• রোববার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২৩ ১৪২৯

  • || ১৪ রজব ১৪৪৪

দৈনিক গোপালগঞ্জ

নেইমারকে চোটে ফেলার টার্গেট ছিল ৩ বিশ্বকাপেই!

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০২২  

রও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ। দলের জয়ে ব্রাজিলের পালে এখন পৌষালী হাওয়া বইছে। আর চোটে পড়ে সর্বনাশ হয়েছে নেইমারের। ইনজুরি খরা কাটিয়ে উঠতেই পারছেন না ব্রাজিলের এই স্ট্রাইকার। ব্রাজিল বিশ্বকাপের পরে রাশিয়াতে সমালোচনা সত্ত্বেও অনেকটা চোটমুক্ত ছিলেন নেইমার। কিন্তু কাতারে শুরুর ম্যাচটিতেই সেই চোটকে সঙ্গী করতে হলো।

বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে সার্বিয়ার বিপক্ষে খেলার ৭৯ মিনিটে নেইমার ডান পায়ের গোড়ালিতে আঘাত পান। বিষয়টি নিয়ে ব্রাজিল শিবিরে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

যদিও খেলা শেষে আরেক স্ট্রাইকার  ভিনিসিউস জুনিয়র বলেছেন, ‘নেইমার একটি আঘাত পেয়েছেন, কিন্তু আশাকরি এটি তেমন কিছুই না। খুব দ্রুত তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।’

সার্বিয়ার বিপক্ষে খেলা শেষ হওয়ার ১১ মিনিট আগে আঘাত পান নেইমার। নেইমারকে প্রতিহত করতে গিয়ে সার্বিয়ার ডিফেন্ডার নিকোলা মিলেনকোভিচ সরাসরি গোড়ালিতে আঘাত করেন। এর আগে নেইমারের একই জায়গায় আঘাত করেন সার্বিয়ান মিডফিল্ডার নেমাঞ্জা গুদলেজ। সেজন্য রেফারি গুদলেজকে হলুদ কার্ডও দেন।

তবে নিকোলার করা আঘাতে নেইমার খোড়াতে থাকেন। তা দেখে তিতে উঠিয়ে নেন নেইমারকে। মাঠ ছেড়ে নেইমার সাইড বেঞ্চে গিয়ে বসে পড়েন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিষয়টি দেখে সতীর্থরা তাঁকে সান্ত্বনা দেন।

এই ম্যাচে সার্বিয়া যত ফাউল করেছে তার ৭৫ শতাংশই ছিল নেইমারের সঙ্গে। পুরো ম্যাচ জুড়ে ১২টি ফাউল করে সার্বিয়া, এর মধ্যে নেইমার একাই ৯টির শিকার হয়েছেন। ১২টি ফাউলের বিপরীতে ইরানি কোচ আলিরেজা ফাঘানি হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন তিনবার। এর মধ্যে নেইমারের গোড়ালিতে আঘাত করা মিলেনকোভিচকে কোনো কার্ডই দেখাননি রেফারি। যেটি ২০১৪ সালে কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার জুনিগারের ক্ষেত্রেও হয়েছিল।

২০১৪ সালে কলম্বিয়ার বিপক্ষের সেই হৃদয় বিদারক ঘটনা এখনও ভুলতে পারেননি ব্রাজিল ভক্তরা। সেদিন আচমকা এসে কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার জুয়ান ক্যামিলো জুনিগার নেইমারের পিঠে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তাতে ভেঙে যায় মেরুদণ্ডের হাড়। অবশ্য জুনিগার সেদিন নেইমারের সঙ্গে ব্রাজিলেরও মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিলেন। কারণ তার পরের ম্যাচ সেমিফাইনালে নেইমারের অনুপস্থিতিতে ব্রাজিল ৭-১ ব্যবধানে হেরে যায় জার্মানির বিপক্ষে। সে সময়ে নেইমার দলের সঙ্গে থাকলে হয়তো নিজেদের মাটিতে এমন অঘটন ঘটত না।

এক বিশ্বকাপ পরে এবারও ম্যাচের শেষার্ধে চোট পেলেন নেইমার। ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে চোট থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলেন তিনি। সে কারণে ‘অভিনেতা নেইমার’ হিসেবে সমালোচিত হয়েছিলেন তিনি। যদিও ওই আসরের পাঁচ ম্যাচে নেইমার ২৬টি ফাউলের শিকার হয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, ২০২২-২৩ মৌসুমে নেইমার ৬৬ বার ফাউলের শিকার হয়েছেন।

চোটের কারণে কি বাদ পড়বেন নেইমার?

এ বছর কাতার বিশ্বকাপে তেমন কোনো অতিরঞ্জিত ঘটনা তিনি ঘটাননি। তবে চোট যেন তাঁর পিছু ছাড়ছেই না। রদ্রিগো নামে এক ডাক্তার টুইট করে বলেছেন, ‘আশঙ্কা করা হচ্ছে নেইমারের গোড়ালি মচকে গেছে এবং সেখানে ফোলা দেখা যাচ্ছে। তবে এটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যদিও ছবিটা দেখে খারাপ কিছু মনে হচ্ছে।’

তবে এই চোটের কারণে নেইমার কোনো খেলা মিস করবেন কি না তা এক্সরে কিংবা এমআরআই করার পরে জানা যাবে। খবর স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা।ৃ

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ