• সোমবার   ০৮ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ২৪ ১৪২৯

  • || ১০ মুহররম ১৪৪৪

দৈনিক গোপালগঞ্জ

জয়-পুতুলকে কমিটিতে চান তরুণরা

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯  

তরুণ প্রজন্মের কাছে আইকনিক ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুই সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে আগামী সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে তরুণরা দেখতে চান বলে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেছেন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয়ের হাত ধরে দেশের প্রযুক্তি উৎকর্ষতার সূচনা আর সমাজের প্রতিবন্ধিদের মূল ধারায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন সায়েমা ওয়াজেদ পুতুল। তাদের এই কর্মকাণ্ডে এরই মধ্যে তারা তরুণদের আইডলে পরিণত হয়েছেন। স্বপ্নবাজ এই দুই তরুণের নেতৃত্বে কাজ করতে উন্মুখ হয়ে আছেন দেশের তরুণসমাজ। তারা রাজনীতিতে এলে আওয়ামী লীগ যেমন সমৃদ্ধ হবে, তেমনি দেশ উপকৃত হবে।   

সম্প্রতি নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে দলের সম্মেলনসহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন দেলোয়ার হোসেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন 

আওয়ামী লীগের ভিশনগুলো বাস্তবায়নে এবার দলের জাতীয় সম্মেলনে তরুণদের বেশি মাত্রায় কেন্দ্রীয় কমিটিতে সম্পৃক্ত করার কথা শোনা যাচ্ছে। এই বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন?

দেলোয়ার হোসেন: আওয়ামী লীগ সব সময় তারুণ‌্যনির্ভর দল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সবসময়ই তরুণদের অগ্রাধিকার দিয়েই দল সাজিয়েছে দায়িত্বশীলরা। এরই ধারাবাহিকতায় গত সম্মেলনে বেশ কয়েকজন তরুণ আওয়ামী লীগে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। আওয়ামী লীগ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল। এই প্লাটফর্মে মানুষের জন্য কাজ করার বড় সুযোগ আছে।

পৃথিবীর সব মুভমেন্টে তরুণরা নেতৃত্ব দিয়েছে। প্রবীণের অভিজ্ঞতা আর নবীনের গতি মিলে দারুণ সমন্বয় হয়। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা গতি পাবে না যদি তরুণদের সম্পৃক্ত করা না হয়। এজন্য প্রবীণের অভিজ্ঞতা আর তরুণের গতিশীলতা যদি এক করা হয়, তাহলে সংগঠন শক্তিশালী হবে। আওয়ামী লীগের সম্মেলনগুলোতে এটি ধারাবাহিকভাবে হয়ে এসেছে। প্রজন্ম ধরে ধরে আওয়ামী লীগ তরুণদের নেতৃত্ব এনেছে বিভিন্ন সময়ে। নেত্রী বলেছেন, গতবার তিনি কিছু তরুণদের আওয়ামী লীগে সম্পৃক্ত করেছেন এবারও করবেন। নতুন জেনারেশন এসেছে। সেই জেনারেশনকে সম্পৃক্ত করতে কিছু তরুণদের নেতৃত্ব আনা উচিত। নেত্রী অবশ্যই এই বিষয় বিবেচনায় রেখেছেন।

সম্প্রতি তরুণদের মধ্যে রাজনীতিবিমুখ মনোভব দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন জরিপেও এই তথ্য উঠে এসেছে। তরুণদের রাজনীতিমুখী করতে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের পদক্ষেপ কী?

দেলোয়ার হোসেন : আওয়ামী লীগের রাজনীতি সব সময় যুগোপযোগী। যুগের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সবসময় পরিবর্তন হয়েছে। এজন্য সব সময় আওয়ামী লীগ অপেক্ষাকৃত তরুণদের সম্পৃক্ত করেছে দলে। তাদের প্রত্যাশা, চাওয়া, গাইডলাইনে আমলে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়েছে। সমাজের প্রতি, মানুষের প্রতি, মুক্তিযুদ্ধে আদর্শের প্রতি কমিটমেন্ট আছে, সমাজে ভালো অবস্থান আছে এমন ব্যক্তিত্বদের দলে সম্পৃক্ত করে আওয়ামী লীগ। এক্ষেত্রে তরুণরা অগ্রাধিকার পায়। তরুণদের বেশি করে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে, যাতে আগামী দিনে দক্ষ রাজনীতিবিদ তৈরি করা সম্ভব হয় এবং নেতৃত্বের সংকট তৈরি না হয়।

 আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা আবারো দলের দায়িত্ব নিচ্ছেন। নেতা-কর্মীরা বলছেন, তিনি দলের অপরিহার্য এবং তার বিকল্প তৈরি হয়নি। তবে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির প্রক্রিয়া এখনই শুরু উচিত বলে মনে করেন কী?

দেলোয়ার হোসেন: এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের জন্য শেখ হাসিনা অপরিহার্য নেতা। ওনার বিকল্প চিন্তা আমাদের নেই। জননেত্রী শেখ হাসিনা শুধু আওয়ামী লীগের নয়, বাংলাদেশের জন্য তার বিকল্প নেই। আপনি যদি পুরো উপমহাদেশের দিতে তাকান দেখবেন যে, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, মিয়ানমারের- অর্থাৎ এই অঞ্চলে কোনো সংকট হলে বিশ্ব শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে থাকে। কেন? এখানে শেখ হাসিনা কোনো ভূমিকা রাখতে পারেন।

এই যে বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে এতো আলোচনা, সেই বিশ্ব জলবায়ু আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া প্রথম সারির পাঁচ নেতার একজন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনাকে তো সারা বিশ্বই সমীহ করে। সারা বিশ্বে মানবতার জন্য বিশ্ববাসী যাকে সমীহ করে, সমাদার করে, তার বিকল্প তো নাই।

তাকে হত্যা করতে ২১ বার হামলা হয়েছে। আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তিনি বেঁচে যাওয়ার সুফল তো দেশের মানুষ পাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকে চ্যালেঞ্জ করে আমাদের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশ টিকে থাকবে সেটা অবিশ্বাস্য। কিন্তু শেখ হাসিনা তার ডাইনামিক নেতৃত্বে নিজের অর্থায়নে বড় বড় প্রজেক্ট দৃশ্যমান করছেন। বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন শেখ হাসিনা।

 দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের কথা মাথায় রেখে নেতা-কর্মীদের মধ্যে একটা আলোচনা ছিল যে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুই সন্তান সজীব ওয়াজদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। গতবার সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এই আলোচনা থাকলেও কমিটিতে তাদের দেখা মেলেনি। এবারও একই আলোচনা আছে। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

দেলোয়ার হোসেন: সজীব ওয়াজেদ জয় আইকনিক তারুণ‌্যের প্রতীক। আমাদের দেশে প্রযুক্তির বিকাশ ঘটেছে সজীব ওয়াজেদ জয়ের হাত ধরে। তাকে জননেত্রী শেখ হাসিনা তার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা করার পর থেকে দেশে প্রযুক্তির উন্নয়ন শুরু। অন্যদিকে প্রতিবন্ধী শিশুদের সমাজের মূল ধারায় নিয়ে আসার যে প্রক্রিয়া, এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন জননেত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। শেখ হাসিনার সন্তান হিসেবে নয়, একজন স্বপ্নবাজ তরুণ হিসেবে, একজন নারী হিসেবে, আওয়ামী লীগের প্লাটফর্মে আমরা তাদের পেলে দল সমৃদ্ধ হবে। আমরা তরুণরা সমৃদ্ধ হবো যদি তাদের মতো লিডারশিপ পাই। সেক্ষেত্রে দেশ, দল, দেশের জনগণ উপকৃত হবে। আমাদের মতো তরুণ যারা রয়েছে তারা এই দুই স্বপ্নবাজ তরুণের সঙ্গে কাজ করতে চাই।

আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে দেশের মানুষের একটা আলাদা আগ্রহ থাকে কেমন নেতৃত্ব আসছে। নেতৃত্ব বাছাইয়ের প্রক্রিয়া কেমন হতে পারে বলে মনে করেন?

দেলোয়ার হোসেন: পরিশুদ্ধ, ত্যাগী, মানুষের জন্য, দেশের জন্য দরদী-এই ধরনের ব্যক্তিত্বকে সম্পৃক্ত করতে নেতৃত্ব চায় আওয়ামী লীগ। এটা খুব পজিটিভ সাইন যে, আওয়ামী লীগ তাদের লিডারশিপকে কোথায় বসাচ্ছে, কোন লেবেলের মানুষকে দিচ্ছে; যাতে দেশের জন্য, মানুষের জন্য ভালো হয়। নেত্রীর যে ভবিষ্যৎ ভিশন রয়েছে, সেই ভিশন বাস্তবায়নে সহায়ক হতে পারে এরকম লোককে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। দেশের মানুষের কথা মাথায় রেখে উন্নয়নের দিকে দৃষ্টি দিয়ে মানুষকে আস্থায় নিয়ে যারা কাজ করছেন তারাই নেতৃত্বে আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

যদি ভালো মানুষকে নেতৃত্বে আসে তাহলে সে ভালো কিছু দেবে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য। কারণ ভবিষ্যতে সেই দায়িত্বশীল জায়গা কাজ করার সুযোগ পাবে। যদি খারাপ মানুষকে নেতৃত্ব দেয়া হয় এর একটা খারাপ ইমপেক্ট পরে। জননেত্রী শেখ হাসিনা এমন লোককে তাই নেতৃত্বে আনছেন যাদের ওপর মানুষ আস্থাশীল। এর সুফল ভোগ করবে মানুষ। কারণ দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে।

 দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে সবর্স্তরের নেতা-কর্মী। সম্মেলনে ক্লিন ইমেজের নেতারা সামনের সারিতে আসছেন বলে বিশ্বাস করেন নেতা-কর্মীরা। এ নিয়ে আপনার অভিমত কী?

দেলোয়ার হোসেন: শুদ্ধি অভিযান শুধু আওয়ামী লীগে নয় সর্বত্র চালানো উচিত। ব্যাপারটি এমন না যে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্যে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মধ্যে নেই। আওয়ামী লীগের কাছে দেশে মানুষের চাওয়া অনেক বেশি, প্রত্যাশা অনেক বেশি। আওয়ামী লীগ হচ্ছে দেশ ও মানুষের জন্য কি করবে সেই টার্গেট ঠিক করে এগিয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু যখন স্বাধীনতার ডাক দেয় এই চাপ কিন্তু তার ওপর কেউ দেয়নি। বরং বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ চিন্তা করেছে পাকিস্তানের বঞ্চনার জায়গা থেকে যদি বাঁচতে হয় আমাদের স্বাধীন হতে হবে। এটা বঙ্গবন্ধুর সিদ্ধান্ত। তিনি এজন্য সবাইকে সচেতন করেছেন, তৈরি করেছেন স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য। বঙ্গবন্ধুর মতো জননেত্রী শেখ হাসিনাও সেটি শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগ দুর্নীতিবিাজদের প্রশ্রয় দেয় না, শেখ হাসিনা দুর্নীতিবাজদের পছন্দও করে না। এই বিষয়ে আগে থেকেই জিরো টলারেন্স নীতি নেয়ার পার কিছু কিছু নেতিবাচক খবর আসছে। আওয়ামী লীগের এদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে। এটা শুধু আমাদের দলের জন্য নয় অন্য দলগুলোর জন্য সতর্কতামূলক ও শিক্ষনীয় বার্তা। শেখ হাসিনা নিজের দলের অভিযুক্তদের সংগঠনের সঙ্গে রাখছেন না। কিন্তু দেখেন দেশের একটি রাজনৈতিক দল বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে কারাগারে রয়েছেন। তাহলে দলের নিচের সারির নেতারা কতটা দুর্নীতিতে নিমজ্জিত?

পরিচিতি

আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ২০তম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান।

ছাত্রজীবনেই রাজনৈতিক হাতেখড়ি দেলোয়ার হোসেন ১৯৮৭ সালে মাদারীপুর সদর উপজেলার মিঠাপুর লক্ষীনারায়ণ উচ্চ বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ঢাকা কলেজের ছাত্র থাকাকালীন ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন ১৯৮৯ সাল থেকে। ১৯৯৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যখন দায়িত্ব পালন করেছিলেন তখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ের ছাত্র। অনার্স পড়ার পাশাপাশি ১৯৯৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি। পরবর্তী সময়ে ২০০২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই শেষ হয় ছাত্র রাজনীতির পথচলা।

এরপর তিনি জোট সরকারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। এছাড়াও এক-এগারোর পটপরিবর্তনের পর শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনেও ভূমিকা রাখেন। ২০১২ সালে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। একই সময়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক হিসেবে বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটিতে দায়িত্বরত ছিলেন।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ