• মঙ্গলবার   ০৬ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২২ ১৪২৯

  • || ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

দৈনিক গোপালগঞ্জ

বিশ্ব শিক্ষক দিবস ও আমাদের শিক্ষক সমাজ

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ৫ অক্টোবর ২০২২  

সারা বিশ্বে সবার জন্য শিক্ষার্ মানসিক বিকাশের কারিগর হিসেবে নিয়োজিত শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার প্রত্যয় নিয়ে ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতি বছর ৫ অক্টোবর সারা বিশ্বে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উদযাপিত হয়ে আসছে। সেই হিসেবে এ বছর এই দিনটির ২৮ বছর পূর্ণ হলো। এ দিবসের লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাপী শিক্ষকদের নৈতিক সমর্থন যোগানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা ও প্রয়োজনের বিষয়টি বিচার-বিশ্লেষণের করে শিক্ষকদের মাধ্যমে কত যোগ্যতার সাথে তা মেটানো সম্ভব সেই নিশ্চয়তা বিধানে ভূমিকা রাখা। সারা বিশ্বে শিক্ষক সমাজ শিক্ষাক্ষেত্রে যে অবদান রেখে চলেছেন, ইউনেস্কো-এর মতে, ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ সেই সচেতনতা, বোধগম্যতা ও উপলব্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এক বৈশ্বিক উদযাপন।

কে শিক্ষক?

শিক্ষক মানুষ গড়ার হাতিয়ার। যিনি শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করেন তিনিই শিক্ষক। যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল স্তম্ভ হলেন শিক্ষক। একজন শিক্ষক হলেন আদর্শ মানুষ, অভিভাবক, গাইড, পরামর্শদাতা, মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানী। শিক্ষার্থীর ব্যক্তিমানস গড়ে ওঠার সময়ে শিক্ষককে মনোবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি, পোশাগত নিষ্টা ও নৈপুণ্য, মৌলিক ও অর্জিত জ্ঞান-অভিজ্ঞতার পূর্ণ প্রয়োগ করতে হয় যাতে শিক্ষার্থী অনুকূল পরিবেশে তার আচার-আচরণে পরিবর্তন সাধন করতে সক্ষম হয়। মনোবিজ্ঞানের আলোকে শিক্ষক প্রতিটি শিক্ষার্থীর সহজাত গুণাবলি এবং সম্ভাব্য শক্তির পরিমাপ করে শিক্ষার্থীকে সংবেদনশীল মন দিয়ে সাহায্য করেন। শিক্ষকই শিক্ষা ব্যবস্থার প্রাণ। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও দার্শনিক হোয়াইটহেড বলেছেন No System of education is better than a teacher। অর্থাৎ কোনো শিক্ষা ব্যবস্থাই শিক্ষকের চেয়ে উন্নত নয়। দার্শনিক বাট্রান্ড রাসেলের কথায়- ‘শিক্ষক সমাজ হচ্ছেন প্রকৃতই সমাজ ও সভ্যতার বিবেক।’ এ জন্যে শিক্ষকদের বলা হয় ‘সোস্যাল ইঞ্জিনিয়ার’ বা সমাজ নির্মাণের স্থপতি।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

বিশ্বব্যাপী শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত পেশাজীবীদের সংগঠন Education International বিশ্বাস করে যে অচিরেই ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি লাভের পাশাপাশি বিশ্বের সব দেশে একযোগে উদযাপিত হবে। তারা আরো বিশ্বাস করে যে শিক্ষকদের মর্যাদার প্রশ্নটি বিবেচনায় নিয়ে ১৯৬৬ সালে ILO ও UNESCO এরমধ্যে যে স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল প্রতিটি দেশ তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবে। ১৯৬৬ সালের অক্টোবর মাসে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে শিক্ষকদের মর্যাদা সংক্রান্ত আন্ত:সরকার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে UNESCO ও ILO শিক্ষকদের অধিকার. দায়িত্ব এবং মর্যাদা সম্পর্র্কে একটি যৌথ সুপারিশমালা প্রনয়ণ করে, যা শিক্ষকতা পেশাকে সম্মানজনক অবস্থানে নেয়াসহ শিক্ষকদের মোৗলিক ও অব্যাহত প্রশিক্ষণ, নিয়োগ ও পদোন্নতি, চাকরির নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা বিধানের প্রক্রিয়া, পেশাগত স্বাধীনতা, কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন, দায়িত্ব ও অধিকার, শিক্ষাসংক্রান্ত নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ, দেন-দরবারের কৌশল সংক্রান্ত দক্ষতা, কার্যকর শিক্ষাদান ও শিক্ষণের পরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মাইলফলক হিসেবে পৃথিবী ব্যাপী স্বীকৃতি লাভ করেছে। মূলত: ১৯৯৪ সালের ৫ অক্টোবর ইউনেস্কোর ২৬তম অধিবেশনে সংস্থার তৎকালীন মহাপরিচালক ফ্রেডারিক এম. মেয়র ‘এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল’ এর অনুরোধে ৫ অক্টোবরকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। বর্তমানে ১০০টির বেশি দেশেু ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উদযাপিত হয়। সেখানে একটি বিষয়ে সবাই ঐকমত্য প্রকাশ করেছেন যে বর্তমান বিশ্বে শিক্ষকরা একটি ক্রমবর্ধমান জটিল, বহুসাংস্কৃতিক ও প্রযুক্তিনির্ভর দ্রæত পরিবর্তনশীল সমাজে মেধা ও শ্রম দিয়ে চলেছেন। তাদের সেই অবদানের বিষয়টি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অন্যান্য পেশাজীবীরা যেন সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারেন তার ওপর গুরুত্বারোপের জন্য UNESCO ও Educational international (EI) এই দিনটি উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতি বছর শিক্ষা পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের অবদান তুলে ধরার জন্য EI একটি জনসচেতনতামূলক প্রচারাভিযান চালিয়ে থাকে।

প্রতি বছর ইউনেস্কো বিশ্ব শিক্ষক দিবসের একটি প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করে দেয়। ২০১৪ সালে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবসের শ্লোগান ছিল Invest in the future, invest in teachers. শিক্ষকরা একটি দেশের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ। আজকের দিনের শিশু পরিপূর্ণ বয়সে কী পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে তার স্বরূপ এখনই ঠিকঠাক নিরূপণ সম্ভব হচ্ছে না। তাই আগামী প্রজন্মের শিক্ষার্থীর চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আজকের শিক্ষককে দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার সাথে একাধিক বিষয়ে পারদর্শী হওয়ার প্রয়োজন পড়ছে। ২০২২ সালের শিক্ষক দিবসের মর্মবাণী ছিল -the transformation of education begins with teachers। অর্থাৎ শিক্ষকদের মাধ্যমেই সমাজের পরিবর্তন শুরু হোক।

শিক্ষা সংকট

UNESCO বলছে যে বর্তমানে সারাবিশ্বে এক ধরনের শিক্ষাসংকট চলছে। ২৫০ মিলিয়ন শিশু শিক্ষার প্রাথমিক দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। অনেক দেশে শিক্ষক স্বল্পতার কারণে শিক্ষার মান পড়ে যাচ্ছে। সারা বিশ্বে ১.৪ মিলিয়ন শ্রেণিশিক্ষক ঘাটতি রয়েছে। তার সাথে রয়েছে তাদের প্রশিক্ষণের অভাব। ২০১৫ সালের মধ্যে তাদের সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ে প্রশিক্ষণের কাজটি শেষ করার ব্যাপারে UNESCO প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। বিশ্বব্যাপী ২০১৫ পরবর্তী শিক্ষাউন্নয়ন কর্মসূচি, যা প্রতিটি দেশকে বাস্তবায়নের জন্য UNESCO সুপারিশ ও সমর্থন যোগাবে, তা হলো :

ক্স পেশা, পেশাগত দক্ষতা ও মর্যাদা বৃদ্ধির সুযোগ, উন্নত বেতন কাঠামোসহ চাকুরির সুবিধাজনক পরিবেশ;
ক্স প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার উন্নত পরিবেশ;
ক্স শিক্ষকদের জন্য উচ্চমানের প্রশিক্ষণ;
ক্স শিক্ষক নিয়োগ ও দক্ষতা বৃদ্ধি বিষয়ে কার্যকরী ব্যবস্থাপনা;

তাদের প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিভিন্ন দেশের সরকার সম্মিলিতভাবে কাজ করবে শিক্ষক ও শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ করে সেইসব দেশে যেখানে ব্যাপক সংখ্যক শিশুরা শিক্ষার বাইরে অবস্থান করে। এদেশের শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষার মান ও মর্যাদার দিক দিয়ে শিক্ষকদের অবস্থান সম্পর্কে শিক্ষাপেশার সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ যথেষ্ট অবগত আছেন। একটি দেশ স্বাধীনতা লাভের চার দশক পর একটি শিক্ষানীতি পেয়েছে। এই দীর্ঘসময় এদেশের সামগ্রিক শিক্ষা কোনো সুনির্দিষ্ট নীতির আলোকে পরিচালিত হয়নি। দীর্ঘদিন কোনো শিক্ষানীতি না থাকার জন্য নিশ্চয় শিক্ষকসমাজ দায়ী ছিল না। প্রবচনীয় ও বাস্তবিক ভিত্তি থেকে ‘শিক্ষাকে জাতির মেরুদন্ড’ বলা হয়, কিন্তু তাকে দৃঢ় ও সোজা রাখতে এবং এই পেশার সাথে সম্পৃক্ত মানুষদের যথাযথ মর্যাদা ও সম্মানজনক জীবন যাপনের জন্য যা প্রয়োজন তা প্রদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। শিক্ষকরা শুধু বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার তাই নয়, মর্যাদার প্রশ্নেও তারা অন্যান্য পেশাজীবীগোষ্ঠীর তাচ্ছিল্য ও ঔদাসীন্যের শিকার। দীর্ঘদিন থেকে শিক্ষকদের বঞ্চিত রাখার যে সংস্কৃতি এ দেশে তৈরি হয়েছে একটি মহল তা বহাল রাখতে যেন মরিয়া, আর সেক্ষেত্রে রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের অবহেলা ও সমর্থন দুটোই রয়েছে। এই সরকারের পূর্ববর্তী সময়কালে শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর কথা আমরা শুনেছি, কিন্তু সেই শাসনকাল পার হয়ে গেছে, তারাই আছেন রাষ্ট্রক্ষমতায় কিন্তু তিনি এখন আর এ বিষয়ে কিছু বলেন না, কারণ ওই সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ও বিচার বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো চালু হয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৯ (১) ধারায় বলা আছে: ‘সমস্ত নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবেন।’ ১৯ (২) ধারায় উল্লেখ আছে: ‘মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করিবার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করিবার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধা দান নিশ্চিত করিবার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।’

সেক্ষেত্রে প্রশ্ন জাগে যে শিক্ষক হিসেবে নয়, নাগরিক হিসেবে তাদের মর্যাদা কোথায়? রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের উচ্চ থেকে নি¤œ পদমর্যাদার নবীন কর্মচারী অল্পদিনেই ন্যূনতম সুদে গৃহসম্পদের মালিক বনে যান আর একজন প্রবীণ অধ্যাপক সেই বাড়িতে ভাড়া থাকতে বাধ্য হন। শিক্ষকদের একথাও শুনতে হয়, ‘আপনারা এই পেশায় এসেছেন মর্যাদার জন্য, এতো অর্থভাবনা কেন?’ সেক্ষেত্রে প্রথমেই বলতে হয়, সম্পদ ও মর্যাদা পরস্পর সাংঘর্ষিক নয়। আর যদি মর্যাদার কথাই বলা হয়, তাহলে তাও এই পেশার মানুষদের তা প্রদান করা হয়নি। রাষ্ট্রের ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’-এ সামরিক বাহিনীর একজন মেজরের অবস্থান কোথায় তা উল্লেখ থাকলেও একজন অধ্যাপকের মর্যাদা কী তার উল্লেখ নেই। মর্যাদা প্রদানের এই একটি দৃষ্টান্তই বুঝিয়ে দেয় শিক্ষকদের প্রতি রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের দৃষ্টিভঙ্গি, তাদের মনঃস্তত্ত¡। অথচ বীর মহামতি আলেকজান্ডার তাঁর শিক্ষকের প্রতি এই বলে সম্মান জানিয়েছিলেন, ‘I am indebted to my father for living, but to my teacher for living well'(৬).

মানব সম্পদ উন্নয়নে শিক্ষক

খুব দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে হয়, একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো মানবসম্পদ। আর তা সৃষ্টি করে থাকেন শিক্ষকরা। এদেশের শিক্ষকরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে খুবই ন্যূনতম পেয়ে ঘাড় গুঁজে এই সম্পদ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন। চাকুরি মানে শুধু বেতন-ভাতা নয়। সাথে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও থাকতে হয়, যা চাকুরির অংশ। সেখানে শিক্ষকরা চরম বঞ্চনার শিকার। এমনকি একজন শিক্ষক অপমৃত্যুর শিকার হলে তার বিচার চেয়ে রাজপথে নামতে হয়, তারপরও সঠিক বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত হয় না। তদন্ত ঝিমিয়ে পড়তে পড়তে একসময় চাপা পড়ে যায়। বিচারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াও যেন এখানে পরিণতি লাভ করে না। এদেশের শিক্ষকসমাজ বঞ্চিত এক শ্রেণি যাদের মর্যাদাবান বলা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন এক চিত্র তুলে ধরছে। তারা সবরকমের বস্তুতান্ত্রিক বৈষম্যের সুষ্ঠু সমাধান যেমন প্রত্যাশা করেন তেমনি প্রাপ্য মর্যাদাও দাবি করেন, কারণ অন্যদের বুঝতে হবে যে কাউকে মর্যাদা দিলে অন্যের কম পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। সব সম্মান আমার একার প্রাপ্যÑএমন ভাবনা রাষ্ট্রের জন্য সুখকর নয়।

উপসংহার

‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ একটি দিবস শুধু নয়। সারাবিশ্বের শিক্ষক সমাজ একটি দিনে তাদের অবদান সম্পর্কে অন্যের মূল্যায়ন ও অভিব্যক্তি জানার পাশাপাশি নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হবেন এবং তা পালন করতে নতুন করে সংকল্পবদ্ধ হবেন। শিক্ষক দিবস শুধুমাত্র শিক্ষকদের দাবি আদায়ের জন্য নয়, শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকাই যে সবচেয়ে বেশি সে কথা মনে করে দেয়। শুধু শিক্ষকগণের নয়, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষা ক্ষেত্রের সব ধরনের সমস্যা ও অসামঞ্জস্যতা দূর করে একটা পরিকল্পিত শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। তা না হলে ২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের এসডিজি অর্জনও বাধাগ্রস্থ হবে। এ দিবস উদযাপনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী শিক্ষক সমাজ তাদের অধিকার সুরক্ষা ও দায়িত্ব পালনের প্রত্যয় ঘোষণা করে। সেই সাথে সফলভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক সম্মানিত ও স্বীকৃতি লাভ করবেন এ প্রত্যাশাটুকু করতেই পারেন। UNESCO-এর মতো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের পাশে থেকে সমর্থন জোগালে তারা লক্ষ্যে পৌঁছাবেন বলে বিশ্বাস করতে সাহস জাগে।

সহায়ক তথ্যপঞ্জী

১. ম. হাবিবুর রহমান (সম্পাদিত), শিক্ষাকোষ: উন্নয়নশিক্ষার ওপর গুরুত্বসহ, ঢাকা : এসডিসি, ৮ সেপ্টেম্বর ২০০৩, পৃ.৭২৩
২. বিশ্ব শিক্ষক দিবস : বিশিষ্টজনের অভিমত, ক্যাম্পাস, নভেম্বর ২০২১
৩. শিক্ষকদের জন্য আহবান, চাই মর্যাদা, অধিকার ও জবাবদিহিতা, স্বাক্ষরতা বুলেটিন, সংখ্যা-২৩৩, অক্টোবর ২০১৩, পৃ.২৬
৪. দৈনিক প্রথম আলো (ঢাকা), ৫ অক্টোবর ২০১৪
৫. বাংলাদেশ সংবিধান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ২০১২
৬. অধ্যক্ষ মুজম্মিল আলী, ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস ও বাংলাদেশের শিক্ষক সমাজ’ দৈনিক শিক্ষা (ঢাকা), ৫ অক্টোবর-২০২০

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ