• সোমবার ২০ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৬ ১৪৩১

  • || ১১ জ্বিলকদ ১৪৪৫

দৈনিক গোপালগঞ্জ

পবিত্র কোরআন বুঝতে আরবি শিখেছিলেন ব্রিটেনের রাজা চার্লস

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর ২০২২  

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর ইংল্যান্ডের রাজা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন তার ছেলে তৃতীয় চার্লস। প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানার সঙ্গে সম্পর্কের শুরু থেকেই এত বছর ধরে নানা সময়ে বিভিন্ন কারণে ছিলেন আলোচনায়।

জলবায়ু পরিবর্তন, রাজনীতিসহ নানা ইস্যুতে তার বক্তব্য বেশ গুরুত্ব পায় বিশ্বের বড় সব গণমাধ্যমে। এর বাইরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হচ্ছে, ইংল্যান্ডে বসবাসরত প্রায় ৪০ লাখ মুসলমানের সঙ্গে ‘চার্লস’-এর রয়েছে অন্যরকম সম্পর্ক । কিন্তু এর কারণ কী?

মধ্যযুগীয় ইসলামি শাসন এবং মুসলমানদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের ব্যাপারে অবগত থেকে সবসময় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এসেছেন রাজা চার্লস। তিনি মনে করেন, ইসলাম ইউরোপিয়ান ইতিহাসেরও একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। আধুনিক ইউরোপ গঠনে এর যথেষ্ট অবদান রয়েছে। তার বিশ্বাস, ইসলাম অতীত এবং বর্তমানে মানবজাতির সকল প্রকার উদ্যোগ এবং উন্নতির সঙ্গে ছিল, আছে এবং থাকবে।

ইংরেজ লেখক 'মার্টিন লিংস', যিনি পরবর্তী সময়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তার একনিষ্ঠ ভক্ত 'চার্লস'। মার্টিনের লেখা ইসলামের সবশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে জীবনীগ্রন্থের বেশ প্রশংসা করেছেন তিনি। আর এই লেখকের মাধ্যমেই চার্লস ইসলামের চেতনা এবং সুফিবাদের প্রতি আকৃষ্ট হন।

এদিকে ইসলাম ধর্মের প্রতি বর্তমান রাজা তৃতীয় চার্লসের দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে 'ক্যামব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদের' পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি পবিত্র কোরআন বোঝার জন্য আরবি ভাষা শিখেছেন। রাজপরিবার থেকে তিনিই প্রথম, যিনি স্রোতের বিপরীতে এসে এমন চেষ্টা করেছেন।

এদিকে যুক্তরাজ্যের মুসলিম কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল 'জারা মোহাম্মদ' এক বিবৃতিতে বলেছেন, রাজা তৃতীয় চার্লসই ইংল্যান্ডের মুসলিমদের বন্ধু। তিনি দেশের অসংখ্য মসজিদ পরিদর্শন করেছেন। এ ছাড়া চার্লস সবসময়ই ইংল্যান্ডে মুসলমানদের মঙ্গলের জন্য কাজ করেছেন। কাজ করেছেন ইসলামকে সুন্দরভাবে বুঝতে, সবার মাঝে সম্প্রীতি ধরে রাখতে।

বর্তমান রাজা চার্লস যুবরাজ থাকাকালীন ২০০৬ সালে মিসরের 'আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়' ভ্রমণ করেন। এ ছাড়া সে সময় ২০০৫ সালে প্রকাশিত মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে ব্যঙ্গ করে প্রকাশিত ডেনিশ কার্টুনের তুমুল সমালোচনা করেছিলেন এবং সবাইকে অন্যের ধর্মবিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এ বছর রমজান মাসের শুরুতে মুসলমানদের প্রতি দেয়া শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, রোজা পালনের রীতি থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। রমজান শুধু উদারতাই নয়, সংযম, কৃতজ্ঞতা ও একসঙ্গে নামাজ পড়া থেকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শিক্ষা দিয়ে থাকে। এ ছাড়া মুসলিমদের আতিথেয়তায় তার মুগ্ধতার কথা এবং রোজার মাসে তাদের দানশীল মনোভাব সবার জন্যই শিক্ষণীয় বলে জানান।

যুবরাজ থাকাকালীন মুসলিম বিশ্ব ও পশ্চিমা বিশ্বের বিরোধ মুছে দেয়ার পক্ষে কথা বলে এসেছেন ‘চার্লস’। তার মাঝে এসবের কোনো ভেদাভেদ নেই। তিনি ১৯৯৩ সালে 'অক্সফোর্ড সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজে' বক্তৃতা করেন, যা সে সময় বেশ আলোচিত হয়। তার বক্তব্য ছিল: ‘পশ্চিমা বিশ্বে ইসলাম নিয়ে অনেক ‘ভুল বোঝাবুঝি’ আছে। এ ছাড়া  বিশ্ব সংস্কৃতি ও সভ্যতায় ইসলামের অবদান সম্পর্কেও আমাদের অনেক অজ্ঞতা রয়েছে। এটি আমাদের একটি ব্যর্থতা, ইতিহাস থেকেই সরাসরি যা আমাদের চিন্তাধারায় এসেছে।'

এ ছাড়া ইসলামের ইতিহাস নিয়ে গবেষণারত ব্লগার 'পল উইলিয়ামস' জানান, ইংল্যান্ডের বর্তমান রাজা চার্লস মুসলিম না হলেও ইসলামের প্রতি আগে থেকেই তার সম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নানা ইতিবাচক মন্তব্যই প্রমাণ করে দেয় যে, ইংল্যান্ডের মুসলিম কমিউনিটির কাছে তিনি যোগ্য নেতা হিসেবে বিবেচিত হবেন।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ