• মঙ্গলবার   ০৬ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২২ ১৪২৯

  • || ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

দৈনিক গোপালগঞ্জ

মিশরের ফারাও রাজা তুতেনখামেনের মমি কি অভিশপ্ত?

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২২  

যারা মিশরের পিরামিড নিয়ে আগ্রহ রাখেন, তাদের কাছে ফারাও রাজা তুতেনখামেনের নামটি অজানা নয়। বলা হয়ে থাকে, তার মমিটি নিয়ে যারা কাজ করেছেন, তারা সবাই অভিশাপে মারা গিয়েছেন। সত্যিই কি তাই?

মিশরীয় ফারাওদের ১৮তম বংশের একজন, ফারাও তুতেনখামেন। পিতার মৃত্যুর পর তার ছেলে অর্থাৎ তুতেনখামেনকে মাত্র আট বছর বয়সেই সিংহাসনে বসানো হয়। তবে তার রাজত্বকাল ছিল খুবই অল্প। মাত্র দশ বছর। আঠারো বছর বয়সেই মৃত্যু হয় তার। পরবর্তীতে এক গবেষণায় দেখা যায়, তুতেনখামেনের রক্তে লোহিত রক্তকণিকার ঘাটতি ছিল। এছাড়া অটোপসি করে দেখা যায়, তার বাম পায়ে একটি হাড়ের রোগ ছিল। পিতামাতা কাছের আত্মীয় হওয়ার কারণে তুতেনখামেনের জিনঘটিত এ রোগটি হয়েছিলো। তাই হাড়ের রোগ কিংবা লোহিত রক্তকণিকার অভাব, তার মৃত্যু ঘটেছিল মূলত জিনগত কারণেই। তবে ফারাও হিসেবে তুতেনখামেন খুবই স্বল্প পরিচিত ছিলেন।

১৯২২ সালে ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ 'হাওয়ার্ড কার্টার' ও তার দল মিলে তুতেনখামেনের সমাধিটি আবিষ্কারের পর চারিদিকে হইচই পড়ে যায়। এর মূল কারণ, সমাধি ও তার আশেপাশের কক্ষগুলোতে পাওয়া যায় স্বর্ণের তৈরি অসংখ্য মূল্যবান দ্রব্যসামগ্রী। এছাড়া তার মমিটি সংরক্ষিত ছিল সোনার তৈরি কফিনে। সমাহিত করার পর থেকে কেউ তুতেনখামেনের সমাধির সন্ধান পায়নি বলে সমাধিতে রক্ষিত সমস্ত সম্পদই অক্ষত থেকে যায়।

এদিকে তুতেনখামেনের মমি সম্পদের সাথে সাথে অভিশাপও বয়ে এনেছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। প্রচলিত রয়েছে, তার মমি আবিষ্কারের সাথে যারা জড়িত ছিল, তারা প্রত্যেকেই তুতেনখামেনের অভিশাপে রহস্যময়ভাবে মৃত্যুবরণ করেন।

তুতেনখামেনের অভিশাপের গল্প মূলত শুরু হয় 'হাওয়ার্ড কার্টারের' একটি পোষা ক্যানারি পাখির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। যেদিন তিনি সমাধির সন্ধান পান সেদিনই বাসায় ফিরে জানতে পারেন যে, তার পাখিটিকে একটি কোবরা খেয়ে ফেলেছে। বিশ্বাস করা হতো যে, কোবরা এবং শকুন ফারাওদের সুরক্ষার প্রতীক।

সমাধি আবিষ্কারের ঠিক কিছুদিন পরই এই খননকার্যে অর্থায়নকারী 'লর্ড কার্নারভন' মশার কামড়ে রহস্যজনকভাবে মারা যান। এছাড়া যে রাতে তিনি মারা যান, সেই একই রাতে হাজার মাইল দূরে থাকা তার কুকুরটিও ডাকতে ডাকতে মারা যায়।

আরও অনেকগুলো মৃত্যুর সাথে তুতেনখামেনের অভিশাপ জড়িত বলে বিশ্বাস করা হয়। কার্নারভনের মৃত্যুর কিছুদিন পরেই এই অভিযানের সাথে জড়িত আরেকজন প্রত্নতত্ত্ববিদ 'আর্থার ম্যাইস' হঠাৎ ক্লান্তি অনুভব করেন এবং কিছুক্ষণের মাঝেই তার মৃত্যু হয়। এছাড়া লর্ড কার্নারভনের এক বন্ধু তার মৃত্যুর খবর শুনে মিশরে আসেন এবং সমাধি পর্যবেক্ষণের ১২ ঘণ্টার মাঝেই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

এদিকে, তুতেনখামেনের সমাধি আবিষ্কারের চার মাসের মাথায় লর্ড কার্নারভনের সহকারীর মৃত্যু হয়। মৃত অবস্থায় তাকে তার বিছানায় পাওয়া যায় এবং ছেলের মৃত্যুর খবর শোনার পর তার বাবাও আত্মহত্যা করেন।

তবে, তুতেনখামেনের অভিশাপকে অনেকেই শুধুমাত্র সংবাদপত্রের কারসাজি বলে মনে করেন। ধারণা করা হয়, সমাধি আবিষ্কারের শুরুর দিকে এর সাথে জড়িত কয়েকজনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সংবাদপত্রের বিক্রি বাড়াতে তারা অভিশাপের গুজব ছড়িয়ে দেয়। আরও কিছু মৃত্যু ও দুর্ঘটনাকে সমাধি আবিষ্কারের সাথে পেঁচিয়ে সেই সময়টাতে প্রচুর গল্প প্রচার করা হয়, যেগুলো এখনো অবধি রয়ে গেছে।

পরবর্তীতে এক গবেষণায় দেখা যায়, সমাধি উন্মোচিত করার সময় সেখানে ৫৮ জন লোক উপস্থিত ছিলেন যার মধ্যে মাত্র ৮ জন পরবর্তী ১০ থেকে ১২ বছরে মারা গেছেন। তার মধ্যে সমাধির আবিষ্কারক 'হাওয়ার্ড কার্টার'  ১৯৩৯ সালে ৬৪ বছর বয়সে মারা যান। ১৯৮০ সাল পর্যন্ত তার মেয়ে বেঁচে ছিলেন, যিনি সমাধিতে সর্বপ্রথম প্রবেশকারীদের একজন ছিলেন। এছাড়া অন্য সবাই দীর্ঘদিন জীবিত ছিলেন। যারা মারা গেছেন, প্রায় সবার মৃত্যুই ছিল স্বাভাবিক।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ