ব্রেকিং:
ফরিদপুরে যুবদল নেতা গ্রেফতার গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ‘বি’ ইউনিটের ফল প্রকাশ মাদারীপুরে সাপের ছোবলে বিজিবি সদস্যের মৃত্যু নয়াপল্টনে পুলিশের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলা, গ্রেফতার ৪৪ হবিগঞ্জের মাধবপুরে দুই ট্রাকের সংঘর্ষ, নিহত ২
  • বুধবার   ২৭ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ১২ ১৪২৮

  • || ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

দৈনিক গোপালগঞ্জ

বিএনপির ২০ দলীয় জোটে অস্থিরতা

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর ২০২১  

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে চরম অস্থিরতা চলছে। মূল্যায়ন না পাওয়ার অভিযোগ তুলে একের পর এক জোট ছাড়ছে শরিকরা। ভাঙ্গনের সুর বাজছে জোটে। বিএনপি ‘একলা চলো’ নীতি অনুসরণ করার কারণেই মূলত এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

খেলাফত মজলিসের একজন শীর্ষ নেতা জানান, বিএনপির কয়েকজন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতার সাম্প্রতিক কার্যক্রমে মনে হয়েছে, তারা জোটে থাকা ইসলামি দলগুলোর ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী নন। অন্যান্য শরিকদের সঙ্গেও সুসম্পর্ক রাখতে চাইছে না। আমরা জোট করেছি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে। এই জোট রক্ষা ও ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য এখন পর্যন্ত তিনিই ভূমিকা রেখেছেন। খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে বিএনপি জোটের শরিকদের তেমন মূল্যায়ন করছে না। এখন তো শরিকদের সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ করে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বৈঠক পর্যন্ত হয় না। 

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ২০ দলীয় জোটে কোনো সমস্যা নেই। আমরা মনে করি, সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে অনৈক্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে, এটা এরই অংশ। 
স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ার কারণে দলগুলো চলে যাচ্ছে-ব্যাপারটা এমন নয়। সবচেয়ে বড় কারণ সরকারের পক্ষ থেকে দলগুলোর প্রতি চাপ। এছাড়া দলগুলোর মধ্যে বিরোধ রয়েছে। একটি অংশ চলে গেলেও আরেকটি অংশ বিএনপির সঙ্গে রয়েছে। তিনি বলেন, ইসলামি দলগুলোর নেতারা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মসজিদের ইমাম কিংবা মাদ্রাসার শিক্ষক। তারা তাদের পেশা ধরে রাখার জন্য অনেক সময় বাধ্যও হন এমন সিদ্ধান্ত নিতে।

শুক্রবার সপ্তম দল হিসাবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ত্যাগ করে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল খেলাফত মজলিস। এর আগে ২০১৬ সালের ৭ জুন ২০ দলীয় জোট ছেড়ে যায় মুফতি ফজলুল হক আমিনীর প্রতিষ্ঠিত ইসলামি ঐক্যজোট (নিবন্ধিত)। ২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ (নিবন্ধিত), ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) ও লেবার পার্টি, ২০১৯ সালের ৬ মে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ (নিবন্ধিত) এবং ১৪ জুলাই জোট ছেড়ে যায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (নিবন্ধিত) । বিজেপি ছাড়া এসব দলের একটি অংশ ২০-দলীয় জোটে থাকলেও তাদের নিবন্ধন নেই।

জোটে বিএনপি ছাড়া এখন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি। এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বলেন, জোটে যেহেতু একে অপরের সঙ্গে দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে, অনেকের মধ্যে হতাশা কাজ করছে এবং ভালো ভবিষ্যৎ দেখছে না। তাই ঘনঘন বৈঠক হলে সবাই তার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে পারত এবং সমাধান পেত। তাহলে এ ধরনের হতাশা কাজ করত না, দূরত্ব সৃষ্টি হতো না, কেউ জোট ছেড়েও যেত না। সবাইকে নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে সমাধান করা বা প্রত্যেক বিষয়েই কিছু ধারণা দেওয়াটা রাজনীতিতে অতি জরুরি। জনগণকেও যদি আমরা অন্ধকারে রেখে কাজ করি, তারাও আমাদের সমর্থন করবে না। 

কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম মনে করেন, জোটে থাকা বা না থাকা একান্তভাবেই একটি দলের নিজস্ব এখতিয়ার। এই সম্পর্ক গড়ে উঠে প্রধান শরিক বিএনপি এবং জোটে থাকা অন্যান্য দলের মধ্যে। আমরা মনে করি, আগামী দিনেও সম্মিলিত সংগ্রাম প্রয়োজন হবে। অতএব আত্মসমালোচনামূলক মূল্যায়নের মাধ্যমে জোটকে শক্তিশালী করা বা সম্প্রসারিত করা প্রয়োজন।

আরেক শরিক দল ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, মূলত যারা জোট ছেড়ে চলে গেছে, তারা ইসলামি দল।  দীর্ঘদিন ধরে জোটের বৈঠক হচ্ছে না-এটাই কারণ। বৈঠক যদি দুই মাসেও একবার হতো এই দলগুলো যেত না। তখন তারা এই কথা বলত পারত না যে, নির্বাচনের পর কোনো বৈঠক হয়নি, নিষ্ক্রিয় করে ফেলেছে। বিএনপির উচিত হবে জোটকে বেগবান করা। বিএনপি যেহেতু নেতৃত্বে, তাই তাদেরই সব শরিকের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে খুব শিগগিরই একটি বৈঠক ডেকে ভুল বোঝাবুঝির অবসান করা উচিত।

জোটে থাকা কয়েকটি দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই নানা ইস্যুতে শরিকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে জোটের কয়েক শরিক ক্ষুব্ধ হন। সেটা এখনো অব্যাহত আছে। জোটের শরিক জাগপাকে কোনো আসন না দেওয়ায় অসন্তুষ্ট হয়ে দলটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান পরবর্তী কোনো বৈঠকেই অংশ নেননি।

বরং এ ইস্যুতে জাগপা দু’ভাগ হয়েছে। এজন্য বিএনপিকে দুষছেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে তাসমিয়া প্রধান। জোটের সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের দূরত্বে রাখছে অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামী। এই দলটির সঙ্গ ত্যাগের বিষয়েও বিএনপিতে মতবিরোধ রয়েছে। যে কারণে জামায়াতের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না বিএনপি। এছাড়াও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনকে কেন্দ্র করে বিএনপির ওপর নাখোশ ছিল ২০ দলের শরিকরা। সে সময় এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বে ‘জাতীয় মুক্তিমঞ্চ’ নামের বিকল্প জোটও গঠন করা হয়। পরে এ নিয়ে বিএনপির সঙ্গে অলির দূরত্বের সৃষ্টি হয়; যা এখনো পুরোপুরি ঠিক হয়নি।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ