• রোববার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২৩ ১৪২৯

  • || ১৪ রজব ১৪৪৪

দৈনিক গোপালগঞ্জ

মেসির জাদুর পৃথিবী

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ৯ ডিসেম্বর ২০২২  

টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থেকে আত্মবিশ্বাসের হাওয়ায় উড়তে থাকা  আর্জেন্টিনাকে বাস্তবের জমিনে নামিয়ে এনেছিল সৌদি আরবের কাছে ২-১ গোলের হার। ওই এক হারেই খেলোয়াড়, সমর্থক সবার মনেই জন্মেছিল অবিশ্বাসের চারাগাছ। মেক্সিকোর বিপক্ষে পরের ম্যাচের প্রথমার্ধে সেই চারাগাছ জলহাওয়া পেয়ে আরও বড় হচ্ছিল, শেকড় ছড়িয়ে দিচ্ছিল গভীরে। মেক্সিকোর বিপক্ষে বক্সের বাইরে থেকে করা শটে গোল করে সেই অবিশ্বাসের চারাগাছটা উপড়ে ফেলেছেন লিওনেল মেসি, এরপর আর পেছন ফিরে তাকানো নয়। সব অবিশ্বাসের দেয়াল ভেঙে মেসি আর্জেন্টিনাকে নিয়ে এসেছেন কোয়ার্টার ফাইনালে, বিশ্বকাপ জেতার আক্ষেপ ঘোচাতে জিততে হবে আর মাত্র তিনটা ম্যাচে।

এবারই শেষ বিশ্বকাপ, মেসির কাছে বিশ্বকাপের দায়... এমন কত সম্ভাবনা নিয়েই তো কাতারে পা রেখেছিলেন মেসি। কিন্তু শুরু থেকেই একের পর এক চোট দলের পরিকল্পনায় এনেছে অনেক পরিবর্তন। কোচ লিওনেল স্কালোনির ভুল কৌশলে সৌদি আরবের কাছে হেরে যাওয়ার পর বিশ্বকাপ স্বপ্নই যখন বিপন্ন তখন ফের মেসির পায়েই জাগল আর্জেন্টিনা। মেক্সিকোর বিপক্ষেই বিশ্বকাপের ম্যাচসংখ্যা আর গোলসংখ্যায় ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে ছুঁয়ে ফেলার পর বিশ্বাসটা আরও তীব্র, এবার তাহলে জীবনরেখার ওপার থেকে ছায়া দিয়ে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন ফুটবলঈশ্বর। পোল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটায় গোল পাননি, মিস করেছেন পেনাল্টি। কিন্তু নকআউটের প্রথম ধাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আবারও মেসির জাদুকরী ঝলক।

এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত  তিন গোল করেছেন মেসি। প্রথমটা সৌদি আরবের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে, পরের দুটো গোলই দেখার মতো। মেক্সিকোর বিপক্ষে দূরপাল্লার গড়ানো শটে গোল করেছেন আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বলটা জালে পাঠিয়েছেন দুই দিকের খেলোয়াড়দের ভিড়ে ঠাসবুনোট ডি বক্সের ভেতর দিয়ে।

মাত্র তিনটা গোল হলেও তাতেই বেশ কিছু রেকর্ড তার নামের পাশে। মেক্সিকোর বিপক্ষে গোল করে ম্যাচ ও গোলসংখ্যায় ম্যারাডোনাকে ছুঁয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে গোলটা ছিল বিশ্বকাপের নকআউট রাউন্ডে মেসির প্রথম গোল। যে ম্যাচটা আবার ছিল মেসির পেশাদার ক্যারিয়ারের ১০০০তম ম্যাচ।

চার ম্যাচের দুটোতেই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন মেসি, সবগুলো ম্যাচেই খেলেছেন প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত। এখন পর্যন্ত বড় কোনো চোটে পড়েননি মেসি, এটা যেমন স্বস্তির তেমনি অস্বস্তির হচ্ছে প্রতিনিয়তই একাদশে আর কৌশলে পরিবর্তন আসতে দেখায়। সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচের পর মেক্সিকোর বিপক্ষে পাঁচটা পরিবর্তন আনেন স্কালোনি। এরপর পোল্যান্ডের বিপক্ষে আবার লাউতারো মার্তিনেজের জায়গায় শুরু থেকেই জুলিয়ান আলভারেজ, মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের সঙ্গে গুইদো রদ্রিগেজের বদলে এনজো ফার্নান্দেজ, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আবার ডি মারিয়া নেই তার জায়গায় পাপু গোমেজ। এভাবে প্রতিটা ম্যাচেই নতুন দল, নতুন কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে মেসিকে। আজ নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে রদ্রিগো ডি পলকে যদি হ্যামস্ট্রিং চোটের জন্য না পাওয়া যায়, তাহলে তার জায়গায় লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ভাবছেন স্কালোনি। আরও একটা পরিবর্তন, আবার একটা সমন্বয়; এটাই হতে পারে মেসির জন্য অস্বস্তির জায়গা।

অবশ্য এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচটা বাদ দিলে বাকি দুই জয়েই মেসির ম্যাজিকই শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার ভরসা। একটা জাদুকরী মুভ, কোনো একটা চোখধাঁধানো দৌড়, অল্প জায়গায় কয়েকজনকে কাটিয়ে ঢুকে যাওয়া... শেষ পর্যন্ত এ রকম কোনো একটা মুহূর্তের জন্ম দিয়েই তো মেসি ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন। পার্শ্বচরিত্রে কারা আসছে বা যাচ্ছে, তাতে মহানায়কের কী আসে যায়!

২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ম্যাচটা আর্জেন্টিনা জিতেছিল টাইব্রেকারে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত সময়ের ৩০ মিনিটেও হয়নি কোনো গোল। সের্জিও রোমেরোর কৃতিত্বে কিংবা ডাচদের দুর্বল পেনাল্টি শটের কল্যাণে ম্যাচটা জিতেছিল আর্জেন্টিনা, যদিও গোটা ম্যাচে মেসিকে বোতলবন্দি করেই রেখেছিল নেদারল্যান্ডসের রক্ষণ। লুই ফন গাল এবারও ডাচদের কোচ, হাতে আছে ভার্জিল ফন ডাইকের মতো বিশ্বের সেরা সেন্টারব্যাক। কমলা দেয়াল ভাঙতে এবার যে মেসিকে লাগবেই।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ