• বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৬ ১৪৩১

  • || ১২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

দৈনিক গোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জে হচ্ছে টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ-ঘোনাপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়ক

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩  

গোপালগঞ্জ জেলায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে নতুন আঞ্চলিক মহাসড়ক।সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগ সড়কটি নির্মাণ করছে। নির্মাণাধীন এই সড়ক প্রকল্পের নাম টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ-ঘোনাপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প।

গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগ ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের নির্মাণ কাজ ২০২০ সালের ১ জুলাই শুররু করে। ইতিমধ্যে এই প্রকল্পের ৩৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।২০২৪ সালের ৩০ জুন এই সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

এই মহাসড়কের কাজ শেষ হলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের উপর যানবাহনের চাপ কমবে। এই আঞ্চলিক সড়কে বদৌলতে ঢাকার সাথে খুলনার দূরত্ব ২৫ কিলোমিটার কমবে। এতে যানবাহনের জ্বালানী খরচ সাশ্রয় হবে। এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারীদের সময় কম লাগবে।

গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ৮টি প্যাকেজে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। ৪৪ কিলোমিটর দীর্ঘ এই সড়কটি ১৮ ফিট থেকে ৩৪ ফিটে প্রশস্ত করা হচ্ছে। এই সড়কের জন্য প্রথম ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। এখন সড়ক বাঁধ প্রশস্তকরণ, ফ্লেকজিবল ডেভমেন্ট প্রশস্ত করণ/সার্ফেসিং, বাঁক সোজাকরণ, কালর্ভাট নির্মাণ, বাস-বে নির্মাণ, রিজিভ পেভমেন্ট নির্মাণ, ড্রেন নির্মাণ, আরসিসি প্যালাসাইডিং, রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, টোল-ওয়াল নির্মাণ, স্লোপ প্রটেকশন নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। সড়ক নির্মিত হওয়ার পর সড়কে সাইন সিগন্যাল, কিলোমিটার পোস্ট, রোডমার্কিং সহ অন্যান্য কাজ করা হবে। 

ওই কর্মকর্তা বলেন ইতিমধ্যে সড়কটির ৩৫ ভাগ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। দ্রুত গতিতে সড়ক নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যেই সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

অতিসম্প্রতি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. ইছাহাক নির্মাণাধীন টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ-ঘোনাপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন।
এ সময় প্রধান প্রকৌশলী মো. ইছাহাক এই আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের পরামর্শ প্রদান করেন। সেই সাথে রাস্তাটি  মানসম্মতভাবে নির্মাণের নির্দেশনা দেন তিনি।
বাস চালক ইদ্রিস আলী বলেন, এই সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হলে খুলনা থেকে পদ্মাসেতু হয়ে ঢাকার দূরত্ব ২৫ কিলোমিটার কমবে। এতে পণ্য পরিবহন ও যাতায়াতে জ্বালানী সাশ্রয় হবে। সময় কম লাগবে।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাড় ইউপি চেয়ারম্যান প্রবণ বিশ্বাস বাপী বলেন, ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক চালুর পর  টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ-ঘোনাপাড়া সড়কটিতে যানবাহন চলাচল কমে যায়। কারণ এই সড়কটি প্রশস্ত কম। যানবাহন চলাচলে সমস্যা হয়। এখন সড়কটি প্রশস্ত করা হচ্ছে। সড়কটি নির্মিত হলে এই সড়কে বরিশাল, খুলনা, মাদারীপুর, ঢাকা, ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলার মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন আরো সহজ হবে। এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত বাড়লে মানুষের খরচ ও সময় দুই বাঁচবে।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার করপাড়া গ্রামের কৃষক মান্নান ফকির বলেন, এই সড়ক দিয়ে কম খরচে পদ্মাসেতু হয়ে উৎপাদিত পণ্য ঢাকা পাঠাতে পারবো। আমরা পণ্যের ন্যয্যমূল্য পেয়ে লাভবান হবো ।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ