• সোমবার   ০৮ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ২৪ ১৪২৯

  • || ১০ মুহররম ১৪৪৪

দৈনিক গোপালগঞ্জ

পেটের ভেতর কাঁচি রেখেই সেলাই, দুই বছর পর হলো অপারেশন

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর ২০২১  

প্রায় দুই বছর আগে পেটে ব্যথার জন্য মনিরা খাতুনের (১৭) করা হয় অপারেশন। হঠাৎ করে আবারো পেটে ব্যথা শুরু হলে এক্সরে করার পর পেটে মেলে ঝকঝকে কাঁচি (রক্ত নালী চেপে ধরার যন্ত্র)। শনিবার (১১ ডিসেম্বর) ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ওই রোগীর অপারেশন করে কাঁচিটি  অপসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ওই রোগী আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন। 

এদিন মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাহমুদুর রহমান মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পেটে কাচি থাকা মনিরা খাতুন মুকসুদপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঝুটিগ্রামের খাইরুল মিয়ার মেয়ে।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের ঝুটিগ্রামের খাইরুল মিয়ার মেয়ে মনিরা খাতুন (১৭) প্রায় ২ বছর আগে ২০২০ সালের মার্চ মাসে পেটে ব্যথার জন্য ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসা শেষে পেটে ব্যথার জন্য একটি অপারেশন করেন চিকিৎসকরা। এ অপারেশনের কয়েকদিন পরেই মনিরার নগরকান্দা উপজেলার পৈলানপট্টি গ্রামে বিয়ে হয়। পরে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন। এমনকি ব্যথার কারণে মনিরার বাচ্চাটি নষ্ট হলে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় স্বামী। এরপর বিভিন্ন গ্রাম্য চিকিৎসা করালেও তার পেট ব্যথা না কমায় বিভিন্ন ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে প্রায় ২ বছর যাবৎ ব্যথা চাপিয়ে রাখেন তিনি।

কিন্তু গত কয়েকদিন আগে তার পেটে অসহনীয় ব্যথা উঠলে মুকসুদপুর উপজেলা বেসরকারি ক্লিনিক লাইফ কেয়ারের চিকিৎসক ডা. বদরুন নাহার ববির কাছে যান। পরে ডা. বদরুন নাহার ববি একই কমপ্লেক্সের সার্জারি চিকিৎসক ডা. মনিরুজ্জামানের কাছে পাঠান। এসময় তিনি রোগীকে এক্সরে করতে বলেন এবং এক্সরে রিপোর্টে মনিরার পেটে কাঁচিটি দেখতে পান।

মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মনিরুজ্জামান মুঠোফোনে জানান, ওই রোগীর পেটে অসহনীয় ব্যথা উঠলে মুকসুদপুর উপজেলা বেসরকারি ক্লিনিক লাইফ কেয়ারের চিকিৎসক ডা. বদরুন নাহার ববির কাছে যান। পরে ডা. বদরুন নাহার ববি আমার কাছে পাঠালে ওই রোগীকে এক্সরে করতে বলা হয় এবং রিপোর্টে কাঁচিটি মনিরার পেটের মাঝে দেখতে পাওয়া যায়।

মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাহমুদুর রহমান মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পেটে ব্যথা নিয়ে ওই রোগী ভর্তি হলে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অপারেশনের সময় ভুলে তার পেটের ভেতরে এই কাঁচিটি (রক্ত নালী চেপে ধরার যন্ত্র) রেখে দেওয়া হয়েছিল। যা পেটের ভেতরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সাথে জড়িয়ে গিয়েছিল। 

তিনি আরো বলেন, আজ শনিবার (১১ ডিসেম্বর) ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অপারেশন করে ওই রোগীর পেট থেকে কাঁচিটি বের করা হয়েছে। তাকে আইসিউতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ওই তরুণীর খালু ঘুনষী গ্রামের শহীদুল ইসলাম মুঠোফোনে জানায়, আর্থিক সমস্যার কারণে অপারেশন করাতে দেরি হয়। আমরা এ ঘটনাটি তদন্ত করে শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।

ওই তরুণীর ভাই কাইয়ুম বলেন, যে ডাক্তার অপারেশন করেছিলেন সেই ডাক্তার আবারও অপারেশন করে দিতে চেয়েছিলেন।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ