• বৃহস্পতিবার   ০৭ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ২৩ ১৪২৯

  • || ০৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

দৈনিক গোপালগঞ্জ

ইভিএমে আস্থা রেখে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: সিইসি

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১ মে ২০২২  

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম সম্পাদক, দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও সুশীল সমাজ , শিক্ষাবীদের মতামত উপেক্ষা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বে কমিশন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ওপর আস্থা রেখে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভোট গ্রহণ করবে । তালিকাভুক্ত রাজনৈতিক দলের সামনে ইভিএম মেশিনের কার্য ক্ষমতা যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষা করে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সক্ষমতা অনুযায়ী ইভিএমে ভোট গ্রহণ করতে চায় নির্বাচন কমিশন।

সূত্র জানায়, ইসির কাছে বর্তমানে যে পরিমাণ ইভিএম আছে, তা দিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে পুরোটাই ইভিএম ব্যবহার করা যাবে না।আমরা ১০০ থেকে ১২০ আসনে ইভিএম দিয়ে ভোট গ্রহণ করতে পারবো । তবে নির্বাচনের আগে আমরা (ইসি) সক্ষমতা বাড়ানো পরিকল্পনা আছে। সক্ষমতা বাড়াতে পারলে আরও বেশি আসনে ইভিএম ব্যবহার করা যেতে পারে।

বর্তমানে ইসি ইভিএম পরিচালনায় এনআইডি প্রকল্পের জনবলকে কাজে লাগিয়েছে এতে করে এনআইডি সেবায় সমস্যা দেখা দিয়েছে । এ করণে ইসির বৃহৎ আকারে ইভিএম ব্যবহারের সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান কমিশন ইভিএমে বেশি আস্থা রাখছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর স্থানীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার শুরু করেছে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) নির্বাচন আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠিত হবে যা পুরোটাই ইভিএমে হবে।একই তফসিলে ছয়টি পৌরসভা ও ১৩৫টি ইউনিয়ন পরিষদেও ভোট হবে।

জানা যায়, প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের আগেই ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তড়িঘড়ি করে ৮০ হাজার ইভিএম ক্রয় করে ইসি। ওই সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ইভিএমের বিরোধিতা করলেও পিছু হটেনি কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন। এজন্য নেওয়া হয় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প। সিদ্ধান্ত হয় ২ লাখ ২০ হাজার ইভিএম ক্রয়ের। বিগত কমিশনের পরিকল্পনা ছিল দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ১৫০ আসনে ইভিএম ব্যবহারের। ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার ইভিএম বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির কাছ থেকে কেনা হয়। প্রতিটি মেশিনের পেছনে ব্যয় হয় ২ লাখ ১০ হাজার টাকার মতো, যা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ব্যবহৃত ইভিএমের চেয়ে দাম কয়েকগুণ বেশি।

এদিকে গত শনিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সবগুলো আসনে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ করা হবে।

ইসি জানায়, সারা দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের সক্ষমতা নেই নির্বাচন কমিশনের। সব আসনে ইভিএমে ভোট করতে হলে আগামী নির্বাচনের আগে ইসিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। বিশ্লেষকরা জানান, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছ থেকে ৩০০ আসনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিলেই হবে না।

নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, সংসদ নির্বাচনের আগে ইভিএম মেশিন যাচাই করব আমরা। রাজনৈতিক দলের সামনে যাচাই করা হবে। দলগুলোকে বলা হবে আপনাদের এক্সপার্ট নিয়ে আসেন। ইভিএমের কোনো ত্রুটি আছে কি না, দেখেন। যদি কোনো ত্রুটি দেখাতে পারেন, তবে আমরা ইভিএম ব্যবহার করব না। আর যদি কোনো ত্রুটি না থাকে, তবে সক্ষমতা অনুযায়ী আমরা ইভিএম ব্যবহার করব। কারণ ইভিএমে স্বচ্ছ ভোট করা সম্ভব।

এর আগে মঙ্গলবার (২২ মার্চ) নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার নিয়ে জোর আপত্তি তুলেছিলেন। লেখক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ যন্ত্রে যে ম্যানুপুলেট করা যায় না-তা নিশ্চিত না করে ব্যবহার করা যাবে না।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছিলেন, বিনা টেন্ডারে কীভাবে ইভিএম এলো। ইভিএম নিয়ে একজনের এত উৎসাহ কেন, তা নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে। কোনোভাবে বড় পরিসরে ইভিএম ব্যবহার করা যাবে না। চাইলে ৫ থেকে ১০ কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করতে পারে। তবে এটা না হওয়াই ভালো।

সবার মতামত নিয়ে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছিলেন, আমাদের হারানোর কিছু নেই। যে বয়স হয়ে গেছে তাতে প্রধানমন্ত্রী হওয়ারও সম্ভাবনা নেই। কাজেই আমাদের আসলে পাওয়ার কিছু নেই। এখান থেকে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আমরা যদি ইতিবাচক কিছু করতে পারি, আপানারা যে সাজেশনগুলো দিয়েছেন, ওগুলো বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনকে যদি অবাধ ও সুষ্ঠ করা যায়, তাহলে সেটা আমাদের সবার অংশগ্রহণে একটা সফলতা হতে পারে।

সিইসি বলেছিলেন, ১০০ শতাংশ সফলতা হয়তো হবে না, হয়ও না কখনো। কিন্তু কেউ বলেছেন সেটা যদি ৫০ শতাংশ ৬০ শতাংশও গ্রহণযোগ্য হয়, সেটাও বড় সফলতা।

তিনি আরও বলেছিলেন, নারায়ণগঞ্জের ইলেকশন খুব সুন্দর হয়েছে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমের এটা একটা বড়দিক।
তিনি বলেছিলেন, ইভিএম ব্যবহারে অনেকেই অভ্যস্ত নয়। মেশিনের মাধ্যমে কোনো ডিজিটাল কারচুপি হয় কি না, পৃথিবীর অনেক দেশ ইভিএম বাতিল করে দিয়েছে, কেন করলো সেটা গবেষণা করা উচিত বলেও অনেকে মতামত দিয়েছেন।

এছাড়া যদি কোনরকম কারচুপি হয়ে থাকে তাহলে রিকাউন্টিং করা যাবে কি-না, এটার কোনো ব্যবস্থা আছে কি-না, তা আমাদেরও বুঝতে হবে। আমাদের টেকনিক্যাল কমিটির মিটিং করে একটা ধারণা নিতে হবে।

জানা যায়, মাত্র দুই বোতাম চেপেই ইভিএম-এ ভোট দেয়া যায়। ইভিএম-এ জাল ভোট দেয়া, কেন্দ্র দখল করে ভোট প্রদান, একজনের ভোট অন্যের পক্ষে প্রদান, একবার ভোট দিয়ে থাকলে দ্বিতীয়বার ভোট দেয়া যায় না। কোন কারণে ভোটার কেন্দ্রে না গেলে বা মৃত ভোটারের ভোট অন্য কারো পক্ষে প্রদান করা সম্ভব হবে না। কোন অবস্থাতেই অবৈধ ভোট দেয়ার সুযোগ নেই, এমনকি ইভিএম ছিনতাই করে নিলেও তার সুযোগ নেই। নির্ধারিত সময়ের আগে মেশিন চালু হওয়ার সুযোগ নেই বিধায় ভোট গ্রহণ শুরুর পূর্বে অবৈধ ভাবে ভোট গ্রহণ বা প্রদানেরও সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ১৭ জুন দেশে যন্ত্রের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের প্রচলন শুরু করে বিগত ড. এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন। সে সময় তারা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা করে প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইভিএম তৈরি করে নেয় কমিশন।

এরপর ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি কেএম নুরুল হুদা কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ইভিএম ক্রয় করে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি থেকে।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ