• বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৫ ১৪৩১

  • || ১২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

দৈনিক গোপালগঞ্জ

আমি ভিক্ষা করি না, হালাল পথে কামাই করে খাই

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ৮ জুন ২০২৩  

‘আমি ভিক্ষা করি না, হালাল পথে কামাই করে খাই। হালাল পথে বাদাম বিক্রি করে মা-বাবারে নিয়ে খাই।’ এভাবেই  কথাগুলো বলছিলেন গোপালগঞ্জ শহরের পথে পথে বাদাম বিক্রি করা শারীরিক প্রতিবন্ধী ইয়াকিব শিকদার।  

এক হাত অচল তার। স্পষ্টভাবে কথাও বলতে পারে না। তবে শারীরিক এই প্রতিবন্ধকতা ইয়াকিবকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। জীবন যুদ্ধে মাথা উঁচু করে লড়াই করে যাচ্ছে সে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে একটু সুখে থাকার আশায় রোজ এক হাতে বাদাম নিয়ে গোপালগঞ্জ শহরের রাস্তায় ঘুরে বেড়ান বিক্রির আশায়। ইয়াকিব শিকদার বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার গাড়ফা গ্রামের ছিকু শিকদারের ছেলে। 

ইয়াকিবের সঙ্গে কথা হয়। এসময় তিনি জানান, ইয়াকিবের বাবা পেশায় একজন ভ্যানচালক। সারাদিন ভ্যান চালিয়ে তার যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তার বাবার। তিন ভাইয়ের মধ্যে ইয়াকিব বড়। পরিবারের সবাইকে একটু সচ্ছলতা দিতেই তার পথে পথে বাদাম বিক্রি করা। প্রায় ছয়মাস ধরে শহরের বিভিন্নস্থানে ঘুরে বাদাম বিক্রি করছে সে। সকালে পান্তা ভাত খেয়ে বের হয়, বাড়ি ফেরে বিকেলে। সারাদিনে সর্বোচ্চ দুইশ টাকা আয় করে সে, তবে তাতেই খুশি। শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও ভিক্ষা করতে রাজি নয় ইয়াকিব। তার ইচ্ছা হালাল পথে সৎ উপার্জন করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুখে থাকার। ইয়াকিবের এমন মানসিকতা স্বাভাবিক মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা বলে মনে করেন সচেতন মহল। 

ইয়াকিব বলেন, সকালে পান্তা আর পানি খেয়ে চলে আসি বাদাম নিয়ে। সারাদিন দুইশ টাকাও ইনকাম করতে পারি না। বেচা শেষ হলে বাসায় চলে যাই। তবে গরমে বাদাম খাইতে চায় না কেউ।  আমার আব্বা খুব কষ্ট করে কামাই করে। আব্বা যা কামাই করে তাতে সংসার চলে না। আমি বাদাম বেঁচে তারে সাহায্য করি। আমরা খুব কষ্ট করে কামাই করে খাই। বাদাম বিক্রি করার কিছু টাকা জমিয়ে একটি মুদি দোকান দেওয়ার ইচ্ছা আছে। 

গোপালগঞ্জ শহরের কলেজ মসজিদ রোডের প্রিয়াঙ্কা অফসেট প্রেসের মালিক পারভেজ বলেন, সারাদিন অসংখ্য ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেই। তাদের অধিকাংশই সুস্থ সবল। তারপরও তারা ভিক্ষা করে। সেখানে একজন প্রতিবন্ধী হয়েও সে বাদাম বিক্রি করছে। আমি তার কাজকে স্বাধুবাদ জানাই। সে কর্ম করে খাচ্ছে। যারা সবল হয়েও ভিক্ষা করে তাদের ইয়াকিবের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। 

জেলা শহরের চশমা ব্যবসায়ী রফিকুল বলেন, প্রতিদিন এই ছেলেটির কাছ থেকে আমি বাদাম কিনে খাই। ছেলেটি শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও ভিক্ষা না করে হালাল উপার্জন করে খাচ্ছে। সমাজে অনেক মানুষ আছে তারা সুস্থ সবল হওয়ার পরও ভিক্ষা করে খাচ্ছে। তাদের ইয়াকিব এর কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। 

এ বিষয়ে মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও খন্দকার রবিউল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। আমরা তাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহোযোগিতা করব। 

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ