূমিতে মা'দান বা বিলবাসী আরবদের বাস। তাদের চিরাচরিত বাড়িগুলো উলুখাগড়া দিয়ে তৈরি। এগুলো নদীতীরে অবস্থিত। যুদ্ধবিগ্রহ আর জলাভূমির জল বেরিয়ে যাওয়া, এখানকার লোকজন ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এই দুটি কারনে। এখন আবার এখানকার মাটির ওপর দিয়ে জল বইতে শুরু করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের মরু অঞ্চল

মধ্যপ্রাচ্যের মরু অঞ্চল

 

সাহারা এবং আরবের মরূভূমির যাযাবর পশুচারণকারীরাও থাকার জন্য তাঁবু ব্যবহার করে। উট অথবা ছাগলের লোম আর পশম থেকে বানানো কাপড় দিয়ে তৈরি হয় তাঁবুগুলো। এগুলোও খাঁড়া করা হয় খুঁটি দিয়ে। লম্বা লম্বা দড়ি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা থাকে খুঁটির সঙ্গে। আর বাতাস কিংবা বালিঝড় যাতে আটকাতে না পারে সেজন্য এগুলো তৈরি করা হয় একটু নিচু করে।

বিলাসবহুল হাউসবোট

বিলাসবহুল হাউসবোট


এটি মোটামুটি আমাদের সকলেরই চেনা। কারন এটি আমাদের দেশেও দেখা যায়। ভীষণ সুন্দর, সাজানো- গোছানো হাউসবোট নোঙর করা থাকে কাশ্মীরের হ্রদে। নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামের কয়েকটি খালে সারি সারি হাউসবোট দেখতে পাওয়া যায়। আবার হংকং-এর বিখ্যাত বন্দরগুলোতে যেসব মৎস্যজীবি পরিবার রয়েছে তাদেরও থাকার জায়গা হল হাউসবোট।

আমার তাঁবুতে চায়ের নিমন্ত্রণ

আমার তাঁবুতে চায়ের নিমন্ত্রণ


যাযাবরদের থাকার পক্ষে আদর্শ জায়গা হল তাঁবু। যারা কোথাও স্থায়ীভাবে বসবাস করে না, এখানে-ওখানে ঘুরে বেড়ায় তাদের যাযাবর বলে। ইউরেশীয় স্তেপ অঞ্চলের মোঙ্গল এবং তুর্কিদের তাঁবুকে 'গের ' বলে। ওগুলো পশম থেকে তৈরি ফেল্ট কাপড়ের হয়। এগুলো খাড়া করে রাখতে ব্যবহার করা হয় উইলো কাঠের খুঁটি। গ্রীষ্মকালে এগুলো ঠান্ডা , কিন্তু তীব্র শীতে এগুলো গরম রাখতে স্টোভ ব্যবহার করতে হয়।

মাটিতে গর্ত

মাটিতে গর্ত


সূর্যের তাপ থেকে বাঁচতে প্রথম দিকে ওপাল খনির শ্রমিকরা পরিত্যক্ত খাদানগুলোকে নিজেদের থাকার জায়গায় পরিণত করেছিল। কিছুদিন পর তারা নিজেরাই পাথর কেটে নতুন বাড়ি বানানো শুরু করল। এই বাড়িগুলোকে তারা বলত 'ডাগ আউট' বা 'খন্দক'। ডাগ আউটগুলিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি শোওয়ার ঘর এবং প্রশস্ত থাকার ঘর। আর সবকটি ঘরই প্রাকৃতিকভাবে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত । অর্থাৎ এগুলোর তাপমাত্রা খুব বেশি বা খুব কম নয়, বেশ আরামদায়ক।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ