• বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪৩১

  • || ২১ জ্বিলকদ ১৪৪৫

দৈনিক গোপালগঞ্জ

জনগণকে বিজয় মালা পরালেন সর্বকনিষ্ঠ চেয়ারম্যান

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২৪  

নির্বাচনে জয়ের পর জনপ্রতিনিধিকেই মালা পরান নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। মালার ভারে কোনো কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির হাঁটাও মুশকিল হয়ে যায়। এবার সেই রেওয়াজের বাইরে বেরিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. মেহেদি হাসান বাবু।

উপজেলা নির্বাচনে তিন হেভিওয়েট প্রার্থীকে পরাজিত করার পরও নিজে পরেননি বিজয়ের মালা; যা পরিয়েছেন জনগণের গলায়। মালা নিয়ে নিজে ছুটে গেছেন জনগণের দ্বারে দ্বারে। ভোটে নির্বাচিত দেশের সবচেয়ে কম বয়সী এই উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলার সব এলাকায় গিয়ে মালা পরিয়েছেন সেখানকার বয়োজ্যেষ্ঠদের। গিয়েছেন পরাজিত তিন প্রার্থীর বাসায়ও।

কচুয়া উপজেলার অনেকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এর আগে এতো সুন্দর আর প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন দেখেনি কচুয়াবাসী। এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন চারজন। এদের মধ্যে মেহেদি হাসান বাবু বয়সে সবচেয়ে ছোট। কিন্তু জনপ্রিয়তায় শীর্ষে।

বাবুর বয়স ৩৯ বছর। তিনি উপজেলার রাড়ীপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। তিনি যাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তাদের দুইজনের একজন জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। আরেকজন জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক। আর অন্যজন ছিলেন উপজেলার চেয়ারম্যান। তিনি উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতিও।

গত ৮ মে কচুয়া উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৩০টি কেন্দ্রে ভোট হয়। এই উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ৮৯ হাজার ৬৯১ জন। এরমধ্যে ভোট দিয়েছেন ৫৫ হাজার ৯২৯ জন। বাতিলকৃত ভোট ১ হাজার ৫৮৯টি। বৈধ ৫৪ হাজার ৩৪০ ভোটের মধ্যে মেহেদি হাসান বাবু দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৬ হাজার  ৯০ ভোট। আর বাকি তিন প্রার্থী মিলে পেয়েছেন ২৮ হাজার ২৫০ ভোট।

মেহেদি হাসান বাবুর নিটকতম প্রার্থী বাগেরহাট জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মীর জায়েসী আশরাফী জেমস পেয়েছেন মেহেদি হাসান বাবুর চেয়ে ৬ হাজার ৬২৩ ভোট কম। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৪৬৭ ভোট।

কচুয়া উপজেলা বাধাল উইনিয়নের বাসিন্দা ফিরোজ বলেন, বাবু সবসময় মাঠে থাকে। মানুষের বিপদে আপদে পাশে যান। তিনি দীর্ঘদিন থেকেই কাজ করে আসছেন। নিজের জনপ্রিয়তা এবং তার বাবার জনপ্রিয়তা বেশি কাজে লেগেছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাবুর বাবা মরহুম এসএম মাহফুজুর রহমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই উপজেলার চেয়ারম্যান ছিলেন। একইসঙ্গে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিরও দায়িত্ব ছিলেন।

২০২১ সালের ৫ মে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা সারোয়ারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর তিনবছরের জন্য উপনির্বাচনে নাজমা সারোয়ার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পান ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তারপর এই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এসএম মাহফুজুর রহমানের বড় ছেলে মেহেদি হাসান বাবুসহ চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ