• মঙ্গলবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ১২ ১৪২৮

  • || ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

দৈনিক গোপালগঞ্জ

৫০ বছরেও নির্মাণ হয়নি খোয়াই সেতু

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০১৯  

হবিগঞ্জ সদরের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ১০নং লস্করপুর ইউনিয়নের চরহামুয়ায় খোয়াই নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ২ গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। এই দুই গ্রামকে দু’ভাগ করে বয়ে গেছে খোয়াই নদী।
দীর্ঘ ৫০ বছরেও খোয়াই নদীর ওপর সেতু নির্মাণ হয়নি। সেতুর অভাবে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা, এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে।
চরহামুয়াসহ আলাপুর এলাকাবাসীর কেনাকাটা করতে যেতে হয় শায়েস্তাগঞ্জসহ কটিয়াদি ও মিরপুর বাজারে। তাছাড়া উপজেলার শতবর্ষী শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শায়েস্তাগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ, মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক হাসপতালে যেতে হলে এলাকাবাসীকে খোয়াই নদী পার হতে হয়। একটি মাত্র বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন শতশত মানুষ পারাপার হচ্ছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।
চরহামুয়া এলাকাবাসীকে বর্ষার ভরা মৌসুমে নৌকায় নদী পার হতে হয়। কিন্তু বর্তমানে নদীতে যে পরিমাণ পানি, তাতে নৌকা চালানো অসম্ভব। তাই বাধ্য হয়েই এলাকার মানুষ নিজ উদ্যেগে তৈরী করেছে বাঁশের সাঁকো। এই সাঁকোটিই তাদের একমাত্র ভরসা।  
বর্ষা মৌসুম শুরু হলে খেয়া ঘাটটিতে ইজারাদার নৌকা দিয়ে মানুষ পারাপার করে। আর এই বাঁশের সাঁকো দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হয় ক্ষুদে ছাত্রছাত্রীরা। ফলে যেকোন সময় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয়ভাবে তৈরী ঝুকিপূর্ণ এ সাঁকো দিয়ে পার হতে গিয়ে এর আগে অনেকেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন।  এ নদীর ওপর ব্রীজ নির্মিত হলে পাল্টে যাবে নদীর উভয় পাড়ে বসবাসরত ৪০ হাজার মানুষের জীবন ব্যবস্থা।
জানা গেছে, এলাকাবাসী জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে পেয়েছে শুধুই আশার বাণী। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে নির্মাণ করেছেন বাঁশের সাঁকো। কিছুদিন যেতে না যেতেই সেই সাঁকো নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ঘটে দুর্ঘটনা। শায়েস্তাগঞ্জ পৌরশহর থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত খোয়াই নদীর খেয়াঘাট। চরহামুয়া, বনগাঁও, নোয়াবাদ, বাতাসর, কলিমনগর, সুঘরসহ ২০ গ্রামের স্কুল কলেজের শত শত ছাত্রছাত্রী ব্যবসায়ীসহ প্রতিদিন শায়েস্তাগঞ্জে আসতে হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই নড়বড়ে সাঁকো দিয়েই পারাপার হতে হয় তাদের।
অন্যদিকে এখানে সেতু না থাকায় সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোর কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না তারা। তাছাড়া মুমূর্ষ রোগীর জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও এই সাঁকো বা নৌকাই গ্রামের মানুষগুলোর একমাত্র ভরসা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাহ্ জালাল উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, ওই সাঁকো পার হওয়ার সময় অনেক শিশু নীচে পড়ে গিয়ে মারাত্মক আহত হয়েছে। অনেকেরই বই খাতা পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। সেতুর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এলাকাবাসীসহ বহুবার আবেদন করেছেন কিন্তু কেন কাজ হয়নি আজ অবধি।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ