• শনিবার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৮

  • || ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

দৈনিক গোপালগঞ্জ

দেশের স্বাস্থ্যসেবায় বিরল ঘটনা, ডায়ালাইসিস রোগীর সন্তান প্রসব

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর ২০২১  

নাহিদা আনোয়ার। ৩৪ বছর বয়সী এ নারী ২০১৭ সাল থেকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন। কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশনের পরিকল্পনা প্ল্যান চলছিল তার। এ বছর হঠাৎ করেই টের পান তার ভেতরে আরেকটি প্রাণের অস্তিত্ব!  আর যতদিনে টের পেয়েছেন ততদিনে পাঁচ মাস পার হয়ে গিয়েছে। শনিবার এই জটিল রোগীর সন্তান প্রসবে সফল হয়েছেন বাংলাদেশের দুই চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মালিহা রশীদ ও ডা. মো. আব্দুল ওয়াহাব খান।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ওই রোগী রাজশাহী থাকতেন। সেখানে ডাক্তাররা বলেছেন এই জটিল সময়ে প্রেগন্যান্সি কন্টিনিউ করলে তার জীবন ঝুঁকিতে পড়বে, কাজেই এই প্রেগন্যান্সি টার্মিনেট (গর্ভপাত) করাই যুক্তিযুক্ত।

এক পর্যায়ে ঢাকা এসে তারা প্রথম দেখা করেন নেফ্রোলজিস্ট ডা. মো. আব্দুল ওয়াহাব খানের সঙ্গে। তিনিই প্রথম তাকে আশার বানী শুনিয়েছিলেন। স্যার বলেছিলেন, রিস্ক তো আপনার দুই ক্ষেত্রেই! নষ্ট করতেও সৃষ্টি করতেও। তো আপনি নষ্ট করতে রিস্ক নিবেন কেন, সৃষ্টি করতেই রিস্ক নেন।

তারপর সেই চব্বিশ সপ্তাহ প্রেগন্যান্সি থেকেই তিনি দেশের এই স্বনামধন্য দুই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। বিশেষ করে অধ্যাপক ডা. মালিহা রশীদের উৎসাহ আর পরম মমতায় রোগীও নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছিলেন।

শনিবার সকালে অধ্যাপক ডা. মালিহা রশীদের হাত ধরেই রোগী একটি ফুটফুটে মেয়ে সন্তানের জন্ম দেয় (৩৫ সপ্তাহ)।

ডা. মো. আব্দুল ওয়াহাব খান বলেন, ১৯৭৮ সালের পর এ প্রথম এদেশে এমন বিরল ঘটনা ঘটল। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকলাম আমরা সবাই।

নাহিদা আনোয়ার আর তার মেয়ের জন্য দোয়া চেয়েছেন অধ্যাপক ডা. মালিহা রশীদ।

প্রসঙ্গত, কর্মজীবনে অধ্যাপক ডা. মালিহা রশীদ বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০২ সালের সহযোগী অধ্যাপক হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে যোগ দেন।  ২০০৫ সালে তিনি অধ্যাপক হন। 

অধ্যাপক ডা. মালিহা রশীদ ২০০৭ সাল থেকে অবসরে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজের গাইনি ও অবস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দেশের অন্যতম সেরা একজন গাইনি চিকিৎসক হিসেবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হসপিটালে।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ