• সোমবার ১৭ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৩ ১৪৩১

  • || ০৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

দৈনিক গোপালগঞ্জ

বঙ্গবন্ধু ‘জুলিও কুরি’ পদক নীতিমালা মন্ত্রিসভায় উঠছে

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০ মে ২০২৪  

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ বিশ্ব শান্তি পরিষদ ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদক প্রাপক হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের নাম ঘোষণা করা হয় এবং ১৯৭৩ সালের ২৩ মে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত এশীয় শান্তি সম্মেলনে সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল রমেশচন্দ্র বঙ্গবন্ধুকে আনুষ্ঠানিকভাবে জুলি ও কুরি এই আন্তর্জাতিক প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ তথা বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান” ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদক নীতিমালা ২০২৪ এর খসড়া আজ মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। স্বাধীনতা পদক নীতিমালার সাথে কিছু মিল রেখে এ নীতিমলা করা হচ্ছে। সরকারে পদক পুরুস্কার পদক নীতিমালায় প্রথম রাখা হচ্ছে স্বাধীনতা পদক ২য় পদক হিসেবে ‘বঙ্গবন্ধু জুলি ও কুরি’পদক রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ নীতিমলা হলে বাংলাদেশের নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের এ পুরুস্কার প্রদান করা হবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ শেখ হাসিনা চাইলে যে কোনো ব্যক্তিকে এ পুরুস্কার প্রদান করা যাবে এমন বিধান যুক্তকরা হয়েছে। যা স্বাধীনতা পদক নীতিমালায় রয়েছে।

এছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) আইন, ২০২৪ এর খসড়ার কিছু সংশোধনী এনে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া বেশ কয়েকটি আইন রয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বিকালে সচিবালয় মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন প্রেস ব্রিফিংয়ে করবেন।

জানা গেছে, সার-সংক্ষেপে বলা হয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুব রহমানের “জুলিও কুরি’ শান্তি পদক প্রাপ্তির ৫০ বছর পুর্তি অনুষ্ঠানের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নীতিমালা করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে নির্দেশনা প্রদান করেন। এর পরে গত বছর ১৭ মে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুব রহমানের “জুলিও কুরি’ শান্তি পদক প্রাপ্তির ৫০ বছর পুর্তি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ নীতিমালা গঠনে প্রক্রিয়া শুরু করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে বলা হয়, স্বাধীন বাংলাদেশে কোনো রাষ্ট্রনেতা এটিই ছিল প্রথম আন্তজাতিক পদক লাভ এবং বাংলাদেশের জন্য প্রথম আন্তজাতিক সম্মান। স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার প্রধানকে বিশ্বশান্তি পরিষদের শান্তি পদক প্রদান ছিলো বিশ্ব শান্তি ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় নজাতিক পিতা নিরলস প্রচেষ্টা, তার কর্ম, রাজনৈতিক দর্শন ও প্রজ্ঞার আন্তজাতিক স্বীকৃতি। এতে আরো বলা হয়, এ অর্জন বিশ্ব সভায় বঙ্গবন্ধুকে অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছিলো এবং বাংলাদেশের ভাবমুর্তি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত বছর ৯ এপ্রিল সভায়র মাধ্যমে একটি কর্মসূচি চুড়ান্ত করে তা পালিত হয়েছে। পরে একই বছরে ২ মে নীতিমালা ও আইনের পযালোচনা সভা করা হয়। গতবছর ২৮ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নীতিমালা ও আইনের খসড়ায় নিদেশনা প্রদান করে। তবে স্বাধীনতা পদক নীতিমলার সঙ্গে মিল রেখে এই নীতিমলা ও আইন করা হচ্ছে।

আগামী ২৩ মে। ১৯৭৩ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয় জুলিও কুরি পদক। সেই পদক প্রাপ্তির ৫২ তম বার্ষিকী হতে যাচ্ছে। তার আগেই সরকার এ নীতিমলা বাস্তবায়ন করতে চায়। যাতে করে আগামী বছর থেকে এ পদক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিতরণ করতে পারেন। সেই কারণে এ নীতিমালার দ্রুত চূড়ান্ত করা হচ্ছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ তাঁকে করেছে বাঙালির ‘অবিসংবাদিত নেতা’। আর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে পান শান্তি পদক জোলিও কুরি। তিনিই জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান। বিশ্বশান্তি পরিষদের প্রেসিডেনশিয়াল কমিটির সভায় ১৪০টি দেশের প্রায় ২০০ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সবাই একমত হয়েছিলেন, সারা জীবনের দর্শন আর বাংলাদেশের মুক্তি লর ১০ অক্টোবর পদকপ্রাপক হিসেবে বঙ্গবন্ধুর নাম ঘোষণা করে। আর পরের বছর ২৩ মে এশীয় শান্তি সম্মেলনের এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে সেই পদক বঙ্গবন্ধুকে পরিয়ে দেন পরিষদের তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল রমেশচন্দ্র। সেই অনুষ্ঠানে রমেশচন্দ্র বলেছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলার নন, তিনি বিশ্বের এবং তিনি বিশ্ববন্ধু।’ স্বাধীন বাংলাদেশে কোনো রাষ্ট্রনেতার সেটিই ছিল প্রথম আন্তর্জাতিক পদক লাভ।যুদ্ধের সর্বাধিনায়কত্বের প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধুকে জুলিও কুরি পদক প্রদান করার।
বিশ্বশান্তিতে বঙ্গবন্ধুর আগ্রহ ছাত্রাবস্থা থেকেই। পরে রাজনীতির মাঠে পুরোপুরি নেমে তিনি এদিকে আরও বেশি নজর দেন। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে তিনি দীর্ঘদিন কারাভোগ করে খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। মুক্তি পান ১৯৫২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি। আর সে বছরই অক্টোবরে চীনে অনুষ্ঠিত হয় ‘পিস কনফারেন্স অব দ্য এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক রিজিওন্স’। তাতে যোগ দেন বঙ্গবন্ধু। এই সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি প্রাসঙ্গিকভাবে অন্য ৩৭টি দেশ থেকে আগত শান্তিকামী নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেছিলেন। সে বক্তব্য আর অভিজ্ঞতার কথা তিনি একটি গ্রন্থে লিখেছেন। ১৯৫৬ সালের ৫–৯ এপ্রিল স্টকহোমে বিশ্বশান্তি পরিষদের সম্মেলনেও অংশ নেন বঙ্গবন্ধু। শান্তি প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘বিশ্বশান্তি আমার জীবনের মূলনীতি। নিপীড়িত, নির্যাতিত, শোষিত ও স্বাধীনতাকামী সংগ্রামী মানুষ, যেকোনো স্থানেই হোক না কেন, তাঁদের সঙ্গে আমি রয়েছি। আমরা চাই বিশ্বের সর্বত্র শান্তি বজায় থাকুক, তাকে সুসংহত করা হোক। বাংলায় এই পদকের নাম ‘জুলিও কুরি’ বলা হলেও এর ফরাসি উচ্চারণ ‘জোলিও ক্যুরি’। ফরাসি পদার্থবিজ্ঞানী জঁ ফ্রেডেরিক জোলিও ক্যুরি ১৯৫৮ সালে মৃত্যুবরণ করলে বিশ্বশান্তি পরিষদ তাদের শান্তি পদকের নাম ১৯৫৯ সাল থেকে রাখে ‘জোলিও ক্যুরি’। ফ্রেডেরিকের মূল নাম ছিল জঁ ফ্রেডেরিক জোলিও। ফ্রেডেরিকের স্ত্রী ইরেন ক্যুরি।

সিইসি ও নির্বাচন কমিশনারদের বেতন-ভাতা আইনের সংশোধন প্রস্তাব
এদিকে বিচারপতিদের সমান সুযোগ সুবিধা পাবেন নির্বাচন কমিশনাররা এমন বিধান যুক্ত করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) আইন, ২০২৪ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিলো মন্ত্রিসভা। তবে এবার এ আইনের কিছু ধারা সংশোধন করে আবার এ আইন অনুমোদনর জন্য আজ সোমবার মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হচ্ছে। এ আইনের আওতায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির সমান বেতনভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পাবেন।এতে কিছু সংশোধন করা হচ্ছে।
এর আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এরআগে এ আইনের ইংরেজি ভার্সন অনুযায়ী আমাদের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি যে বেতনভাতা ও সুযোগ সুবিধা পান আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররাও সেই সুযোগ সুবিধা পাবেন। এই নটিই পুনরায় বাংলায় করা হয়েছে। সেটির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গতবছর ২১ আগস্ট বিচারপতিদের সমান সুযোগ-সুবিধা চেয়ে আইনের খসড়া অনুমোদন করে কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে আপিল বিভাগের বিচারপতিরা যে সুযোগ-সুবিধা পান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সেই সুবিধা এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের সমপর্যায়ের সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে অন্য কমিশনারদের জন্য।

এ বৈঠকে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) আইন-২০২৩, এর বিষয়ে ১৯৮৩ সালের যে অর্ডিনেন্স আছে, সেটা বাংলায় করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সরকার ও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সামরিক শাসনমালে যে সব আইনগুলো ছিল, সেগুলো বাংলায় আইন করা হবে। এ প্রেক্ষিতেই কমিশনের নির্দেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) আইন-২০২৩ আজ কমিশন সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ