• সোমবার ২০ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৬ ১৪৩১

  • || ১১ জ্বিলকদ ১৪৪৫

দৈনিক গোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জে সমন্বিত কৃষির নতুন সংযোজন ডালি পদ্ধতিতে সবজী চাষ

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৩  

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় রয়েছে ছোট বড় বেশ কয়েকটি বিল। এর মধ্যে পুবের বিলের অধিকাংশ জমি জলাবদ্ধ, পতিত ও অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকতো। বছরের অধিকাংশ সময় পানির নিচে তলিয়ে থাকা জমি আর শুকনা মৌসুমে হাটু বা কোমর পানি থাকায় সেখানে কোন ফসল উৎপাদন হতো না। বিগত ৫০বছর ধরে চাষাবাদ না হওয়ায় জমিগুলো পতিত বা অনাবাদি হয়ে ছিল।

গোপালগঞ্জে অনাবাদি ও জলাবদ্ধ জমিতে সমন্বিত কৃষির আওতায় ডালি পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন করে সাড়া জাগিয়েছে কৃষি বিভাগ। পতিত ও জলাবদ্ধ জমি পরিস্কার করে পানির উপর ডালি স্থাপন করে চাষাবাদ করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সবজি। কৃষি বিভাগের এই নতুন উদ্ভাবিত পদ্ধতিকে স্বাগত জানিয়ে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে এলাকার কৃষক। আর কৃষি বিভাগ বলছে ডালি পদ্ধতিতে সবজি চাষে সফলতা মিলেছে। আগামীতে ডালি পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনার অতিমারির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দেশের কৃষি ও কৃষি বিভাগকে পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আনার ঘোষণা দেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচানী এলাকা টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার উন্নয়ন প্রতিনিধি খন্দকার শহীদ উল্লা খন্দকার ও কৃষি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বালাডাঙ্গা গ্রামের পুবের বিলে প্রধামন্ত্রীর পৈত্রিক জমিতে বাঁশের তৈরি বানা দিয়ে ঘিরে মাছ চাষ শুরু হয়। একটি অংশে ডালি পদ্ধতিতে সবজি চাষ করা হচ্ছে। এছাড়া রাস্তার খাদে গোড়া পদ্ধতিতে ও ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি ও মশলা জাতীয় ফসল উৎপাদন করা হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, পানির উপর বাঁশের খুটির সাথে ঝুলানো হয়েছে বাঁশ আর নেট দিয়ে তৈরী ডালি। তার উপরে তৈরী করা হয়েছে নেটের তৈরী মাচা। সেখানে থরে থরে ঝুলছে লাউ, কুমড়া, ঝিঙ্গে,ধুন্দলসহ নানান ধরণের সবজি। নতুন এই পদ্ধতিতে চাষ দেখতে প্রতিনিয়ত আসছেন এলাকার কৃষক। টুঙ্গিপাড়া উপজেলার জোয়ারিয়া গ্রামের প্রসেনজিৎ দাস,তপন বিশ্বাস, পাথরঘাটা গ্রামের মধুমঙ্গল দাস, সামিউল ফবির বলেন, আগামী বর্ষা মৌসুমে এই ডালি পদ্বতিতে আমরা আমাদের জলাবদ্ধ জমিতে চাষাবাদ করবো। এই পদ্ধতি দেখে আমরা অভিভূত হয়েছি। আমরা জদি যদি আমাদের অনাবদি জমিতে এই পদ্ধতি ব্যকহার করে ফসল ফলাতে পারি তাহলে আমরা লাভবান হতে পারবো বলে মনে করছি।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জামাল উদ্দিন বলেন, পতিত জমিতে যখন চাষাবাদ শুরু করি তখন এলাকার মানুষ আমাদের নিয়ে হাসাহাসি করতো।সেখানে আমরা ফসল ফলিয়ে সফল হয়ছি। আগামীতে ব্যাপক আকারে শুরু করবো। গোপালগঞ্জ খামারবাড়ি উপপরিচালক মোঃ আব্দুল কাদের সরদার বলেন, ডালি পদ্ধতিটা গোপালগঞ্জে মডেল হিসাবে শুরু করা হয়েছে। শুধু টুঙ্গিপাড়া নয়। জেলার অন্যান্য উপজেলায় শুরু করবো।

ডালি পদ্ধতির উদ্ভাবক ও প্রকল্প পরিচালক বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, ডালি পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে রাসায়নিক সার ও কিটনা’শক ব্যবহার করা লাগেনা। কচুরি পঁচা মাটিতে গাছ লাগানোর ফলে অর্গানিক সার পাওয়া যায়। আর এটা ব্যবহার করে প্রচুর পরিমান স্বাস্থ্যসম্মত সবজি উৎপাদন হয়। এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে লাভবান হওয়া সম্ভব বলে মনে করেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাগন।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ