• রোববার ১৪ জুলাই ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৩০ ১৪৩১

  • || ০৬ মুহররম ১৪৪৬

দৈনিক গোপালগঞ্জ

সন্তানকে দীনি ইলম শিক্ষা দিন

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ৯ জুলাই ২০২৪  

দীনি ইসলাম শিক্ষা গ্রহণ করা প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের জন্য ফরজ। বাস্তব জীবনের শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি দীনি শিক্ষা ও ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করার ব্যবস্থা পিতা-মাতাকেই নিতে হবে। সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই স্কুল-কলেজের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি কোরআন ও হাদিসের আলোকে জীবন গড়ার জন্য তাগিদ দিতে হবে। এতে প্রত্যেক সন্তান একজন দীনি মুমিন হিসেবে তৈরি হতে পারবে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সন্তানের বয়স সাত বছর হলে তোমরা তাদের নামাজ পড়ার নির্দেশ দেবে। আর বয়স ১০ বছর হলে শাসন করে হলেও নামাজ পড়াবে। (আবু দাউদ)। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, হে ইমানদারগণ, তোমরা নিজেদের ও নিজেদের পরিবার-পরিজনদের জাহান্নামের সেই কঠিন আগুন থেকে বাঁচাও, তার জ্বালানি হবে মানুষ আর পাথর। সে জাহান্নামের প্রহরী যেসব ফেরেশতা সবাই হচ্ছে নির্মম ও কঠোর। তারা আল্লাহর কোনো আদেশই অমান্য করবে না, তারা তাই করবে যা তাদের করার জন্য আদেশ করা হবে। (সুরা আত তাহরীম, আয়াত ৬)। এই আয়াতটির মাধ্যমে এটাই প্রতীয়মান যে, আল্লাহর আজাব থেকে নিজেকে রক্ষার মধ্যেই মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য সীমাবদ্ধ নয়। বরং যে পরিবারটির সে প্রধান ব্যক্তি তার দায়িত্ব হলো পরিবারের অন্য সদস্যদের আল্লাহর প্রিয় বান্দা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সাধ্যমতো তাদের দীনি শিক্ষা দান করা। কারণ এই আয়াতে শাস্তিদানের ব্যাপারে যেসব ফেরেশতা নিয়োজিত থাকবেন তাদের কঠোরতার কথাও আল্লাহ বলেছেন। এই ফেরেশতাদের নাম যাবানিয়া।

রসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা প্রত্যেকেই রাখাল বা দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার অধীনস্থ লোকদের সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। শাসকও রাখাল বা দায়িত্বশীল। তাকেও তার অধীনস্থ লোকদের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে। নারী তার স্বামীর বাড়ি এবং তার সন্তান-সন্ততির তত্ত্বাবধায়িকা। তাকে তাদের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে। (বুখারি শরিফ, ৮৯৩)। শৈশব থেকেই সন্তানকে নামাজে অভ্যস্ত করতে হবে। তা না হলে সে বড় হলে নামাজের প্রতি যত্নবান হবে না। একজন মুসলমানের প্রথম পরিচয়ই হলো তিনি নামাজি। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, তোমরা সন্তানদের নামাজের প্রতি যত্নবান হও এবং তাদের ভালো কাজে অভ্যস্ত কর। কেননা কল্যাণ লাভ অভ্যাসের ব্যাপার। (সুনানে বায়হাকি, হাদিস ৫০৯৪)। আমাদের দায়িত্ব হবে সন্তানকে কোরআন শিক্ষা দেওয়া। শুদ্ধভাবে কোরআন পাঠ করা এবং কোরআন বুঝে পড়া অত্যন্ত সওয়াব ও নেক কাজ। মওলানা আশরাফ আলী থানভী (রা.) বলেন, যে ব্যক্তি শুদ্ধভাবে কোরআন পড়া শিখবে এবং যারা কোরআন জানে তাদের সম্মান করবে, সে ব্যক্তির কখনো রিজিকের অভাব হবে না। সুবহানাল্লাহ। আমরা যদি একটু চিন্তা করে দেখি আমরা নিজেরা কি শুদ্ধভাবে কোরআন পড়তে পারি? আমাদের সন্তান-সন্ততিদের কি বিশুদ্ধভাবে কোরআন পাঠে উৎসাহিত করি বা শিখাই? আমরা কি আমাদের সন্তানদের হাশরের ময়দানে আমাদের জন্য আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করার জন্য যোগ্য বান্দা হিসেবে গড়ে তুলতে চেষ্টা করছি? আমার সন্তান কি আমার মৃত্যুর পর আমার জানাজা পড়াতে পারবে? কবর জিয়ারত করে আল্লাহর দরবারে আমার কবর আজাব মাফ করার জন্য প্রয়োজনীয় নেক আমল করে মোনাজাত করতে পারবে? পারবে কি নিজ হাতে সুন্নাত মোতাবেক দাফন কাফনের ব্যবস্থা করতে? আমরা কি কখনো একবারও এসব ভেবে দেখেছি? একজন মৃত্যু পথযাত্রী ব্যক্তির মৃত্যুশয্যায় তার সন্তান কি সুরা ইয়াসিন পাঠ করে তার মৃত্যু যন্ত্রণা লাঘব করার জন্য তা পাঠ করতে পারবে? আমাদের সন্তানদের এসব বোঝাতে হবে। তাদের দীনদার বানানোর দায়িত্ব আমাদের। তাদের শৈশবকাল থেকেই দীনি শিক্ষা দান করতে হবে। সন্তানকে কোরআন ও হাদিসের আলোকে জীবন গড়ার জন্য আমাদের দায়িত্ব নিতে হবে। তা না হলে আমাদের সবার জীবন হবে শূন্য। সন্তানের দোয়া ও নেক আমলের অংশীদার হন বাবা ও মা।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ