• শুক্রবার ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ||

  • অগ্রহায়ণ ২৩ ১৪৩০

  • || ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৫

দৈনিক গোপালগঞ্জ

মুক্তিযোদ্ধাদের ভিআইপি মর্যাদাসহ ৮ দাবি সেক্টর কমান্ডারস্ ফোরামের

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩  

১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে সেক্টর কমান্ডারস্ ফোরাম- মুক্তিযুদ্ধ’৭১।

সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দাবিগুলো জানান সংগঠনটির নেতারা।

তাদের দাবিগুলো হলো-
১. বাংলাদেশের মাটিতে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের ঘাতক দোসরদের দ্বারা সংঘটিত নিষ্ঠুরতম গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়।

২. জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কুশীলবদের চিহ্নিত করতে অবিলম্বে একটি জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা এবং তদন্তের ফলাফল শ্বেতপত্র আকারে প্রকাশ করা।

৩. মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে যুগ যুগ ধরে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে বাংলাদেশের সব অঞ্চল এবং প্রধান প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র ও বধ্যভূমিতে ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্তম্ভ’ নির্মাণ। সেইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান বন্ধু রাষ্ট্র ভারতীয় মিত্র বাহিনীর যেসব সৈনিক আমাদের স্বাধীনতার রণাঙ্গনে জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ।

৪. বাংলাদেশের সব অভ্যন্তরীণ সংকটের সমাধান অবশ্যই দেশের ভেতর থেকে হতে হবে, বাইরের হস্তক্ষেপে নয়।

৫. বাংলাদেশের সংবিধানে ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ’ ও ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা' শব্দগুলো সংযোজন করা। পাশাপাশি জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ‘ভিআইপি’ মর্যাদা নিশ্চিত করা। দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের নিকট পরিবারের সদস্যদের জন্য সরকারি খরচে অগ্রাধিকারভিত্তিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।

৬. বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতার অঙ্ক প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা।

৭. জাতির জনকের হাতে তৈরি ১৯৭২ সালের মূল সংবিধান পুনরুদ্ধার এবং দেশের গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক অগ্রযাত্রার স্বার্থে সংবিধানের মূলনীতি বিরোধী উগ্র সাম্প্রদায়িক ও ধর্মান্ধ দল নিষিদ্ধ করা। সেইসঙ্গে দেশের সব অঞ্চলে বাঙালি সংস্কৃতি চর্চার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা করা এবং সব পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের হাতে মহান মুক্তিযুদ্ধের অবিকৃত ইতিহাস সরবরাহ করা।

৮. শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নতুন প্রজন্মের জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে ঢাকাসহ বড় শহরের নিকটবর্তী স্থানে স্থায়ী মুক্তিযোদ্ধা সমাধিক্ষেত্র নির্মাণ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের মহাসচিব হারুন হাবীব বলেন, শিগগিরই আমাদের দাবিগুলো তথ্য উপাত্তসহ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দাখিল করা হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ শতাব্দী প্রাচীন আর্মেনিয়া গণহত্যার স্বীকৃতি দিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপে লাখো ইহুদি জনগোষ্ঠীর নিধনের স্বীকৃতি দিয়েছে। সাম্প্রতিককালের রুয়ান্ডা, কম্বোডিয়া, সিয়েরা লিওন, বসনিয়ার গণহত্যাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের গণহত্যার স্বীকৃতি দেয়নি।  

সংগঠনের কার্যনির্বাহী সভাপতি মো. নূরুল আলমের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ম হামিদ, মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার, সাবেক আইজিপি কেএম শহিদুল হক, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ পাটোয়ারী, আব্দুল মাবুদ ও শাহজাহান মৃধা বেনু।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ