• মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ ||

  • শ্রাবণ ১ ১৪৩১

  • || ০৮ মুহররম ১৪৪৬

দৈনিক গোপালগঞ্জ

গান ও বৈঠার তালে জমজমাট নৌকা বাইচ দেখলো আত্রাই পাড়ের মানুষ

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩  

নাটোরের সিংড়ার আত্রাই নদীতে গান ও বৈঠার তালে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।  

শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চলনবিলে এ নৌকা বাইচ উৎসবের উদ্বোধন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জুনাইদ আহমেদ পলক।

এ সময় নৌকা বাইচ দেখতে নদীর দু-পাড়ে হাজারও মানুষের ঢল নামে। সকাল থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে আসতে থাকে দর্শনার্থীরা। অনেকে পরিবার, প্রিয়জন ও বন্ধুদের সঙ্গে নৌকা বাইচ উপভোগ করতে আসেন। বাড়িতে জামাই-মেয়ে ও আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে এক মিলন মেলায় পরিণিত হয়। বাড়ির বউ-ঝিয়েরা কাজ শেষ করে নদীর পাড়ে এসে নৌকা বাইচ উপভোগ করেন। অন্যদিকে আনন্দ ও উল্লাসে মেতে উঠেন তরুণ-তরুণীরাও।

নৌকাবাইচ উৎসবে বাঘাবাড়ী, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ, উল্লাপাড়া, পাবনাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় অর্ধশত ছোট-বড় নৌকা এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

বাইচ দেখতে আসা এবি মোস্তফা খোকন নামে স্থানীয় একজন বলেন, সিংড়ায় নৌকা বাইচ উপলক্ষে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসেছি। অনেক দিন পর নৌকা বাইচ দেখতে এসেছি। সবাই মিলে উপভোগ করছি, খুব ভালো লাগছে। এখন তো তেমন নৌকা বাইচ দেখাই যায় না। প্রচুর মানুষ এসেছে এ নৌকা বাইচ দেখতে।

তাসমিনা খানম নামে এক গৃহবধূ বলেন, এ আত্রাই নদীতে প্রতিবছর নৌকা বাইচ খেলা হয়। নৌকা বাইচ উপলক্ষে এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। বাড়িতে আত্মীয়স্বজনরা বেড়াতে আসেন। বাড়ির কাজ-কর্ম শেষ করে সবাই মিলে নদীর পাড়ে বসে নৌকা বাইচ উপভোগ করি।

ষাটোর্ধ্ব আবির মাহমুদ বলেন, একসময় নদী, বিলে প্রচুর নৌকা বাইচ খেলা হতো। এখন তা দেখা যায় না। আগের মতো এসব খেলা আর হয় না। আমাদের সময় প্রত্যেক নদীতে নৌকা বাইচ হতো। আমরা যুবক বয়সে বহু দুরে যেতাম এ বাইচ দেখতে। 

আরিফা জামান নামে আরেক গৃহবধূ বলেন, সকালে স্বামী, সন্তানসহ মামা শ্বশুরের বাড়িতে দাওয়াত শেষ করে নৌকা বাইচ দেখতে এসেছি। অনেক দিনের ইচ্ছা নৌকা বাইচ দেখবো। এত বড় পরিসরে কখনও নৌকা বাইচ দেখা হয়নি। এসে অনেক ভালো লাগছে। হাজার হাজার মানুষ এ নৌকা বাইচ দেখতে এসেছেন। যেন ঈদের মতো আনন্দ লাগছে।

চলনবিল নৌকাবাইচ উৎসব বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব রুহুল আমিন জানান, চলনবিল নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন জেলার ছোট-বড় মিলে প্রায় অর্ধতাধিক নৌকা অংশগ্রহণ করেছে। পুরো চলনবিলেরর মানুষ উৎসবে মেতেছেন। নদীর দু-পাড়ে মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থীরা এসেছেন। 

এ নৌকা বাইচ উৎসবে প্রতিয়োগিতায় বিজয়ী দল জয় এক্সপ্রেসকে ১৫০ সিসি একটি মোটর সাইকেল দেওয়া হয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে বড় ফ্রিজ ও টিভি উপহার দেওয়া হবে। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা প্রশাসক আবু নাসের ভূঁইয়া, পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম, সিংড়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জান্নাতুল ফেরদৌস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা খাতুন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওহিদুর রহমান শেখ প্রমুখ।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ