• শুক্রবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ১৫ ১৪২৮

  • || ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

দৈনিক গোপালগঞ্জ

খসে পড়েছে সেতুর বিভিন্ন অংশ, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর ২০১৯  

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাটিকাটা নদীর ওপর নির্মিত দীর্ঘ ১৫০ ফুট সেতুটির বিভিন্ন অংশ খসে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় কয়েক মাস ধরে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর ওপর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে আছে। এতে কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়লেও তা দেখার কেউ নেই। স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বলদীঘাট ও ধামলই গ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে মাটিকাটা নদী। জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে ১৯৯১ সালে এই নদীর ওপর বলদীঘাট বাজারের সঙ্গেই একটি সেতু নির্মাণ করে বদলীঘাট ও ধামলই গ্রামকে সংযুক্ত করা হয়। এরপর থেকে এ সেতু ধরে চলাচল করতো এই দুই গ্রামের মানুষ ছাড়াও পাশের ভালুকা উপজেলার উড়াহাটি, স্বজনগাঁও ও পারুলদিয়া গ্রামের লোকজন। সম্প্রতি এই সেতুর বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে, কিছু অংশ খসেও পড়েছে । সেতুর মাঝে বেশ কিছু জায়গা ধসে গিয়ে বর্তমানে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে কয়েক হাজার গ্রামবাসী। উৎপাদিত কৃষি পণ্য পরিবহন ও জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য প্রায় ১০-১২ কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

কাওরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আলম খান বলেন, প্রথম থেকেই এই সেতুটি অপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। ১৫০ ফুট দীর্ঘ এই সেতুর প্রস্থ ছিল মাত্র ৮ ফুট। একদিক দিয়ে গাড়ি আসলে অপরদিক দিকে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। এছাড়াও নির্মাণ কাজও ছিল নিম্নমানের। সেতুটি নির্মাণের সময় আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। সম্প্রতি সেতুটির কিছু অংশ খসে পড়ায় আমাদের আশঙ্কাই সত্যি হলো। কাওরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান সদস্য শফিক হায়দার জানান, এই সেতুকে ঘিরে দুই গ্রাম ও আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। হঠাৎ করে এই সেতুতে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় লোকজন। গত কয়েক মাস ধরে ছোট ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগের মাত্র আরও বেড়েছে। স্থানীয় লোকজনকে বিকল্প পথে প্রায় ১০-১২ কিলোমিটার ঘুরে পথ চলতে হচ্ছে। বলদীঘাট জেএম উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস হায়দার জানান, এই সেতুতে ঝুঁকির কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ভোগ বেড়েছে বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের। নদীর এপার থেকে ওপারে পণ্য পরিবহনেও খরচ বেশি হচ্ছে। জনদুর্ভোগ লাগবে দ্রুত এই সেতুটি সংস্কার করা উচিত। ধামলই গ্রামের আলী আহমদ জানান, ধামলই গ্রাম থেকে হাজারো নারী ও পুরুষ শ্রীপুর ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় কাজ করে। এই সেতুটির কারণে চলাচল সহজ হয়ে ওঠায় তারা বাড়ি থেকেই যাতায়াত করতো। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর কারণে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিল্প কারখানার শ্রমিকরা। ওই এলাকার কৃষক শামসুল হক জানান, ধামলই গ্রামজুড়েই পোল্ট্রি শিল্পের আধিক্য। বাড়িতে বাড়িতে রয়েছে খামার। এই খামারের মালামাল পরিবহন ও কৃষকদের উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করতে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। সেতুটি সংস্কার করলে দুর্ভোগ কমে আসবে। কাওরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল আজিজ জানান, সেতুর কিছু অংশ খসে পড়ায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যান চলাচল বন্ধ থাকায় গ্রামের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। প্রাথমিক অবস্থায় সেতুটি সংস্কারের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছে।এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের শ্রীপুর উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ আব্দুস সবুর জানান, জনদুর্ভোগ লাঘবে সেতুটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিগগিরই সেতুটির সংস্কার কাজ শুরু হবে।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ