• বুধবার   ১৭ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ২ ১৪২৯

  • || ১৯ মুহররম ১৪৪৪

দৈনিক গোপালগঞ্জ

দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০১৯  

বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার প্রয়োজন। এর মাধ্যমে প্রয়োজন মানবসম্পদ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও অন্যান্য সম্পদের দক্ষতা বাড়িয়ে দারিদ্র্য বিমোচন, ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা। এ লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে কারিগরি শিক্ষার হার বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশে ২০২১, ২০৩০ ও ২০৪০ সালের মধ্যে এ হার যথাক্রমে ২০, ৩০ ও ৪০ শতাংশে উন্নীত করবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য দেশে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন ও তার আলোকে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনসহ নতুন নতুন কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হচ্ছে। তার পরও বলতে হচ্ছে, দেশে কারিগরি শিক্ষার হার কাক্সিক্ষত হারে বাড়েনি।

কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে পত্রপত্রিকায় নতুন যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তাতে হতাশার সুর রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কারিগরি শিক্ষায় বিরাজ করছে শুভংকরের ফাঁকি। কারিগরি শিক্ষার্থীর বর্তমান হার ১৪ শতাংশ বলা হলেও আন্তর্জাতিক কারিগরি শিক্ষার সংজ্ঞা অনুযায়ী বাস্তবে এটা ৮.৪৪ শতাংশ। কারণ এ শিক্ষাব্যবস্থায় রয়েছে নানাবিধ সংকট। শ্রেণিকক্ষ, ল্যাবরেটরি ও শিক্ষকসংকট মারাত্মক। এক শিক্ষককে দিয়ে চালানো হচ্ছে দুই শিফট। এ নিয়ে শিক্ষকের মধ্যে ক্ষোভ বিদ্যমান। ফলে মানসম্পন্ন কারিগরি শিক্ষা যেনো সুদূরপরাহত। এই শিক্ষাব্যবস্থা হতে মেয়েরা কেনো বিমুখ হচ্ছে তা অনুসন্ধান করা উচিত। শ্রমবাজারের সঙ্গে অনেক কোর্স-কারিকুলামের কোনো সংগতি নেই। অর্থাৎ সিলেবাস এখনো যুগোপযোগী নয়। কারিগরি শিক্ষা লাভ করে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীরা তেমন একটা সুযোগ পাচ্ছে না, ফলে বাড়তেছে না তাদের সামাজিক মর্যাদা। এ কারণে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের কারিগরি শিক্ষায় ভর্তি করতে উৎসাহিত হচ্ছেন না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২০১৮ সালের তথ্য অনুযায়ী, কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থীর হার ১৪ শতাংশ। ২০২০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থীর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তারা। কিন্তু কারিগরির বর্তমান শিক্ষার্থীর হার নিয়েই শুভংকরের ফাঁকি লক্ষ করা গেছে।

জাতীয় দৈনিকের প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা যায়, আন্তর্জাতিক কারিগরি শিক্ষার সংজ্ঞা ও সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাস্তবে কারিগরিতে শিক্ষার্থীর হার ৮.৪৪ শতাংশ।

কারিগরি শিক্ষায় শুধু শিক্ষার্থীর তথ্যই নয়, প্রায় সব ক্ষেত্রেই চলছে ব্যাপক সংকট। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় এগোতে পারছে না কারিগরি শিক্ষা। সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোকে মডেল হিসেবে ধরে এগোনোর চেষ্টা করলেও সেখানে শ্রেণিকক্ষ, ল্যাবরেটরি, শিক্ষক সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এক শিফটের শিক্ষক দিয়ে চালানো হচ্ছে দুই শিফট। এমনকি সরকারি পলিটেকনিকে দ্বিতীয় শিফটের ক্লাস না চালানোর হুমকি দিয়ে রেখেছেন শিক্ষকরা। এতে বড় সংকটে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বেসরকারি পলিটেকনিকের অবস্থা আরো ভয়াবহ। ৩৮৭ বেসরকারি পলিটেকনিকের মধ্যে মাত্র ২০ থেকে ২৫টি ছাড়া অন্যগুলো নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এককথায় বলতে গেলে, মালিকরা সার্টিফিকেট বিক্রির যেনো দোকান খুলে বসেছেন।

জাতীয় শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৮ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছয় হাজার ৮৬৫। এতে ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৪ শিক্ষার্থী রয়েছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তিন থেকে ছয় মাস মেয়াদি শর্ট কোর্সের দুই হাজার ৬০০টি ট্রেনিং সেন্টারের শিক্ষার্থীদেরও মূল কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে যোগ করেছে। এসব ট্রেনিং সেন্টারের শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুই লাখ ৮০ হাজার ৩০১। ওই হিসেবে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩ লাখ ৪৭ হাজার ৭৮৫।

শুধু নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত কারিগরি বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। এসব শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও অন্তর্ভুক্ত করে কারিগরিতে ১৪ শতাংশ শিক্ষার্থী দেখানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা অনুযায়ী সাধারণ শিক্ষার মতোই কারিগরিতেও একাডেমিক ও সার্টিফিকেট কোর্স রয়েছে। সার্টিফিকেট কোর্স খুবই স্বল্প মেয়াদে হতে পারে। আবার এর ব্যাপ্তি সর্বোচ্চ ৩৬০ ঘণ্টাও হতে পারে। কিন্তু সার্টিফিকেট কোর্স কোনোভাবেই মূল কারিগরি শিক্ষার মধ্যে পড়ে না। এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষার অধীনে দুই হাজার ৬১৭টি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল ও কলেজ রয়েছে। সেখানে বাংলা, ইংরেজি ছাড়াও কম্পিউটার সায়েন্স, হিসাববিজ্ঞান, ব্যাংকিং ও হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট। এই চারটি বিষয় পড়ার সুযোগ রয়েছে। এসব বিষয় সাধারণ শিক্ষার ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগেও রয়েছে, যা কোনোভাবেই কারিগরি শিক্ষার অধীন নয়। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের তিন লাখ ৩৫ হাজার ২২৫ জন শিক্ষার্থী বাদ দিলে ২০১৮ সালে কারিগরিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় সাত লাখ ৩২ হাজার ২৫৯। ওই হিসেবে কারিগরিতে শিক্ষার্থীর হার দাঁড়ায় ৮.৪৪ শতাংশ।

আবার সরকারি হিসাবে কারিগরি শিক্ষায় দিন দিন মেয়েদের সংখ্যা কমছে। অথচ সাধারণ শিক্ষার প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে বর্তমানে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের সংখ্যা বেশি। উচ্চ মাধ্যমিকে ছেলে-মেয়ে সমান সমান হওয়ার পথে। কারিগরিতে ২০১৩ সালে মেয়েদের হার ছিল ২৮.২৮ শতাংশ, ২০১৪ সালে ২৭.৪৩ শতাংশ, ২০১৫ সালে ২৩.৯৪ শতাংশ, ২০১৬ সালে ২৩.৯৫ শতাংশ, ২০১৭ সালে ২৪.২৬ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে ২৪.৭৬ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় ন্যানো টেকনোলজি, বায়োটেকনোলজি, রোবোটিকস, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স, ইন্টারনেট অব থিংস, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ব্লকচেইন টেকনোলজিসহ আধুনিক বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়। কিন্তু কারিগরি শিক্ষার কারিকুলাম রয়ে গেছে সেই মান্ধাতার আমলে। কারিগরি শিক্ষার কারিকুলাম নিয়মিত আপডেট হয় না। যাঁরা কারিকুলাম নিয়ে কাজ করেন, তাঁরাও দক্ষ নন। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলানোর সক্ষমতা তাঁদের নেই।

বর্তমানে কারিগরিতে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলোর কোনো উপযোগিতা নেই। যেমন ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ‘ডিপ্লোমা ইন মাইনিং’। এটি মূলত খনিজ সম্পদ বিষয়ক একটি কোর্স। কিন্তু দেশে খনিজ সম্পদ বিষয়ক সরকারি-বেসরকারি যেসব প্রতিষ্ঠান আছে, সেগুলোও তাদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়টি চায় না। কারণ অনেক কোর্সেরই একটি বিষয় এটি। ফলে একটি স্বতন্ত্র ডিপ্লোমা কোর্স হিসেবে এর চাহিদা শূন্য। ফলে এ বিষয়ে ডিপ্লোমা করে চাকরি পাওয়া কষ্টকর। তার পরও কোর্সটি চালিয়ে যাচ্ছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড।

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ‘ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ের ব্যাপক চাহিদা। দুই বছর আগে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এই বিষয়টি চালু করলেও এখনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যায়নি। ফলে যে শিক্ষকের এ বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞতা নেই, তাঁকেই পড়াতে হচ্ছে বিষয়টি। বোঝাই যায়, এ বিষয়ে যেসব শিক্ষার্থী পাস করে বের হবেন, তাঁরা কতখানি দক্ষ হবেন?

দেশে সাধারণ সরকারি-বেসরকারি কলেজের সংখ্যা প্রায় চার হাজার। অন্যদিকে সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সংখ্যা মাত্র ৪৯। আর ৪৬১টি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থাকলেও ভালো মানের রয়েছে মাত্র ২৫ থেকে ৩০টি। ফলে বেশির ভাগ বেসরকারি পলিটেকনিকে আসন শূন্য থাকে।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মোরাদ হোসেন মোল্ল্যা জানান, ‘শর্ট কোর্স এবং বিজনেস ম্যানেজমেন্ট (বিএম) কলেজ দুটিই কারিগরি শিক্ষা। কারণ একজন শিক্ষার্থী যদি কম্পিউটার শিখে চাকরি পান তাহলে তা কারিগরি শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত হবে না কেনো? আর বিএম কলেজে কম্পিউটার ও হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট কোর্স আছে, যা প্রকারান্তরে কারিগরি শিক্ষা।’ তিনি দাবি করেন, বর্তমানে কারিগরিতে শিক্ষার্থীর হার ১৬.০৪ শতাংশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান জানান, ‘সরকার কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থীর যে হিসাব দিচ্ছে, তা সঠিক নয়। কারণ কারিগরি শিক্ষা আর বৃত্তিমূলক শিক্ষা এক নয়। বৃত্তিমূলক শিক্ষা হচ্ছে বিক্রয় উপযোগী শিক্ষা। আর বৃত্তিমূলক শিক্ষার পরের ধাপ হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা। সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে এক করে হিসাব করছে। এতে কারিগরির প্রকৃত চিত্র বোঝা যাচ্ছে না।’

আমরা বলতে চাই, কারিগরি হোক কিংবা অন্য যেকোনো শিক্ষাই হোক, সঠিক পরিকল্পনার জন্য চাই বাস্তবভিত্তিক ও সঠিক তথ্য-পরিসংখ্যান। যদি এই তথ্য ও পরিসংখ্যান নিয়ে চলে ফাঁকিবাজি, তবে সে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে চলা যায় না। বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা এরই একটি উদাহরণ। কারিগরি শিক্ষায় শুধু শিক্ষার্থীর তথ্যই নয়, প্রায় সব ক্ষেত্রেই চলছে ব্যাপক সঙ্কট। ফলে সময়ের চাহিদা অনুসারে এগোতে পারছে না কারিগরি শিক্ষা। সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোকে মডেল হিসেবে ধরে কারিগরি শিক্ষাকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হলেও সেখানে শ্রেণিকক্ষ, ল্যাবরেটরি ও শিক্ষক সঙ্কট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এক শিফটের শিক্ষক দিয়ে চালানো হচ্ছে দুই শিফট। বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোর অবস্থা আরো উদ্বেগজনক। ৩৮৭টি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মধ্যে ২০ থেকে ২৫টি ছাড়া অন্যগুলো নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এক কথায়, এগুলোর মালিকেরা এসব প্রতিষ্ঠানকে চালু রেখেছেন ‘সার্টিফিকেট বিক্রির দোকান’ হিসেবে।

অপর দিকে, সরকার কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একাধিক প্রকল্প হাতে নিলেও দক্ষ জনবল ও নীতিবান কর্মকর্তার অভাবে এসব প্রকল্পের সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা যখন কারিগরি শিক্ষাকে এগিয়ে নেয়ার পরিবর্তে পিছিয়ে দিচ্ছি, তখন অন্যান্য দেশ এ শিক্ষাকে এগিয়ে নিচ্ছে। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, চীন ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলোর উন্নতির মূলে রয়েছে কারিগরি শিক্ষা। আমাদের দেশ সত্যিকার অর্থে এগিয়ে যেতে হলে কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। তা ছাড়া, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে দক্ষ জনশক্তি রফতানির জন্য প্রয়োজন কারিগরি শিক্ষায় কার্যকর উন্নয়ন।

কারিগরি শিক্ষার উন্নতিকল্পে সর্বাগ্রে সরকারি কিংবা বেসরকারি টিভিইটি ইনস্টিটিউটগুলোর অবকাঠামো ও জনবল বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। সাধারণ স্কুল-মাদ্রাসার লাখ লাখ শিক্ষার্থী যাতে যুগোপযোগী কারিগরি শিক্ষা লাভ করতে পারে, এজন্য টিভিইটি ইনস্টিটিউটে সান্ধ্য কোর্স চালু করা বাঞ্ছনীয়। বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান হতে এসব প্রতিষ্ঠানে খন্ডকালীনভাবে দক্ষ জনবল নিয়োগ দিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এছাড়া ছাড়া প্রতিটি উপজেলায় একটি করে স্কুল বা কলেজকে কারিগরি কলেজে রূপান্তরিত করে কারিগরি শিক্ষার এনরোলমেন্ট বৃদ্ধি করা যেতে পারে। সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি ওয়ার্কশপ নির্মাণ করে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি বিষয়ে স্কিল ট্রেনিং গ্রহণের মাধ্যমে অধিক হারে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে টিভিইটি গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। তা ছাড়া কারিগরি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা প্রয়োজন। আমরা জনশক্তি রপ্তানিতে এখনো যেমন অদক্ষ ক্যাটাগরিতে রয়েছি, তেমনি দেশে দক্ষ জনবলের অভাবে বিদেশ হতে লোক আনয়ন করছি। এজন্য জার্মানি, জাপান, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের কারিগরি শিক্ষার মডেল আমাদের অনুসরণ করতে হবে। জার্মানিতে কারিগরি শিক্ষার হার ৭৩ শতাংশ। অতএব, আমাদের দেশে এ শিক্ষার হার অন্তত ৬০ শতাংশে উন্নীত করার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। আশা করি, সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলেরা এখন অন্তত যথার্থভাবে মনোযোগী হবেন।
লেখক: কলামিস্ট

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ